সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

শৈশবেই শিশুদের মনোজগৎ খুলে দিতে হবে: জ্যোৎস্নালিপি

শৈশবেই শিশুদের মনোজগৎ খুলে দিতে হবে: জ্যোৎস্নালিপি
অনলাইন ডেস্ক১২ মে, ২০১৮ ইং ২১:৩৭ মিঃ
শৈশবেই শিশুদের মনোজগৎ খুলে দিতে হবে: জ্যোৎস্নালিপি
জ্যোৎস্নালিপি একাধারে সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং তথ্যচিত্র নির্মাতা। এখন কাজ করছেন বাংলাদেশ প্রেস ইন্সটিটিউট (পিআইবি)-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে। শিশুদের জন্য গল্প লিখে ইতোমধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ‘মা দিবস’ উপলক্ষে ১৩ মে রাত ৯টায় মেহেদী হাসান স্বাধীন ও ফাহিমা চৈতির প্রযোজনায় দুরন্ত টিভির ‘গল্প শেষে ঘুমের দেশে’ ধারাবাহিকে শিশুরা শুনবে তার জনপ্রিয় শিশুতোষ গল্প ‘মা’। এসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
 
প্রশ্ন: শিশুদের জন্য কেন লিখেন?
জ্যোৎস্নালিপি: প্রথমত, শিশুদের জন্য লিখতে ভালো লাগে, আর এই লেখার ভেতর দিয়েই আমি আমার শৈশবকে খুঁজে পাই। দ্বিতীয়ত, শিশুসাহিত্যের পরিসর অনেক বড় হলেও শিশুদের উপযোগী লেখা তুলনামূলক কম। মূলত, শিশু মনস্তত্ত্বের সমন্বয় খোঁজার প্রয়াস থেকেই শিশুদের জন্য লিখি।
 
প্রশ্ন: শৈশব থেকেই শিশুদের কীভাবে গল্পশোনা বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তোলা যায়?
জ্যোৎস্নালিপি: শৈশবটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা সময়। কারণ শিশুর বিকাশের জন্য তার পরিবার, পারিপার্শ্বিক অবস্থান, বই এবং বিভিন্ন ভাষার গল্প তাকে একজন মানবিক মানুষ করে গড়ে তুলতে পারে। মা-বাবা তাদেরকে গল্প শোনাতে পারে এবং সে যখন বই পড়তে শিখবে, তখন তার উপযোগী গল্পের বই তাকে পড়তে দিতে হবে। এ কাজটা পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে স্কুলকেও করতে হবে। সেখানে তাকে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়েও উৎসাহিত করতে হবে। শিশুমন তো কমল, বলা চলে কাদামাটির মতো। সুতরাং শৈশবেই তাকে ছাঁচে ঢেলে যা খুশি তাই তৈরি করা সম্ভব। 
 
প্রশ্ন: দুরন্ত টিভির সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?
জ্যোৎস্নালিপি: আমার শিশুতোষ গল্প নিয়মিতই কোন না কোন জাতীয় দৈনিকের শিশুসাহিত্য পাতায় ছাপা হয়, সম্ভবত সেগুলো পড়েই দুরন্ত টিভির প্রযোজক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে গল্প চায়। আমি কয়েকটি গল্প পাঠালে তারা আমার ‘মা’ ও ‘রাখাল ছেলে সাত পরি’ গল্প দুটি ‘গল্প শেষে ঘুমের দেশে’ অনুষ্ঠানের জন্য মনোনীত করে।
 
প্রশ্ন: আপনার ‘মা’ গল্পটি থেকে শিশুরা কী ম্যাসেজ পাবে?
জ্যোৎস্নালিপি: মায়ের ভালোবাসার কোন জাত নেই পরিমাপও নেই, মায়ের ভালোবাসা সকল প্রাণীর মধ্যে একই ভাবে বিরাজমান। মায়ের ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা ‘মা’ গল্পটি থেকে মানবিক হওয়ার ম্যাসেজটিও পাবে।
 
প্রশ্ন: লেখালেখির শুরু কীভাবে? এ পর্যন্ত আপনার কয়টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে?
জ্যোৎস্নালিপি: আমি শৈশবে সুযোগ পেলেই বড়দের কাছে গল্প শুনতাম আর বই পড়তাম। কিছু একটা মনে হলেই গল্পের মতো করে লিখে ফেলতাম। আর সেজন্যই পরিকল্পনা করেই সাহিত্য নিয়ে পড়েছি এবং ছোটগল্প নিয়ে ডক্টরেট করেছি। আমার ৯টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
 
প্রশ্ন: আগামী বইমেলার পরিকল্পনা কী?
জ্যোৎস্নালিপি: এখন পর্যন্ত ২টি শিশুতোষ, ১টি কিশোর এবং ১টি ছোটগল্প গ্রন্থেও প্রকাশের পরিকল্পনা আছে।
 
প্রশ্ন: আপনার নির্মিত তথ্যচিত্রগুলো সম্পর্কে জানতে চাই?
জ্যোৎস্নালিপি: আমার নির্মিত ৪টি তথ্যচিত্রের মধ্যে সিডর নিয়ে ‘ঘূর্ণায়মান জলচ্ছবি চাকা অথবা প্রেতচ্ছায়া’, মানতা সম্প্রদায়ের যাপিত জীবন নিয়ে ‘জলজীবন’ বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে ‘কিশলয়কথা’ এবং শ্রমজীবী শিশুদের নিয়ে ‘পাথরে কুসুম’। এর মধ্যে  ‘ঘূর্ণায়মান জলচ্ছবি চাকা অথবা প্রেতচ্ছায়া’ ও ‘জলজীবন’ আরটিভিতে প্রচারিত এবং বিভিন্ন জায়গায় প্রদর্শনী হয়েছে। 
 
প্রশ্ন: দুরন্ত টিভি সম্পর্কে কিছু বলুন?
জ্যোৎস্নালিপি: শিশুদের মনস্তত্ত্ব বিকাশে দুরন্ত টিভি খুবই ভালো ভূমিকা রাখছে। আমাদের দেশে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ব্যাপক বিকাশ হলে শিশুদের জন্য আলাদা করে টিভি চ্যানেলের কথা কেউ ভাবেনি। সেখানে বিদেশি চ্যানেলের ভীরে দুরন্ত টিভি তাদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। শিশুরা বাংলাভাষায় তাদের উপযোগী অনুষ্ঠান দেখতে পারছে। 
 
ইত্তেফাক/সেতু
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬