সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

‘আসুন মানুষের জন্য কাজ করি’

‘আসুন মানুষের জন্য কাজ করি’
৮৫তম জন্মবার্ষিকীতে সংগীত সাধক সন্জীদা খাতুনকে বাংলা একাডেমির সংবর্ধনা
আসিফুর রহমান সাগর০৪ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ০২:০৯ মিঃ
‘আসুন মানুষের জন্য কাজ করি’

সন্জীদা খাতুন গান ধরলেন, ‘না বাঁচাবে আমায় যদি মারবে কেন তবে/ কিসের তরে এই আয়োজন/

এমন কলরবে না বাঁচাবে আমায় যদি মারবে কেন তবে’/

এর আগে জন্মদিনের অনুভূতি জানাতে এসে সন্জীদা খাতুন বললেন, ‘জীবন আমাদের কাছে একটা যুদ্ধ। এই যে জন্মদিন, এর মানে আরেকটা বছর বেঁচে যাওয়া। নতুন করে আরো কিছু সংগ্রামের মুখোমুখি হওয়া। আমার জীবন নিয়ে যে বই লিখেছি তার নাম দিয়েছি ‘সহজ কঠিন দ্বন্দ্বে ছন্দে’। এখন আমাদের পদে পদে যে মার খেতে হয় জীবনের কাছে এর পেছনেও অন্য কথা আছে। সেই মার আমাদের অনুভব করিয়ে দেয় জীবনকে। জীবনকে জাগিয়ে তোলে। এই মারই আমাকে জীবন চিনতে শেখায়। জীবনটা এই মারেরই ফল। সবাই ভালো থাকুন। আসুন সবাই আমরা মানুষের জন্য কাজ করি।’ পঁচাশিতম জন্মদিনের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে বলছিলেন সন্জীদা খাতুন।

সংস্কৃতিসাধক সন্জীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার। এ উপলক্ষে আগের দিনেই গতকাল মঙ্গলবার বিকালে বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছিল নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। গানে কথায় ফুলেল শুভেচ্ছা আর হূদয়ের ভালোবাসায় সিক্ত হন সন্জীদা খাতুন।

সন্জীদা খাতুন আরো বললেন, আজ আমাকে যেভাবে ভালোবাসা জানানো হয়েছে এতে আমার জীবন ধন্য হয়েছে। আমি জানি কারো সম্পর্কে বলতে গেলে একটু বেশি করে বলতে হয়। কেউ কেউ একটু বেশি বলেছেন, এটা হজম করে নেব। তবে একটু লজ্জাবোধ করি। আমি এখন আর গাইয়ে নই। পঁচাশি বছর বয়সে গান হয় না। তবে গেয়ে বসি। আমাকে পছন্দ করে বলে সবাই মেনে নেয়।

বাংলাদেশের অহংকার তিনি। শুধুই কী বাংলাদেশের? প্রতিটি বাঙালিরও কী নয়! বাঙালিত্বের বোধকে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার, আপন সংস্কৃতির শক্তিতে বিকশিত করার প্রেরণা জুগিয়ে চলেছেন সারা জীবন ধরে। তাঁর চলায়, বলায়—অশিক্ষা, কূপমণ্ডূকতা দূর করে মানুষের মনে শিক্ষা ও সংস্কৃতির বাতিঘর জ্বালাতে নিরন্তর সাধনা করে চলেছেন। তিনি সন্জীদা খাতুন।

একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফুলেল মঞ্চে আসন নেন সন্জীদা খাতুন। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ইমেরিটাস রফিকুল ইসলাম, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সৈয়দ হাসান ইমাম, প্রাবন্ধিক মফিদুল হক, অধ্যাপক বেগম আকতার কামাল, সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, পরিবারের পক্ষে সন্জীদা খাতুনের নাতনি সায়ন্তনী তিশা প্রমুখ।

শংসা বচন পাঠ করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রফেসর ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান।

এর আগে অনুষ্ঠান শুরু হয় রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। পাপিয়া সারোয়ার গেয়ে শোনান, ‘দাও হে হূদয় ভরে দাও’। ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি। অদিতি মহসীন গান ধরলেন, ‘জগতে আনন্দ যজ্ঞে আমার নিমন্ত্রণ ধন্য হলো ধন্য হলো মানবজীবন’। লাইসা আহমেদ লিসা গেয়ে শোনান ‘কে বসিলে আজি হূদয় আসনে’।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, মুষ্টিমেয় যে কজন মানুষ সংস্কৃতি চর্চাকে নিজের সত্তার মধ্যে অবিচ্ছেদ্য করে নিয়েছেন সন্জীদা খাতুন তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি প্রতিকূল অবস্থায় যুদ্ধ করে আমাদের সংগ্রামে ভূমিকা পালন করেছেন। তার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। শ্রদ্ধা ভালোবাসায় এ ঋণ শোধ করতে চাই।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, সন্জীদা খাতুন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার নেতৃত্ব অক্ষুণ্ন রাখুন। তার নেতৃত্বে সমাজে এই যে জঙ্গিবাদ ও বাধা-বিপত্তি আসছে। তা থেকে যেন দেশকে রক্ষা করতে পারি এ প্রত্যাশা জানাই। সন্জীদা খাতুন দীর্ঘজীবী হোন।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সন্জীদা খাতুন সারাজীবন ধরে শুধু গান শেখাচ্ছেন না, তিনি মানুষ তৈরি করছেন। বর্তমানে এ ধরনের মানুষ কমে গেছে। আজকে আমরা সংস্কৃতির যে উচ্চতায় দাঁড়িয়ে আছি সেই জায়গাটা তাঁর তৈরি করে দেওয়া।

শামসুজ্জামান খান বলেন, সন্জীদা খাতুন শুধু রবীন্দ্রনাথকে নন নজরুল, জসীমউদ্দীনসহ বাঙালি সংস্কৃতিকে অবলম্বন করেই জাতীয় জাগরণের জন্য কাজ করে চলেছেন। সৈয়দ হাসান ইমাম বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সন্জীদা খাতুন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন দীর্ঘসময় ধরে হয়েছে। এ আন্দোলনের একনিষ্ঠ সংগ্রামী ব্যক্তিত্ব ছিলেন সন্জীদা খাতুন। মফিদুল হক বলেন, অসাধারণ বহুমাত্রিক, বহুব্যাপ্ত ব্যক্তিত্ব। উপমহাদেশের অনন্য শিল্পী যিনি গানের গভীরে যেতে পারেন, সমাজ সংস্কৃতিকে বিশ্লেষণ করেছেন। তাকে কোনো একক অভিধায় আখ্যায়িত করা যায় না। রামেন্দু মজুমদার বলেন, সুস্থ সংস্কৃতির চর্চায় সন্জীদা খাতুনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কিছু মানুষ জীবদ্দশায় কর্মের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানে পরিণত হন, সন্জীদা খাতুন তাদের একজন।

তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের পক্ষে অসীম কুমার উকিল, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. বিশ্বজিত্ ঘোষ, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক, কবি রুবী রহমান, নূহ উল আলম লেনিন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম ও সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, কবি তারিক সুজাত, কবি কাজী রোজী, আমিনুর রহমান সুলতান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, শিল্পকলা একাডেমি, ইন্দ্র মোহন রাজবংশী, বুলবুল মহলানবীশ প্রমুখ।

এদিকে, আজ বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ছায়ানট ভবনে সন্জীদা খাতুনের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অুনষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২