সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

শুভ হালখাতা

শুভ হালখাতা
মোহাম্মদ আসাদ১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ০৮:৫৩ মিঃ
শুভ হালখাতা
হালখাতা বাংলার সব অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের উত্সব। সারাবছর বাকিতে ব্যবসার টাকা এই দিনে আদায় করা হয়। বাংলা বছরের প্রথম দিন এই উত্সবের আয়োজন করা হয়। পুরনো টালি খাতার সব হিসাব শেষ করে নতুন বছরে ব্যবসা শুরু করা হয় নতুন করে। একসময় এই আয়োজন করা হতো উত্সাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে। উত্সবের ১০/১২ দিন আগেই শুরু হতো দাওয়াত দেয়ার কাজ। বাকিতে মালপত্র নেয়া ক্রেতাদেরকে কেউ দাওয়াত দিত মুখে, কেউ আবার সুন্দর কার্ড ছাপিয়ে। মুসলিম ব্যবসায়ীরা উত্সবের শুরু করত মিলাদ পড়িয়ে। আর হিন্দু ব্যবসায়ীরা পূজা শেষ করে বসতো খাতা নিয়ে। দিনভর আসত বাকিতে নেয়া ক্রেতারা। পাওনা টাকা পরিশোধ করে মিষ্টি খেয়ে বাড়ি ফিরত। এখন হালখাতা উত্সব আর আগের মতো দেখা যায় না দেশজুড়ে। সারাবছর ব্যাংকে লেনদেনের কারণে এই উত্সবে ভাটা পড়েছে অনেক এলাকায়। নানা রকম লেনদেনের পরও এই উত্সবটির বড় আয়োজন দেখা যায় চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও পুরান ঢাকায়। পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার, শাঁখারিবাজারে হালখাতা উত্সবের আয়োজন করা হয় দোকানে দোকানে। আগে থেকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা দোকানে এসে বসে নতুন জামা-কাপড় পরে। বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে মিষ্টির দোকানগুলো। পুরান ঢাকার তাঁতিবাজারে হালখাতার উত্সবের আমেজটা একটু বেশি চোখে পড়ে। স্বর্ণব্যবসায়ীরা টাকা পরিশোধের তাগিদ না দিয়ে দেন হালখাতার দাওয়াত। বছরের প্রথম দিনে দাওয়াত পেলে সবাই বুঝে নেন—এটা বাকি টাকা পরিশোধের তাগিদ।
 
হিন্দু ধর্মাবলম্বী স্বর্ণব্যসায়ীরা বছরের প্রথম দিন গণেশ পূজার মাধ্যমে এই খাতার শুভসূচনা করেন। পূজার শুভক্ষণ অনুযায়ী ঢাকের বাদ্য আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ঘট, আমের পল্লব, বেল পাতা, নারকেল ও ফুল দিয়ে পূজা শেষে লাল মলাটের নতুন খাতা খোলা হয়। লম্বা এই খাতটির শুরুতে লেখা হয় ‘ঔঁ’ শব্দটি। তারপর গণেশ থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট পাঁচ দেবতার নাম। তার নিচে ধাতব মুদ্রায় সিঁদুর মেখে পাঁচটি চিহ্ন দেওয়া হয়। অনেকে খাতার ভেতর একটি টাকা পুরে রাখেন। তারপর মিষ্টি খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। এখন এই উত্সব শুধু বাকি টাকা আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সারা বছর যেসব ক্রেতা লেনদেন করেছেন সবাইকেই দাওয়াত দেওয়া হয় এই দিনে। পাঠানো হয় সুদৃশ্য শুভেচ্ছা কার্ড। ফোনেও আহ্বান করা হয় উত্সবে যোগ দেয়ার জন্য। নতুন বছরে মিষ্টি মুখ করিয়ে আকৃষ্ট করা হয় নতুন অলঙ্কার কিনতে। অনেকে এই উত্সবের মিষ্টির স্বাদ নেয়ার জন্য এখানে ছুটে আসেন দূরদূরান্ত থেকে। সুন্দর এই ব্যবসায়ী উত্সব দেখতে ছুটে আসেন তাঁতিবাজারে। মিষ্টিমুখ করানো বাদ যায় না দেখতে আশা মানুষেরও।
 
বাংলা পঞ্জিকা আর হিন্দুধর্মীয় পঞ্জিকায় একদিন পার্থক্য থাকার কারণে এই উত্সব একটু গোলমেলে হয়। তাঁতিবাজারে এবার হালখাতা উত্সব হবে ১৫ এপ্রিল।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০