সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

রবীন্দ্র গবেষণায় অবদানে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন আতিউর রহমান

রবীন্দ্র গবেষণায় অবদানে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন আতিউর রহমান
অনলাইন ডেস্ক০৭ মে, ২০১৮ ইং ১৯:২৩ মিঃ
রবীন্দ্র গবেষণায় অবদানে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন আতিউর রহমান
ইগলু-চ্যানেল আই রবীন্দ্রমেলা-২০১৮ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট রবীন্দ্র গবেষক ড. আতিউর রহমান। রবীন্দ্র গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি। ইত্তেফাক অনলাইনকে এ তথ্য জানিয়েছেন আয়োজকরা।
 
মঙ্গলবার (৮ মে) চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে ১৩ তম রবীন্দ্র মেলা। সোমবার দুপুরে চ্যানেল আই ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন- বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত শাইখ সিরাজ, বাংলাদেশ রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি শিল্পী তপন মাহমুদ, মেলার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ইগলুর সিইও জিএম কামরুল হাসান, চ্যানেল আই অনুষ্ঠান বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আমিরুল ইসলাম, রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী লিলি ইসলাম, আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান প্রমুখ।
 
সংবাদ সম্মেলনের পর আজ সোমবার দুপুরে জানানো হয় ১৩ তম রবীন্দ্রমেলায় এবার আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন ড. আতিউর রহমান।
 
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮ তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত মেলা চলাকালীন এবার আতিউর রহমানের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে বলে জানান আয়োজকরা। আজীবন সম্মাননার ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট আর উত্তরীয় তুলে দেওয়া হবে।
 
অতীতে এ সম্মাননা পেয়েছেন কলিম শরাফী, ড. আনিসুজ্জামান, অজিত রায়, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, আতাউর রহমান, ফাহমিদা খাতুন, সাদী মহম্মদ, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং তপন মাহমুদের মতো গুণী ব্যক্তিত্বরা।
 
মেলার বিস্তারিত জানিয়ে ইগলু-চ্যানেল আই রবীন্দ্রমেলার সংবাদ সম্মেলনে শাইখ সিরাজ বলেন, ৮ মে চ্যানেল আইয়ের চেতনা চত্বরে ১৩ তম রবীন্দ্র মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এদিন বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গান-ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে। এবারের মেলায় শিশুদের অংশগ্রহণ বেশি থাকবে। রবীন্দ্রনাথ সংশ্লিষ্ট সংগঠন সুরের ধারা, সুর লহরী, সুরতীর্থ, উত্তরায়ণ মেলায় অংশ নেবে বলেও জানান শাইখ সিরাজ। এদিন সকাল থেকে রবীন্দ্রনাথ কেন্দ্রিক বিশেষ গানে গানে সকাল, বিশেষ তৃতীয় মাত্রা, নাটক ও সিনেমা থাকবে চ্যানেল আইয়ের পর্দায়।
 
জীবন বৃত্তান্ত: বাংলাদেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান ১৯৮৩ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি করে স্বদেশেই থেকে যান। সর্বক্ষণ ব্যস্ত রয়েছেন ব্যতিক্রমী গবেষণায়, গণমাধ্যমে ও জনবিতর্কে, সাধারণের ভাষায় লেখালেখিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রহমান বর্তমানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন সমন্বয়ের সভাপতি। এক সময় জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। দীর্ঘ সাত বছর ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যতিক্রমী ও উদ্যমী গভর্নর।
 
বিআইডিএস-এর একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন গবেষক ড. আতিউর রহমানের অসংখ্য বই প্রকাশিত হয়েছে দেশি-বিদেশি নামকরা প্রকাশনা সংস্থা থেকে। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- নিশিদিন ভরসা রাখিস: বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি সংলগ্ন ভাবনা; শেখ মুজিব বাংলাদেশের আরেক নাম; ভাষা-আন্দোলনের আর্থসামাজিক পটভূমি; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তিনটি বই: মুক্তি যুদ্ধের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন; মুক্তিযুদ্ধ জনযুদ্ধ: আর্থসামাজিক পরিপ্রেক্ষিত ও অসহযোগের দিনগুলি: মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব। 
 
এছাড়াও অর্থনীতি-সমাজ ও রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক ৫টি বই- (১) রবীন্দ্র-অমর্ত্য ভাবনা (ইউপিএল); (২) রবীন্দ্র ভাবনায় সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতি (অ্যাডর্ন পাবলিকেশন); (৩) রবীন্দ্রনাথের আর্থ-সামাজিক ভাবনা (সন্ধানী প্রকাশনী); (৪) তব ভুবনে তব ভবনে (অন্য প্রকাশ); (৫) রবীন্দ্র চিন্তায় দারিদ্র ও প্রগতি (উৎস প্রকাশন); (৬) Education for Development; Tagore’s Thoughts on Peasantry  (পাঠক সমাবেশ)।
 
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তিনি রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা ও কৃষি ভাবনার বিষয়ে কানাডার ইউবিসি, বিশ্বভারতি, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি জন-বক্তৃতা (পাবলিক লেকচার) দেন।
 
উন্নয়ন আলাপ; জনগণের বাজেট; উন্নয়ন কার জন্য; স্বপ্নের বাংলাদেশ খুঁজে ফেরা; বঙ্গবন্ধু সহজপাঠ; বুনে গেলাম আশার স্বপন: গভর্নরের দিনলিপি; Peasants and Classes; Inclusive Finance and Sustainable Development; Towards an inclusive Green Bangladesh ইত্যাদি। 
 
সব মিলে ষাটেরও বেশি গ্রন্থের লেখক ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশের আর্থিক খাতের উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় শেলটেক পুরস্কার, ২০১০; মানবিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক ‘ইন্দিরা গান্ধী স্বর্ণ স্মারক, ২০১১’  পান। এছাড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ অবদানের জন্য ফিলিপাইনের গুসিপিস প্রাইজ ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গুসি শান্তি পুরস্কার-২০১৪’ এবং ‘পুওরম্যান’স ইকোনমিস্ট’ খেতাবে ভূষিত করে। অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক দায়বদ্ধ কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং পরিচালনার জন্য ২০১৫ সালে ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’- এর ‘ব্যাংকার’ সাময়িকী তাঁকে এশিয়ার শ্রেষ্ঠ গভর্নর এবং ‘ইউরোমানি’র সাময়িকী ‘ইমার্জিং মার্কেটস’ এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ গভর্নর নির্বাচিত করে। 
 
‘বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশীপ-২০১২’ প্রাপ্ত ড. আতিউর রহমানকে তাঁর সৃজনশীল লেখালেখির জন্য ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৫’ প্রদান করা হয়।
 
ইত্তেফাক/এমআই
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪