সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

বহ্নিশিখার যুগপূর্তি

বহ্নিশিখার যুগপূর্তি
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ জুলাই, ২০১৭ ইং ০২:০৭ মিঃ
বহ্নিশিখার যুগপূর্তি

এক যুগ পেরিয়ে এলো বহ্নিশিখা। গতকাল গানে গানে এই স্মরণীয় পথচলাকে উদযাপন করলেন শিল্পীরা। বিভিন্ন ধারার গান গেয়ে শোনান শিল্পীরা। রবীন্দ্র, নজরুল যেমন ছিল তেমনি ছিল লালন, হাছন, শাহ আব্দুল করিম, আরকুম শাহের গান। এর বাইরেও গণসংগীতও গেয়ে শোনান শিল্পীরা। ছিল সিলেটের ধামাইল, বীরভূমের ঝুমুর, শিলচরের লোকসংগীত আর অসমীয়া ভাষার গান। সব মিলিয়ে চমত্কার ছিল এ আয়োজন।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় এ আয়োজন বসে রাজধানীর কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে। এতে একমাত্র বক্তা হিসেবে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং বহ্নিশিখার সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

সব গানই ছিল সম্মেলক কণ্ঠে। ২৪টি গান পরিবেশিত হয়। শুরুতেই ছিল বর্ষার গান। সবগুলো কণ্ঠ এক হয়ে গেয়ে শোনায় নজরুলের ‘মেঘের ডম্বরে ঘন বাজে’। এরপর তাদের কণ্ঠে শোনা যায় আবু হেনা মোস্তফা কামালের ভাষার গান ‘অপমানে তুমি জ্বলে উঠেছিলে’। এরপর আব্দুল লতিফের ‘সোনা সোনা সোনা লোকে বলে সোনা’, গৌরি প্রসন্ন মজুমদারের ‘আমরা বাঙালি’। এরপর রবীন্দ্রনাথের ‘তুমি রবে নিরবে’, হাছন রাজার ‘বাউলা কে বানাইলো রে’ ও শাহ আব্দুল করিমের ‘গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান’ গেয়ে শোনান শিল্পীরা। এরপর নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে ভূপেন হাজারিকার ‘জিন্দাবাদ ম্যান্ডেলা, ম্যান্ডেলা জিন্দাবাদ’ গানটি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। ফকির লালন শাহের ‘এসব দেখি কানার হাটবাজার’, গিরীন চক্রবর্তীর ‘নাও ছাড়িয়া দে’ ও শ্যামাপ্রসাদ ভদ্রের ‘জারুলের ফুলে দলে দলে’ গানগুলো পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এরপর ছিল বীরভূমের ঝুমুর গান- ‘কালো জলে কুচলা তলে ডুবল সনাতন’। এরপর ওস্তাদ মমতাজ আলী খানের ‘এই তো আষাঢ় মাসে নাগেরি গর্জন’, আরকুম শাহের ‘সোনার বান্ধাইলা নাও’, কাজী নজরুলের ‘আমি আপনার চেয়ে আপন যে জন’, রজনীকান্তের ‘মায়ের দেয়া মোটা কাপড়’ ও ভূপেন হাজারিকার ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’। এ গান থামতেই আসামের সুরে ভেসে বেড়াল মিলনায়তনে। সবগুলো কণ্ঠ হয়ে গেয়ে শোনায় অসমীয়া চলচ্চিত্র ‘অরণ্য’র ‘শিলে শিলে ঠেকা খালে’। এরপর সদ্য প্রয়াত লোকসংগীত শিল্পী কালিকাপ্রসাদের ‘‘আমি তোমারই তোমারই তোমারই নাম গাই’ গানটি পরিবেশিত হয়। শীতা লং ফকিরের ‘সুয়া উড়িল উড়িল জীবের জীবন’ গানের পরে পরিবেশিত হয় গোলাম কুদ্দুছের  ‘সোনা ঝরা সেই দিনের কথা’, জালাল খাঁর ‘রসিক আমার মন বান্ধিয়া’ ও সলিল চৌধুরীর ‘আজ যত যুদ্ধবাজ’ গানগুলো। রজনীকান্ত সেনের ‘তুমি নির্মল কর মঙ্গল করে’ গানটি পরিবেশনার মধ্যদিয়ে শেষ হয় এ আয়োজন।

বহ্নিশিখার পক্ষে অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন আবিদা রহমান সেতু, উর্মি হালদার, সাহিদা রহমান সুরভী, সুনায়না সিদ্দিক, ঝর্ণা বিশ্বাস, গীতা পালমা, জান্নাতুল ফেরদৌস পিংকী, সালাহ্্উদ্দীন সোহাগ, সোহাগ চন্দ্র শিমুল, আসিফ ইকবাল সৌরভ, অমিতেশ দাস অমি, বিপ্লব কুমার শীল ও জাহেদুল ইসলাম মুরাদ।

জাদুঘরে ‘লিজেন্ড অফ দ্য লুম’র প্রদর্শনী

দৃক-বেঙ্গল মসলিন প্রকল্পের ব্যানারে, জাতীয় জাদুঘর এবং আড়ং- এর সহযোগিতায় ২০১৬’র ফেব্রুয়ারিতে মাসজুড়ে আয়োজিত হয় ‘মসলিন উত্সব’। এর অংশ হিসেবে গেল দেড় বছর ধরে প্রদর্শনী, মসলিনের ইতিহাস-বৃত্তান্ত বিষয়ক সেমিনার, আহসান মঞ্জিলে ‘মসলিন নাইট’, ‘মসলিন. আওয়ার স্টোরি’ শিরোনামে বই প্রকাশনা, ‘মসলিনের দেশে’ শিরোনামে শিশু-কিশোরদের জন্য বাংলা এবং ইংরেজি কমিক বই প্রকাশনা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নির্মিত হলো তথ্যচিত্র ‘লিজেন্ড অফ দ্য লুম’। যার উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল।

জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী  আসাদুজ্জামান নূর। আরও বক্তব্য রাখেন জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী এবং ‘মসলিন. আওয়ার স্টোরি’র লেখক এবং দৃক-এর প্রধান নির্বাহী  সাইফুল ইসলাম।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা মসলিনের নমুনা সংগ্রহ করার কাজ করছি।  বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিন্ন নামে মসলিন তৈরি করছে। কিন্তু এটা আমাদের পণ্য। তাও এই ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকার। মসলিনকে ফিরিয়ে আনতে আমাদের সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে। এর আগে জাদুঘরে মসলিন প্রদর্শনীর পর বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে এ বিষয়ে প্রদর্শনী করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সবখানে না পারলেও দুই-একটি জাদুঘরে মসলিন প্রদর্শনীর আয়োজন করার চেষ্টা করবো।’

‘লিজেন্ড অফ দ্য লুম’ (তাঁতের কিংবদন্তি)-এর দৈর্ঘ্য ৪৩ মিনিট। ইংরেজি ভাষায় নির্মিত তথ্যচিত্রটির গবেষণায় ছিলেন সাইফুল ইসলাম, প্রযোজনা করেছে দৃক বেঙ্গল মসলিন, পরিচালনায় ছিল টিনাইনএফএক্স এবং ধারাবর্ণনা দিয়েছেন মিতা রহমান। মসলিনের দুই হাজার বছরের ইতিহাস; বাংলাদেশের নদীর তীর, যেখানে কার্পাস তুলার চাষ হত; সেখান থেকে বিশ্বের সবচেয়ে নামি কাপড়ের উত্পাদন প্রক্রিয়া; বিশ্ব ফ্যাশন এবং বাণিজ্যে এর প্রভাব এবং এর বর্তমান অবস্থা উঠে আসে এই তথ্যচিত্রে।

তথ্যচিত্রটি পর্যায়ক্রমে ঢাকার আরও বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে প্রদর্শিত হবে এবং শিগগিরই এর একটি বাংলা সংস্করণও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় এর আয়োজকরা।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১১
যোহর১১:৫৩
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৪
সূর্যোদয় - ৬:৩২সূর্যাস্ত - ০৫:১২