সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোত্সব

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোত্সব
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৪৫ মিঃ
প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো দুর্গোত্সব

‘মা তুমি আবার এসো’... ভক্তকণ্ঠের এ আকুতির ভেতর দিয়ে বিদায় নিলেন দুর্গা। উত্সব, আনন্দের বর্ণিল দেবীপক্ষ শেষে কৈলাশে ফিরে গেছেন দুর্গতি নাশিনী, মহামায়া জগজ্জননী দেবী। শেষ হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোত্সবের শেষ দিনে গতকাল মণ্ডপে মণ্ডপে দশমীর বিহিত পূজার মধ্য দিয়ে ঘটে সমাপ্তি। অতঃপর দেবীর বিসর্জন আর শান্তিজল গ্রহণ।

গত মঙ্গলবার ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা উমাদেবীর আগমন ঘটে মর্ত্যে। হিন্দু বিশ্বাসে-টানা পাঁচদিন মৃন্ময়ীরূপে মণ্ডপে মণ্ডপে থেকে ফিরে গেছেন কৈলাসে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। এবার নৌকায় আসা দেবী ফিরেছেন ঘোটকে। আবার শুরু দিন গোনা। বিসর্জনের বিষাদের মধ্যেই শারদীয় উত্সবকে ফিরে পাওয়ার আর্তি। কিন্তু চাইলেই তো ফিরে আসে না সে, অপেক্ষা বছরভর। ২০১৮ সালের দুর্গাপূজা কিন্তু বেশ দেরিতে, অক্টোবরে।

রাজধানীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিজয়া শোভাযাত্রা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। গতকাল সকাল ৯.৫৮ মিনিটে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দর্পণ বিসর্জন হয়। এর আগে দেবী দুর্গার রাতুল চরণে সিঁদুর প্রদানের মাধ্যমে আর্শীবাদ গ্রহণ করেন হিন্দু রমনীরা। স্বামীর সংসারে তারা যেন পুরো বছর সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন এ কামনায় একে অপরের কপালে ও সিঁথিতে সিঁদুর প্রদান করেন।

সারাদেশে ৩০ হাজারের বেশি মণ্ডপের দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। মণ্ডপে মণ্ডপে নামে ভক্তদের ঢল। ঢাক আর শঙ্খধ্বনি। ঢাকের বাদ্য, সিঁদুর খেলা। একদিকে বিদায়ের সুর। অন্যদিকে উত্সবের আমেজ। ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতী বাজার, শাঁখারী বাজার, স্বামীবাগসহ বিভিন্ন মণ্ডপে চলে বিষাদে-আনন্দে বিদায় উত্সব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অসুর শক্তি বিনাশকারী দেবী বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী থেকে সকল অপশক্তির বিনাশ হয়। বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা নিরঞ্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়িয়ে যেতেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ থেকে ভক্তরা ট্রাক ও ঠেলাগাড়িতে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে।

মন্দির ও শোভাযাত্রার যাত্রাপথে বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছিল র্যাব সদস্যদেরও। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শতাধিক প্রতিমা নিয়ে বের হয় বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রা। ট্রাকবাহী প্রতিমাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর পায়ে হেঁটে এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে করে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। বিচিত্র সাজপোশাকে সজ্জিত হয়ে ভক্তরা ঢাক-ঢোল, করতাল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রসহ শোভাযাত্রায় যোগ দেন। রাস্তার দুপাশে দাঁড়ানো হিন্দু নারীদের উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে চারদিক। পলাশী-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে নবাবপুর রোড, সদরঘাট পেরিয়ে ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা তীরে শেষ হয় শোভাযাত্রা। বীণা স্মৃতি স্নান ঘাটে প্রতিমা নিয়ে আসার পর ভক্তকুল শেষবারের মতো ধুপধুনো নিয়ে আরতিতে মেতে ওঠেন। শেষে পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের মধ্যদিয়ে দেবীকে নৌকায় তুলে বিসর্জন দেওয়া হয়। নদীপাড়ে ধর্মীয় রীতি মেনে অপরাজিতা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। শেষে আনা হয় শান্তি জল।

এবার দেশে সবচেয়ে বড় পূজার আয়োজন ছিল বাগেরহাটের শিকদার বাড়িতে। ঢাকা শহরের ঢাকেশ্বরী মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারী বাজার, বাংলাবাজার জমিদার বাড়ি পূজামণ্ডপসহ বনানী, বসুন্ধরা, কলাবাগানসহ নানা এলাকায় ছিল পূজার আয়োজন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩