সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

চর্যাগীতি থেকে টপ্পা

চর্যাগীতি থেকে টপ্পা
জাতীয় নাট্যশালায় হাজার বছরের বাংলা গানের আসর, সুরের ভেলায় ভাসলেন শ্রোতারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ জুলাই, ২০১৭ ইং ০০:০৪ মিঃ
চর্যাগীতি থেকে টপ্পা

বাংলা গানের বিবর্তনের ধারা গানে গানে উপস্থাপন করলেন শিল্পীরা। চর্যাগীতি থেকে শুরু করে নিধুবাবুর বাংলা টপ্পা হয়ে আধুনিক বাংলা গানে এসে শেষ হয়েছে এই সুরের যাত্রা। নতুন এ আয়োজন আনন্দ দিয়েছে শ্রোতা-দর্শকদের।

শিল্পকলা একাডেমি আর সরকারি সঙ্গীত কলেজের যৌথ আয়োজনে গতকাল শনিবার একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে বসে ‘হাজার বছরের বাংলা গান’ শিরোনামে দারুণ এই আয়োজন। তিন ঘন্টার সুরের ভেলায় ভেসে বেড়ান মিলনায়তন ভরা শ্রোতারা।

আয়োজনের শুরুতেই ছিলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব। যাতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান। একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী’র সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কৃষ্টি হেফাজ।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরুতেই ছিলো চর্যাগীতি ‘আ হাইয়া হা হা শ্রী মহা মঞ্জুশ্রী’। যার সঙ্গে ছিলো শিল্পকলা একাডেমির নৃত্যদলের পরিবেশনায় নৃত্য। এর পর পরিবেশিত হয় আরেকটি চর্যাগান ‘উঁচা উঁচা পর্বত; এরপরে ছিলো নাথগীতি ‘হে গোরক্ষ নাথ প্রভু’। এ গানের সুর থামতেই রাগসঙ্গীতের আলাপ, সঙ্গে নৃত্য। শ্রীকৃষ্ণ কীর্তন থেকে গীত হয় ‘নৌকা বিলাস          খন্ড’। এর পর শুরু হয় বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পুঁথি ও কাব্য সাহিত্যের পরিবেশনা। শুরুতেই মহাকবি আলাওলের ‘পদ্মাবতী’র সিংহল দ্বীপ বর্ণন খন্ডের পুঁথিপাঠ। এর পর ছিলো বৈষ্ণব পদাবলী ও কীর্তন। এর পর মঙ্গলকাব্য থেকে গীত হয় মঙ্গলগান। ‘মনসামঙ্গল’ থেকে দেবী মনসার বন্দনা উচ্চারিত হয় ‘বন্দিগো মনসাদেবী’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিয়ে। পরিবেশিত হয় রামপ্রসাদী গান ‘মন রে কৃষি কাজ জানোনা’। এরপর শুরু হয় লোকসঙ্গীতের পালা। ছিলো ময়মনসিংহ গীতিকার গান আর কবিয়ালদের কথোপকথনের লড়াই। এর পর গীত হয় নিধুবাবুর বাংলা টপ্পা ‘সে কেনরে করে অপ্রণয়’। এর পর ছিলো দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্রক্ষ্মসঙ্গীত থেকে দেহ জ্ঞান ও দিব্য জ্ঞানের পরিবেশনা। এর পর পরিবেশিত হয় দুটি নাট্যগীতি ‘চাঁদ তুমি আকাশে থাকো’ ও ‘কালো যদি মন্দ তবে’। এরপর ছিল সিলেট অঞ্চলের বিয়ের গান, যা ধামাইল নামে পরিচিত; ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাওগো’ এই গানের সঙ্গে ছিলো নৃত্যও।

শিক্ষার্থীদের ক্যামেরায় দেশ: নানা বর্ণের মানুষ আর প্রকৃতির ছোঁয়া কিংবা মানুষের যাপিত জীবন; বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্র্যাজুয়েটদের উল্লাস, খোলা মাঠে শিশুদের উচ্ছ্বলতা- ফ্রেমে ফ্রেমে এ সব কিছুই ধরা পড়েছে শিক্ষার্থীদের ক্যামেরায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফটোগ্রাফিক সোসাইটি (ডিইউপিএস) ও শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে গতকাল শনিবার থেকে শুরু হয়েছে চতুর্থ আলোকচিত্র উত্সব। বিকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় ৬ নং গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এর আগে উত্সবের অংশ হিসেবে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক টিএসসিতে উত্সবের র্যালির উদ্বোধন করেন।

উত্সবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকচিত্রী, ফ্রিল্যান্স, পেশাদার আলোকচিত্রীদের তোলা ১১১টি আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। ৩১ জুলাই উত্সবের সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুনকে ডিইউপিএসের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে। প্রদর্শনীতে তার সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ ৮টি আলোকচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ফটোগ্রাফি ক্লাব প্রেজেন্টেশন, মিট দ্য জাজ সেশন ও আর্টিস্ট টক। আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই প্রদর্শনী।

চারুকণ্ঠের আবৃত্তিসন্ধ্যা: গতকাল সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো চারুকণ্ঠ আবৃত্তি সংসদের আয়োজনে ত্রৈমাসিক আবৃত্তিসন্ধ্যা ‘বিনম্র রোদের ছায়া’। কবি আহসান হাবীবের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর কবিতা নিয়ে চারুকণ্ঠের আবৃত্তিশিল্পীদের পাশাপাশি অন্য তিনটি আবৃত্তি সংগঠনের তিনজন আবৃত্তিশিল্পী আবৃত্তি পরিবেশন করেন। চারুকণ্ঠের এই আয়োজনে অতিথি ছিলেন কবিপুত্র মঈনুল আহসান সাবের ও কবি তুষার দাশ।

শেষ হলো ‘পাঠাভিনয় উত্সব’:লোক নাট্যদলের আয়োজনে শেষ হলো দুই দিনের ‘পাঠাভিনয় উত্সব’। একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে এ আয়োজনে ১৬টি নাট্যদলের ১৬ নাটকের নির্বাচিত অংশ পাঠ করেন থিয়েটার অঙ্গনের প্রবীণ ও নবীন শিল্পীরা। উত্সবের দ্বিতীয়দিনে গতকাল পাঠাভিনয় শুরু হয় সন্ধ্যা ৭টায়। দ্বিতীয় দিনে যে নাটকগুলোর অংশ পাঠ করা হয় তার মধ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ‘হ্যামলেট’, থিয়েটারের ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, সময়ের ‘শেষ সংলাপ’, নাট্যচক্রের ‘মৃত্যুক্ষুধা’, ঢাকা পদাতিকের ‘কথা ৭১’, নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের ‘ওপেন কাপ্ল’ উল্লেখযোগ্য।

সেমন্তী মঞ্জরীর গানের এলবাম প্রকাশ: উপলক্ষটা ছিল এলবাম প্রকাশনার, কিন্তু মানুষ এসেছিল সেমন্তী মঞ্জুরীর গান শুনতে। তরুণ শিল্পীর কণ্ঠের জাদুর টানে শ্রোতা-দর্শকরা ভরিয়ে তুলেছিল ছায়ানটের মূল মিলনায়তন। এলবাম প্রকাশনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেমন্তীর গান প্রাণ ভরিয়ে দেয় শ্রোতা-দর্শকদের। ছাত্রজীবন শেষ না হতেই শিক্ষক জীবনে পা দেন তরুণ কণ্ঠশিল্পী সেমন্তী মঞ্জরী। তার গানের শিখন এবং শিক্ষণ উভয়ই ছায়ানটে। তার প্রথম অ্যালবাম ‘রাঙিয়ে দিয়ে যাও’ প্রকাশিত হয় তিন বছর আগে।

গতকাল শনিবার শিল্পী সেমন্তী মঞ্জরীর দ্বিতীয় একক রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম ‘দেখো রে চিত্তকমলে’র প্রকাশনা অনুষ্ঠান হলো। বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত অ্যালবামটির মোড়ক উন্মোচন করেন ছায়ানট সভাপতি ড. সন্জীদা খাতুন। সঞ্চালনা করেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী।

‘সেমন্তী মনোযোগী ছাত্রী। গানের প্রতি তার নিষ্ঠা আমাকে খুব আনন্দ দেয়’ — শিল্পীর খুব প্রশংসা করলেও এলবামের সঙ্গীতায়োজন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুন। তিনি বলেন, রেকর্ড শুনে সুরের ও বাণীর মিল খুঁজে পাইনি। বাদ্যযন্ত্রের শব্দে সেমন্তীর এত সুন্দর করে গাওয়া গান হারিয়ে গেছে। কলকাতার এসব যন্ত্রাণুষঙ্গ নয় ‘যন্ত্রণার অনুষঙ্গ’ তে পরিণত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী মিতা হক। মোড়ক উন্মোচন পর্ব শেষে সেমন্তী মঞ্জরী গেয়ে শোনান তার প্রিয় বেশ কিছু গান। এর আগে সেমন্তী বলেন, প্রথম অ্যালবাম বের হয় তখন কণ্ঠ কিছুটা কাঁচা ছিল। এর মাঝে গায়কিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। তাছাড়া ছায়ানটে শিক্ষকতা করছেন পাঁচ বছর ধরে। সে কারণেও গানের সঙ্গে বোঝাপড়া আগের থেকে ভালো হচ্ছে। দ্বিতীয় অ্যালবাম করতে গিয়ে সেই উপলব্ধি হয়েছে।

মোট আটটি গান দিয়ে অ্যালবামটি সাজানো হয়েছে। গানগুলো হলো—আমি যখন তাঁর দুয়ারে, বাহির পথে বিবাগী হিয়া, আমি তারেই খুঁজে বেড়াই, লুকিয়ে আস আঁধার রাতে, বিমল আনন্দে জাগো রে, দুঃখ যদি না পাবে তো, কার মিলন চাও বিরহী  ও আপনারে দিয়ে রচিলি রে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫