ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫
২৫ °সে

আমার সমালোচকের অভাব নেই: মৃণাল হক

আমার সমালোচকের অভাব নেই: মৃণাল হক
সেলিব্রেটি গ্যালারিতে মেসির ভাস্কর্য। ইনসেটে মৃণাল হক। ছবি: ইত্তেফাক

বাংলাদেশের ভাস্কর মৃণাল হক ফাইবার গ্লাসের আশ্রয়ে বিশ্ববিখ্যাত কবি, রাষ্ট্রনায়ক থেকে নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা ও ফুটবলারের প্রতিকৃতি নির্মাণ করেছেন। সে সব ভাস্কর্য নিয়ে সাজানো হয়েছে 'সেলিব্রেটি গ্যালারি'। ৩৭টি ভাস্কর্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও প্রথমদিকে প্রদর্শিত হচ্ছে ৩২জন ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি। এটির ভাস্কর্যগুলো নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। সম্প্রতি গ্যালারিটি নিয়ে তিনি মুখোমুখি হয়েছেন ভিন্নচোখের। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন নুরুল করিম

বাংলাদেশে এমন গ্যালারি এই প্রথম। উদ্যোগটি নেওয়ার পরিকল্পনা কিভাবে মাথায় এলো? দেশে মোজাইক পেন্টিং, টাইলস নিয়ে শিল্পকর্ম এগুলো আমি শুরু করেছিলাম। আমি আমার ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে আমার দেশ, সংস্কৃতিকে তুলে ধরছি। সবাইকে বোঝাতে চেষ্টা করছি এগুলো ভাস্কর্য, মূর্তি নয়। আমাদের দেশের মানুষ বাইরে গিয়ে তারকাদের ভাস্কর্য জাদুঘরে ছবি তোলে, সময় কাটায়। আমি সেরকম একটা কাজ দেশেই করতে চেয়েছি। তবে আমি এটাকে জাদুঘর নয়, গ্যালারি হিসেবে নামকরণ করেছি।

কেমন সাড়া পাচ্ছেন? খুব বেশি মানুষ এখনো এই গ্যালারি সম্পর্কে জানেন না। আমি ওভাবে প্রচারও করতে পারিনি। যারা এখানে এসেছেন বেশিরভাগ মানুষই নিজ থেকে এটির প্রচার করছেন। এভাবে ছড়িয়ে যাচ্ছে খবর। অল্প সময়েই দর্শনার্থীদের যে সাড়া পেয়েছি তাতে আমি অভিভূত। আশা করছি আমার অন্যান্য শিল্পকর্মের মতোই ‘সেলিব্রেটি গ্যালারি’ দেশের মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করবে। তবে এখানে যে ভাস্কর্যগুলো স্থান পেয়েছে সবগুলো মোমের নয়, ফাইবার গ্লাসেরও রয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে এই গ্যালারি জনপ্রিয় হওয়ার কোনো সুযোগ রয়েছে কি-না? প্রত্যেক দেশেই এমন মিউজিয়াম রয়েছে। লন্ডনে রয়েছে, ভারতে রয়েছে, অনেক দেশেই রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে নেই বলেই এটা করা। প্রায় ৭-৮ মাস সময় ব্যয় করে আমি এটা করেছি, যাতে দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ হয়।

বিখ্যাত ব্যক্তিদের ভাস্কর্য করার তালিকা করার ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়টি খেয়াল করেছিলেন? সারাবিশ্বের জনপ্রিয় মানুষগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে যাদের নিয়ে আলোচনা বা কথাবার্তা বেশি হয় তাদেরকেই আমি নির্বাচন করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ড্রোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ যাদের কথা প্রতিদিন বলছে, শুনছে তাদের নিয়েই তালিকাটা করেছি। এরমধ্যে অনেকেই পরামর্শ দিয়ে তাদের কথাও শুনেছি। এখন তো ৩২টি ভাস্কর্য প্রদর্শিত হচ্ছে। আরো অনেক ভাস্কর্য নির্মাণাধীন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের ভাস্কর্যসহ আরো ৪০টির বেশি ভাস্কর্য গ্যালারিতে যোগ হবে এক এক করে।

বিনামূল্যে প্রদর্শনের সুযোগটি আর কতদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে? এটার আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা। যে বাড়িতে সেলিব্রেটি গ্যালারি করেছি সেটার প্রতিমাসের ভাড়া ৪ লাখ টাকা। এই ভাস্কর্যগুলো করতে আমার ১ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে। আমি দিনে এনে দিনে খাই, আমার পক্ষে বিনা টিকেটে এটা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। টিকেট সিস্টেম করবো, তবে কত টাকা টিকেট নির্ধারণ করলে আমার খরচ উঠে আসবে এটা ঠিক করবো শিগগিরই।

অনেকেই ভাস্কর্যগুলো নিয়ে সমালোচনাও করছেন। ফেসবুকে অনেকে লিখেছেন, লিওনেল মেসি, শাকিরা, শাহরুখ খানকে চেনা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে আপনার বক্তব্য কী? এ রকম কি তাড়াহুড়োর কারণেই হয়েছে? আমার সমালোচকের অভাব নেই। অনেকেই ওঁত পেতে বসে থাকে আমার পিছে লাগার জন্য। যারা আপত্তি করতে অভ্যস্ত তারা ভালো বিষয় নিয়েও আপত্তি করে। ভাস্কর্যগুলো দিনদিন আপডেট হবে। এখনো অনেক কাজ বাকি। আমি আগেই বলেছি, দিনে এনে দিনে খাওয়ার মানুষ আমি। কাজ করে টাকা উপার্জন করে আমি এটা আপডেট করছি দিনদিন। বিষয়টি স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে আরো সময় তো লাগবেই।

ইত্তেফাক/বিএএফ

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন