ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মার্চ ২০১৯, ১২ চৈত্র ১৪২৫
৩১ °সে

টিকে থাকার লড়াইয়ে দেশীয় বস্ত্রখাত

টিকে থাকার লড়াইয়ে দেশীয় বস্ত্রখাত
বস্ত্রকল। ফাইল ছবি।

শেয়ার বাজারে তালিকা-ভুক্ত বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের আগের মতো লভ্যাংশ দিতে পারছে না। যেসব কোম্পানি শেয়ার বাজারে নেই, সেগুলোরও একই অবস্থা।

বস্ত্র কল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ বলেছে, বন্ডেড ওয়্যার হাউজ এবং চোরাই পথে আসা সুতা ক্রমেই স্থানীয় বাজার দখল করছে। ফলে, এই সময়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত পড়ে আছে। এ অবস্থায় বেতনভাতা পরিশোধ নিয়েও অনেক কারখানা মালিক চিন্তিত হয়ে পড়ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত সুতা, কাপড়, বিদেশি শাড়ি ও অন্যান্য পোশাক উপকরণ স্থানীয় বাজারে ব্যাপকভাবে বিপণন হচ্ছে।

বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, এর ফলে দেশে তৈরি সুতা ও কাপড়ের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় মিলগুলোর সুতা ও কাপড়ের বিক্রি আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ঢাকার আশপাশসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুত্চালিত তাঁতের অর্ধেকের বেশি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি দুর্বলতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বন্ড সুবিধার আওতায় আনা সুতা অবাধে খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত আমদানি করে কেউ কেউ শুল্কমুক্ত সুবিধায় এনে বাজারে বিক্রি করছে। চোরাই পথে তো আসছেই।

উদ্যোক্তারা বলছেন, একদিকে মিথ্যা ঘোষণায় বেশি পরিমাণের সুতা আসছে। অন্যদিকে যোগসাজশের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত নিম্নতর কাউন্ট এর সুতার পরিবর্তে উচ্চতর কাউন্ট এর সুতার খালাস করা হচ্ছে। এর বাইরে স্থলবন্দরগুলোর মাধ্যমে ট্রাকের পর ট্রাক সুতা প্রবেশ করছে। যদি বলা হয়, দশ ট্রাক, আসে বিশ ট্রাক। এ প্রক্রিয়ায় দেশে সুতা আসার ক্ষেত্রে ধার্যকৃত ট্যারিফ ভ্যালু ও শুল্ক দু’টোরই ফাঁকি দেয়া হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে টেক্সটাইল, স্পিনিং, উইভিং, ডায়িং-প্রিন্টিং কারখানাসমূহ আগামীতে শ্রমিকের মজুরিও পরিশোধ করতে পারবে না। তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাংকের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকি বাড়বে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ইতোমধ্যে কারখানাগুলোর পক্ষে তাদের ব্যাংক ঋণের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারখানাগুলো ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির কারণে নরসিংদী, মাধবদী, বাবুরহাট, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় স্থাপিত অর্ধেকের বেশি তাঁত দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে জানিয়ে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, আগামী দুই এক মাস পরই ঈদুল ফিতরের জন্য দেশের টেক্সটাইল খাত প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। কিন্তু মিলগুলোতে কার্যত কোন কাজ নেই। অথচ নিয়ম অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করতে হবে।

তিনি বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আসা বিদেশি সুতায় স্থানীয় বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ ও মাধবদীতে বিদেশি সুতার পাহাড় জমেছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আছে যারা গার্মেন্টসের বন্ড লাইসেন্স বিক্রি করে খায়। তাদের চক্করে পড়ে দেশীয় সুতা ও বস্ত্র শিল্প আজ হুমকির সম্মুখীন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বেতন-ভাতা পরিশোধ তো দূরের কথা, অনেক মিল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে লাখ লাখ লোক কর্মহীন হয়ে পড়বে এবং এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ ১০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো, নগদ প্রণোদনা বাড়িয়ে সাত শতাংশ করা এবং হিসাব প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করা, ভ্যাট-ট্যাক্স প্রক্রিয়ায় ছাড় দেওয়া ও মিথ্যা ঘোষণায় সুতা ও কাপড় আমদানি ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি বস্ত্র খাতে উদ্যোক্তাদের ৭শ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। বিটিএমএ’র তালিকাভুক্ত রয়েছে ১ হাজার ৪৬১টি বস্ত্রকল ।

আরো পড়ুনঃ পূর্বধলা থানার ওসি ক্লোজড

সংগঠনটির মতে, স্থানীয়ভাবে উত্পাদিত সুতায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার পুরোটাই সরবরাহ দিতে সক্ষম। রফতানিমুখী বয়ন শিল্পে সুতার চাহিদার ৮০ ভাগ এবং ওভেনে ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে মেটানো হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মার্চ, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন