সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

শিল্পী হাশেম খানের বিশেষ প্রদর্শনী জোড়াতালি

শিল্পী হাশেম খানের বিশেষ প্রদর্শনী জোড়াতালি
জনতার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি আন্দোলন করেছেন :তোফায়েল
ইত্তেফাক রিপোর্ট০৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং ০৯:২৫ মিঃ
শিল্পী হাশেম খানের বিশেষ প্রদর্শনী জোড়াতালি
 
বহুমাত্রিক চিত্রশিল্পী হাশেম খান। শিল্পকলার এমন কোনো মাধ্যম নেই যা নিয়ে তিনি কাজ করেননি। হাশেম খান আশ্চর্য সব ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। ভাস্কর্যের প্যাশন দিয়ে নিজকে বদলে দিয়েছেন, সেই বদলের গভীরতা থেকে নিজকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়েছেন। তার ভিন্ন ধারার এই প্রদর্শনীটি স্বাভাবিক রং ক্যানভাসের পরিবর্তে, কোলাজ মাধ্যমে কাঠকে প্রধান্য দিয়ে কিছু জোড়াতালির কাঠচিত্র ভাস্কর্য ও অন্যান্য শিল্প সম্ভার তৈরি করে উপস্থাপন করেছেন।
 
গতকাল শুক্রবার বিকালে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে কীর্তিমান চিত্রশিল্পী হাশেম খানের প্রদশর্নীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা শিল্পীকে নিয়ে এসব কথা বলেন। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রদশর্নী সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর নামকারণ করা হয়েছে ‘জোড়াতালির চালচিত্র’। প্রদর্শনীর আয়োজন করে জাতীয় জাদুঘর।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ ও ষাটের দশকের গণআন্দোলনে এবং ‘৬৯ গণঅভ্যুত্থানের  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগের যেসব আন্দোলন হয়েছিল, সে সময় থেকেই শিল্পী হাশেম খানকে চিনি। চারুকলার শিক্ষক, সরকারি চাকরি-এসবকে তোয়াক্কা না করে স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি এক সক্রিয় শিল্পী। আমাদের পোস্টার করে দিয়েছেন, ছবি এঁকে দিচ্ছেন, দাবিগুলোর ফেস্টুন করে দিচ্ছেন এবং একই সাথে বিদ্রোহী জনতার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম-আন্দোলন করছেন। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সংবিধান জাতিকে উপহার দিলেন, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে হাশেম খান সংবিধান গ্রন্থটিকে অলংকৃত করে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। হাশেম খান ৭ই মার্চের ভাষণ, ৬ দফা এবং আমাদের জয় বাংলা’ তার সৃষ্টিশীল চিত্রকলায় বিবৃত করেছেন। তিনি বহুমাত্রিক একজন শিল্পী। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে তার যে প্রদর্শনীটি উদ্বোধন হয়েছে, এটি একটি ভিন্ন ধারার শিল্পকর্ম। স্বাভাবিক রং ক্যানভাসের পরিবর্তে তিনি কোলাজ মাধ্যমে কাঠকে প্রধান করে কিছু জোড়াতালির কাঠচিত্র ভাস্কর্য ও অন্যান্য শিল্প সম্ভার আমাদের মাঝে উপস্থাপন করেছেন।
 
সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শিল্পী হাশেম খান এমন একজন শিল্পী যাকে আমরা পেয়েছি চারুকলার শিক্ষক হিসেবে, বাংলাদেশের প্রকাশনা জগতের বইয়ের অলংকরণে, বিশেষ করে শিশুদের পাঠ্য বইয়ের জন্য ছবি আঁকার একজন পারদর্শী ও নিষ্ঠাবান শিল্পী হিসেবে। তিনি একের পর এক জাদুঘর তৈরি করছেন, শিশু সংগঠন কচি-কাঁচার মেলাকে আন্দোলন করে শিশুদের দেশপ্রেমিক হওয়ার সাহস যুগিয়েছেন। শিশু চিত্রকলাকে এ দেশে প্রতিষ্ঠিত করার বিষয়ে প্রধান শিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।
 
অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, শিল্পকলার এমন কোনো মাধ্যম নেই যা নিয়ে হাশেম খান কাজ করেননি। ডিগ্রি  তার মৃিশল্পে অথচ পরিচিতি চিত্রশিল্পী হিসেবে। কাজ করেছেন ছাপচিত্র, ম্যুরাল ও ভাস্কর্য নিয়েও। এখন আমাদের সামনে নিয়ে এলেন দীর্ঘ দুইবছর মূলত কাঠ ও নানা ধাতুর মিশ্রণে তৈরি ভাস্কর্য।
 
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লাতিফ চৌধুরী বলেন, দেশজ শিল্প থেকে সার-বস্তু সংগ্রহ করে আমাদের আধুনিক শিল্পচর্চা ইতিহাসের নানা কালখণ্ডে বিশেষ গতি পেয়েছে। শিল্পী হাশেম খান এ পরম্পরার মধ্য দিয়েই আধুনিকতার তত্ত্ব-তালাশ করে ফিরছেন শিল্পী জীবনের সূচনাপর্ব থেকে।
 
আরো উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, শিল্পী রফিকুন নবী প্রমুখ। সভা প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ জুলাই, ২০১৮ ইং
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬