সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

নগরে নবান্ন উত্সব

নগরে নবান্ন উত্সব
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৪৭ মিঃ
নগরে নবান্ন উত্সব

নতুন ধানের মৌ মৌ গন্ধ না থাকুক, না পাওয়া যাক সোনারঙা শস্যের দেখা- তারপরও রাজধানীবাসীর মনে লেগেছিল নবান্নের আনন্দ। নবান্ন হচ্ছে গ্রাম-বাংলায় নতুন ফসল ওঠার উত্সব। কৃষকের ঘরে ঘরে নতুন ফসল ওঠাকে কেন্দ্র করে এই আনন্দ আয়োজন শুরু হয়। গতকাল ছিল পহেলা অগ্রহায়ণ। বাংলার কৃষকের ঘরে শুরু হয়েছে নতুন ফসল ওঠার ধুম। সেই আনন্দের রেশ ছড়িয়ে পড়ে শহরবাসীর মনেও। রঙিন সাজে সেজে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় নবান্ন উত্সবে মেতে ওঠে নগরবাসী।

ভোরে জাতীয় নবান্নোত্সব উদযাপন পর্ষদ আয়োজন করে বিশতম এ উত্সবের। হিম হিম হেমন্তের সকালে মেয়েরা গায়ে হলুদ শাড়ি, খোঁপায় গাঁদা ফুলের মালা আর ছেলেরা গায়ে হলুদ পাঞ্জাবি জড়িয়ে রাঙিয়ে তুলেছিল উত্সব। নাচ-গান, নবান্ন কথনের পাশাপাশি ছিল মুড়ি, মুড়কি, বাতাসা, পিঠা-পুলি দিয়ে আপ্যায়ন।

গাজী আবদুল হাকিমের বাঁশিতে লোকজ গানের সুরে শুরু হয় এবারের নবান্নোত্সব। উত্সবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। ‘নবান্ন কথন’ পর্বে তার সঙ্গে অংশ নেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জাতীয় নবান্নোত্সব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি লায়লা হাসান, উত্সবের পৃষ্ঠপোষক ল্যাব এইড ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. এ এম শামীম প্রমুখ।

অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এই নবান্ন উত্সব একটি উদার, সর্বজনীন ও অসামপ্রদায়িক উত্সব। গ্রামীণ সমপ্রদায়ের মানুষের এই উত্সব গণমানুষের উত্সব, খেটে খাওয়া মানুষের উত্সব। গোলাম কুদ্দুছ বলেন, তরুণদের শেকড়ে ফেরাতে হলে আমাদের এই গ্রামীণ উপাদানগুলো নগরে আরো বেশি করে তুলে ধরতে হবে। লায়লা হাসান বলেন, শেকড়ের উত্সবে আমরা লোকজ সংস্কৃতি উপস্থাপনের পাশাপাশি এই অস্থির সময়ে বাঙালিকে আমরা সমপ্রীতির বন্ধনে বাঁধতে চাই।

উত্সবের সাংস্কৃতিক পর্বের শুরুতে ছিল সমবেত নৃত্য পরিবেশনা। নৃত্য পরিবেশন করে নটরাজ,  নৃত্যজন, নৃত্যম, কাদামাটি ও স্পন্দন। সম্মেলক গান পর্বে  ‘কাটি ধান কাটি ধান আয় রে’ গান পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, ‘মাঠে মাঠে সোনালী ধান’ পরিবেশন করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী এবং সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী পরিবেশন করে ‘আবার জমবে মেলা বটতলা হাট’ গানটি। একক গান পরিবেশন করেন ফরিদা পারভীন, শাহীন সামাদ, শামা রহমান প্রমুখ। আবৃত্তি করেন শিমুল মুস্তাফা ও নায়লা তারান্নুম কাকলী। শেষে গারোদের নবান্ন উত্সব ‘ওয়ানগালা’র নৃত্য পরিবেশন করে আচিকের শিল্পীরা।

পরে চারুকলা অনুষদ থেকে বিভিন্ন লোকজ অনুষঙ্গ নিয়ে এক শোভাযাত্রা বের করে নবান্নোত্সব উদযাপন পর্ষদ। শোভাযাত্রাটি টিএসসি মোড় ঘুরে আবার চারুকলায় এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে চারুকলার বকুলতলায় চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে শুরু হয় নবান্নের আর্ট ক্যাম্প।

বিকালেও ছিল নবান্নোত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। এতে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তির পাশাপাশি ছিল মানিকগঞ্জের চানমিয়ার দলের লাঠি খেলা, নড়াইলের নিখিল চন্দ্রের দলের পটগান, নেত্রকোণার দিলু বয়াতি ও তার দলের মহুয়ার পালা ও  খুলনার ধামাইল গান।

চারুকলার বকুলতলা ছাড়াও ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ছিল নবান্নোত্সবের নানা আনুষ্ঠানিকতা।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০২
এশা৭:১৫
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৭