ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৬
২০ °সে

এবার সাড়ে আট কোটি কেজি চা উত্পাদন হতে পারে

মধ্যকার্তিকের বৃষ্টিতে চা বাগানগুলো সজিব হয়ে উঠেছে
এবার সাড়ে আট কোটি কেজি চা উত্পাদন হতে পারে
সিলেট অফিস :সিলেট হাবিবনগর চা বাগানে চাপাতা তুলছে চা শ্রমিকরা —ইত্তেফাক

মধ্য কার্তিকে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শেষের বৃষ্টির স্পর্শে সিলেটের চা-বাগানগুলো আরো সজিব হয়ে উঠেছে। গত তিন-চারদিনের বৃষ্টি যেন বৃহত্তর সিলেটের ১২৪টি চা-বাগানের জন্য ছিল বাড়তি পাওনা। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত এই সময়ে বৃষ্টি পাওয়া যায় না। এই সময়ের বৃষ্টি চা-বাগানের জন্য বড় আশীর্বাদ মন্তব্য করে বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশনের নর্থ সিলেট ভ্যালীর চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ টি এসোসিয়েশন সিলেট ব্রাঞ্চের ভাইস-প্রেসিডেন্ট নোমান হায়দার চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, এটি নভেম্বর-ডিসেম্বরের শেষ উত্পাদনে সহায়ক হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহত্তর সিলেটের ৬টি ভ্যালির ১২৪টি বাগানের মধ্যে ১০৮টি বাগান থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩ কোটি ৮৩ লাখ ২ হাজার ৬২৯ কেজি চা-উত্পাদন হয়েছে। আগের বছর ১২৪টি চা বাগানের উত্পাদন ছিল ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৩ হাজার ৭৮৮ কেজি। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪১ কেজি বেশি উত্পাদন হয়েছে।

২০১৫ সালের আগে দেশে চা উত্পাদন হতো ৫৭-৬৫ মিলিয়ন কেজি। ২০১৫ সালে চা মৌসুমে ৬৭ দশমিক ৩২ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন হলেও ২০১৬ সালে দেশে চা উত্পাদনে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে ৮৫ মিলিয়ন কেজি চা উত্পাদন হয়। এটি দেশের চা-শিল্পের ১৬২ বছরের রেকর্ড।

চা-অত্যন্ত সংবেদনশীল কৃষি পণ্য। এর জন্য আবহওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। এবার তাপমাত্রা ও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত হয়েছে। তাই সিলেট অঞ্চলের আবহাওয়া চা-উত্পাদনের অনুকূলেই আছে বলে জানান নোমান হায়দার চৌধুরী। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, চলতি চা-উত্পাদন মৌসুমে খাদিম চা-বাগানে সেপ্টম্বর পর্যন্ত ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৮৭ কেজি চা উত্পাদন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ ভাগ বেশি চা-উত্পাদন হয়েছে তাদের বাগানে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এবারও সারা দেশে ৮৫ মিলিয়ন কেজির কাছাকাছি চা-উত্পাদন হতে পারে।

এদিকে চা-উত্পাদন সংশ্লিষ্টরা চা-এর বাজার দরে বেশ খুশী। প্রতি কেজি ২৮০-৩০০ টাকা বিক্রয় মূল্য বাগানের জন্য অনেকটা সহায়ক বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সরকার চা-আমদানিকে নিরুত্সাহী করায় বাগান সংশ্লিষ্টরা খুবই খুশি। এতে দেশি চায়ের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। তারা বলেন, তারা সারা দেশে চা-এর চাহিদা মিটানোর চেষ্টা করছেন। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

চলতি বছর এপ্রিল-মে মাসে আশানুরূপ বৃষ্টির অভাবে চা-বাগানগুলোতে রেডস্পাইডার ও মশাসহ নানা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। পরবর্তীতে যথাযথ পদক্ষেপ ও বৃষ্টিপাতের ফলে পরিবেশ অনুকূলে চলে আসে।

সারা দেশের ১৬২টি চা-বাগানের মধ্যে সিলেটে চা-বাগানের সংখ্যা ১৩৮টি। এর মধ্যে অনেকগুলো রুগ্ন হয়ে পড়ে আছে। সিলেটের বেশিরভাগ চা-বাগান মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে। কিছু বাগান সিলেট ও হবিগঞ্জে রয়েছে। মালনীছড়া, খাদিম, কুলাউড়ার সাতছড়ি, সিলেটের খান টি-স্টেটসহ বিভিন্ন বাগান পরিদর্শনে দেখা যায় পাহাড়, টিলা ও টিলার ঢালুতে সবুজের সমারোহ।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন