ঢাকা সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
২০ °সে

বিদ্যুৎ সঞ্চালনেও আসছে বেসরকারি খাত

বিদ্যুৎ সঞ্চালনেও আসছে বেসরকারি খাত
ফাইল ছবি

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পর কেটে গেছে এক যুগ। এবার বিদ্যুৎ সঞ্চালনেও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের নিয়ে আসতে চায় সরকার। প্রাথমিকভাবে দুইটি সঞ্চালন লাইন বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের ফলে বিদ্যুতের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যয় বেড়েছে। সঞ্চালন লাইন বেসরকারি খাতে দেয়া হলে সামগ্রিক সঞ্চালন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। এর চাপ পড়বে গ্রাহকদের ওপর। পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন-বিতরণ ব্যবস্থা এখনও একক পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। সঞ্চালন-বিতরণের একটি পর্যায়ে ত্রুটি বা উঠানামা হলে গোটা গ্রিডই অকার্যকর হয়ে যাবে। এতে ব্ল্যাকআউটের আশঙ্কাও রয়েছে।

তবে সরকারের একটি অংশ মনে করছেন, বিদ্যুৎ উত্পাদনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নতি হচ্ছে না। এ কাজে নিয়োজিত রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) কারিগরি সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি লোকবল ও অর্থেরও অভাব রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থায়ন চেয়েও পাচ্ছে না। তবে বেসরকারি খাতে দেওয়া হলে বিভিন্ন কোম্পানি খুব দ্রুত আগ্রহ দেখাবে। বিদেশি বিনিয়োগও আসবে। কয়েক বছর আগে সুইজারল্যান্ড এবং ভারতভিত্তিক দুইটি কোম্পানি বাংলাদেশে সঞ্চালন লাইন নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছিল।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে মদুনাঘাট এবং চট্টগ্রামের রাউজান থেকে মিরসরাই পর্যন্ত বেসরকারি খাতে দুটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পিজিসিবি এটি তদারক করবে। প্রকল্প দুইটির একটি বিডার ফিন্যান্সিং পদ্ধতি এবং অন্যটি আইপিপি প্রক্রিয়ায় করার প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুম আল-বেরুনী বলেন, কোন পদ্ধতি অনুসরণ করে লাইন দুটি নির্মিত হবে সে বিষয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাওয়ার সেল এ নিয়ে কাজ করছে। তারা একটি মডেল চূড়ান্ত করলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের বিদ্যুত্ সঞ্চালন ব্যবস্থা সরকারিভাবে পরিচালনা করা সম্ভব। এটিই যুক্তিযুক্ত ও নিরাপদ। এ প্রসঙ্গে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, দেশের বর্তমান যে বিদ্যুত্ উত্পাদন ও বিতরণ পরিস্থিতি তাতে বেসরকারি খাতে সঞ্চালন ব্যবস্থা ছাড়ার উপযোগিতা নেই। মাত্র ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সঞ্চালনের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করা কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে না। এটা হলে রেন্টাল মডেলে উত্পাদন খাতের মতো সঞ্চালন খাতও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেয়া হবে। এখানেও ক্যাপাসিটি চার্জ রাখা হবে, যা পুরোপুরি জনস্বার্থবিরোধী। এর ফলে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির আরেকটি আয়োজন করা হবে।

খুব কম দেশেই বিদ্যুতের সঞ্চালন ব্যবস্থায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের উদাহরণ রয়েছে। ভারতের মত আকারে ও জনসংখ্যায় বড় দেশেও মাত্র একটি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির অধীনে রয়েছে জাতীয় সঞ্চালন লাইন।

‘ওয়ান ন্যাশন, ওয়ান গ্রিড’ নীতি ধারণ করে পরিচালিত পাওয়ার গ্রিড করপোরেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেডের (পিজিসিআই) সাথে নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি রাজ্যে কার্যক্রম পরিচালন করছে রাজ্য সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান। সেগুলোও পিজিসিআই নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে পিজিসিআইয়ের আওতায় সারা ভারতে সঞ্চালন লাইন রয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার সার্কিট কিলোমিটার। আর দেশটির বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭ মেগাওয়াট।

আর বর্তমানে আমদানি, ক্যাপটিভ ও অন্যান্য খাতসহ বাংলাদেশে মোট বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুত্ খাতের মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালে এ সক্ষমতা ২৪ হাজার এবং ২০৩০ সালে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে দাঁড়াবে। সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৩ সার্কিট কিলোমিটার। এর মধ্যে ৪০০ কিলোভোল্টেজের লাইন রয়েছে ৬৯৭ সার্কিট কিলোমিটার, ২৩০ কিলোভোল্টেজ ক্ষমতার লাইন রয়েছে ৩ হাজার ৩৪২ সার্কিট কিলোমিটার এবং ১৩২ কিলোভোল্টেজ লাইন ৬ হাজার ৯৯৪ সার্কিট কিলোমিটার। সাবস্টেশন পর্যায়ে মোট সক্ষমতা ৩৬ হাজার ৪৬ এমভিএ।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন