সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

সংস্কৃতি চর্চাই আমাদের বাঁচার পথ দেখাবে

সংস্কৃতি চর্চাই আমাদের বাঁচার পথ দেখাবে
ওয়াহিদুল হক ও কাইয়ুম চৌধুরী স্মরণ সভায় সন্জীদা খাতুন
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৯ মার্চ, ২০১৭ ইং ০০:৫১ মিঃ
সংস্কৃতি চর্চাই আমাদের বাঁচার পথ দেখাবে

সন্জীদা খাতুন বলেছেন, সংস্কৃতির পথে হাঁটা ছাড়া আমাদের উপায় নেই। সংস্কৃতি চর্চা আমাদের বাঁচার পথ তৈরি করে দেবে। সমাজে যে কুটিল ও জটিল বিষয় ছড়ানো হচ্ছে এসব থেকে সংস্কৃতি আমাদের বাঁচাবে। গতকাল ওয়াহিদুল হক ও কাইয়ুম চৌধুরী স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এ দুই ব্যক্তিত্বের কাছে বাঙালি সংস্কৃতি ঋণী। আমরা যদি তাদের ধারায় চলতে পারি তাহলে কোনো ভয় নেই।

ওয়াহিদুল হক প্রসঙ্গে সন্জীদা খাতুন বলেন, আমি ওয়াহিদুল হকের গুণগ্রাহী। তিনি সংসারবুদ্ধির মানুষ ছিলেন না। কল্পনাপ্রবণ ছিলেন। সেই কল্পনাকে রূপ দিতে সবসময় পারতেন না। তিনি ছায়ানট নিয়েও অনেক স্বপ্ন দেখতেন। এও জানতেন তা বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন না। বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আমার ওপরে নির্ভর করতেন। বলতেন, ‘মিনু এটা করতে পারবে।’ আমি ওয়াহিদুল হকের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে গেছি।

গতকাল শনিবার আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন ওয়াহিদুল হক ও কাইয়ুম চৌধুরীর জন্ম মাসে এই দুই কীর্তিমানকে স্মরণ করে ‘বন্ধু রহো   রহো সাথে’ শীর্ষক স্মরণ অনুষ্ঠানের। এতে আলোচনায় অংশ নেন সংস্কৃতিজন সৈয়দ হাসান ইমাম ও শিল্পী সমরজিত্ রায় চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন কণ্ঠশীলন সভাপতি সন্জীদা খাতুন।

সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, ওয়াহিদুল নিজের কথা ভাবতেন না। মানুষের কথা ভাবতেন। মানুষের জন্য স্বপ্ন দেখতেন। তার সাংগঠনিক ক্ষমতা ছিল অসাধারণ। মানুষ অজান্তে তার কাছে আসতো। তার কথা শুনতো। তাকে ভালোবাসতো।

সমরজিত্ রায় চৌধুরী বলেন, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী ছিলেন মার্জিত স্বভাবের মানুষ। সেই চরিত্র তার কাজে ছাপ ফেলেছে। অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব ছিল, ছিলেন কিংবদন্তিতুল্য শিল্পী। তার কাজের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মুদ্রণশিল্প বদলে গেছে।

শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসার কণ্ঠে ‘চির সখা হে ছেড়ো না’ এ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। কাইয়ুম চৌধুরী ও ওয়াহিদুল হককে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক লেখা পাঠ করেন মাসুমা জাহান ও ইভা মণ্ডল। এরপরে শিল্পী আবদুল ওয়াদুদ গেয়ে শোনান ‘মোর সন্ধ্যায় তুমি সুন্দর বেশে এসেছো’ ও ‘লহ লহ তুলে লহ নীরব বীণাখানি’। আবৃত্তি পরিবেশন করে বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যান্ড থিয়েটার একাডেমি ও কণ্ঠশীলন।

হাসান আরিফের আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘মুক্তিযুদ্ধ নিরন্তর‘

কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে দেশের কথা বললেন বাচিকশিল্পী হাসান আরিফ। দুই ঘণ্টার আবৃত্তিসন্ধ্যায় দর্শকদের মুগ্ধ করলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মুক্তিযুদ্ধ নিরন্তর’ শীর্ষক এ একক আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি)।

বৃষ্টিঝরা সন্ধ্যায় বিশ্বমানব ও নিজের জন্য প্রার্থনা দিয়ে আবৃত্তি শুরু করেন হাসান আরিফ। রবীন্দ্র-রচনা থেকে পাঠ করে শেষ করেন এ প্রার্থনা পর্ব। এরপর ছিলো ‘দেশ বন্দনা’। এ অধ্যায়ে শিল্পী পাঠ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নম নম বাংলাদেশ নম’, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘আমি বাংলায় গান গাই’ ও হুমায়ুন আজাদের ‘শুভেচ্ছা’ শিরোনামের কবিতাগুলো। পরের পর্বটির নাম ছিল ‘আত্মপরিচয়’। এ পর্বে শিল্পী নিজের অস্তিত্বকে  খুঁজে পাওয়া কিছু কবিতাপাঠ করেন। এগুলোর মধ্যে ছিলো তারাপদ রায়ের ‘একেকটা দিন’ ও ‘কয়েকটা দিন’, মীর মাসরুর জামানের ‘সূচিপত্র’ এবং নির্মলেন্দু গুণের ‘কোন কোন দিন প্রিয় হয়ে উঠে’।

‘বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়’ শিরেনামের পর্বের শুরুতেই পাঠ করেন কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের ‘আমার পরিচয়’। এরপর পাঠ করেন কবিতা সিংহের ‘মুজিব ভাই’, সাধু উন্মেষ দাশের ‘ইয়াহিয়া খানের তাণ্ডব নৃত্য’, আনিসুল হকের ‘মানুষ জাতভেদ’, সোহেল আনোয়ারের ‘এখনও একাত্তর’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘এক গাঁয়ে’, কাজী নজরুলের ‘আমি হবো সকাল বেলার পাখি’ ও আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘কোন এক মাকে’, মুস্তাফা আনোয়ারের ‘বৈশাখে রুদ্র জামা’, শুভ দাসগুপ্তের ‘রাত বেড়েছে’। নারী নির্যাতন বন্ধের দাবিতে শিল্পী পাঠ করেন ‘চিত্কার করো মেয়ে, দেখি কতদূর বলা যায়’।

উদীচীর গণসংগীত প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্ব সম্পন্ন

আগামী ২৮ মার্চ থেকে উদীচীর আয়োজনে শুরু হচ্ছে ‘অষ্টম সত্যেন সেন গণসংগীত উত্সব ও জাতীয় গণসংগীত প্রতিযোগিতা। এ উপলক্ষে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতার ঢাকা বিভাগীয় পর্ব। শিল্পকলা একাডেমির সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে শুরু হয় বিভিন্ন বিভাগের প্রতিযোগিতা।

গণগ্রন্থাগারে চারুনীড়ম

কাহিনিচিত্র উত্সব

‘এক ঘণ্টার কাহিনিচিত্র বেঁচে থাকুক যুগ যুগ ধরে’ প্রতিপাদ্যে চারুনীড়ম ইনস্টিটিউটের অয়োজনে শনিবার থেকে শুরু হলো চারুনীড়ম টেলিভিশন কাহিনিচিত্র উত্সব? বিকালে রাজধানীর সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের  শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে ছয় দিনের এ উত্সব উদ্বোধন করেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যাভিনেতা আমিরুল হক চৌধুরী ও চলচ্চিত্রকার মোরশেদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন চারুনীড়ম ইনস্টিটিউটের পরিচালক গাজী রাকায়েত।

আজ রবিবার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে চারটি করে এক ঘণ্টার নাটক প্রদর্শিত হবে উত্সবে? আগামী ২৩ মার্চ শেষ হবে উত্সব।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৭ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৬
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪২
এশা৮:০৫
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৭