সংস্কৃতি | The Daily Ittefaq

‘নজরুলকে বৈশ্বিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে’

‘নজরুলকে বৈশ্বিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে’
ইত্তেফাক রিপোর্ট৩১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০২:৫২ মিঃ
‘নজরুলকে বৈশ্বিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার সময় এসেছে’

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমি কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বাগত ভাষণ  দেন বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। ‘নজরুলকাব্যে মিথিক-ঐতিহ্যিক প্রতিমা : ফিরে দেখা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সাহিত্যসৃষ্টির পরিসর পর্যন্ত নজরুল বিরল এক অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্বের নাম। আমাদের দুর্ভাগ্য তার মতো অনন্য প্রতিভাকে এখনো আমরা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি। এখন সময় এসেছে সব ধরনের সংকীর্ণতামুক্ত হয়ে নজরুলকে তার যথার্থ বৈশ্বিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা।

অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সমন্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বার্থক উত্তরাধিকার। ‘প্রলয়োল্লাস’ এবং ‘বিদ্রোহী’তে তিনি যে নিপুণভাবে ঐতিহ্য ও মিথের ব্যবহার করেছেন তা সত্যি বিস্ময়কর। ইসলামী ঐতিহ্য, হিন্দু এবং গ্রিক মিথের স্বচ্ছন্দ ব্যবহারের সমান্তরালে নজরুল-কাব্যে খ্রিস্ট ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যেরও গভীর প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। তার কাব্যে ও অন্যান্য রচনায় মিথের ব্যবহার কোনো খণ্ডিত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে না বরং সামগ্রিকভাবে বিশ্ব মানবমঙ্গলের আহ্বান ধ্বনিত করে।  সাংস্কৃতিক পর্বে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মো. রফিকুল ইসলাম। নজরুল সংগীত  পরিবেশন করেন শিল্পী ডালিয়া নওশীন এবং মাকসুদুর রহমান মোহিত খান।

অন্যদিকে শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক পেলেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও ফেরদৌসী মজুমদার। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে যারা কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের সম্মান জানাতে দেওয়া হয় শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক। গতকাল ছিল এই সুরস ষ্টার প্রয়াণ দিবস। ১৯৭১ সালের ৩০ আগস্ট ছিল এই মহান সংগীত স ষ্টা অন্তর্ধান হন। তার স্মরণে গতকাল সন্ধ্যায় শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক প্রদান করা হয়।

শিল্পকলার সংগীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে ছিল শহীদ আলতাফ মাহমুদ পদক প্রদান ও আলোচনা অনুষ্ঠান। শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউণ্ডেশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাট্যজন আলী যাকের। সভাপতিত্ব করেন শহীদ আলতাফ মাহমুদের স্ত্রী সারা আরা মাহমুদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ, অভিনেত্রী শিমূল ইউসুফ, নৃত্যশিল্পী মিনু হক প্রমুখ।

আলতাফ মাহমুদ এদেশের সংগীত আকাশের এক ধ্রুবতারা। একুশের অমর গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানের সুরকার তিনি। অসংখ্য সংগ্রামী ও বাঙালির চেতনাবাহী গান সৃষ্টি করেছেন তিনি; কিন্তু এসকল সৃষ্টির জন্য তাকে পাশবিক অত্যাচার করে পাকিস্তানি হানাদাররা হত্যা করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে উদীচীর শিল্পীরা পরিবেশন করেন আলতাফ মাহমুদের গান। দুই গুণী শিল্পী সৈয়দ হাসান ইমাম ও ফেরদৌসী মজুমদারের হাতে সম্মাননা পদক তুলে দেন আলী যাকের। এ ছাড়াও দেওয়া হয় ফুল, উত্তরীয় ও পদকের মূল্য দশ হাজার টাকা। আলতাফ মাহমুদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২০০৫ সালে গঠিত হয় শহীদ আলতাফ মাহমুদ ফাউণ্ডেশন। এ পর্যন্ত দেশের ১৯ জন গুণীকে এ পদক দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১