শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

চবিতে পরীক্ষা ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ

চবিতে পরীক্ষা ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ
বহিষ্কৃত এক কর্মীকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার জের, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৯, দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার
চবি প্রতিনিধি২০ এপ্রিল, ২০১৭ ইং ২৩:৪৫ মিঃ
চবিতে পরীক্ষা ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিল ছাত্রলীগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিষ্কৃত এক ছাত্রলীগ কর্মীকে পরীক্ষায় বসার অনুমতি না দেওয়ায় ক্যাম্পাসে তাণ্ডব চালিয়েছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। এসময় তারা ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দিলে শাটল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একটি ভবনের জানালা ও ট্রাক ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এলে তাদের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ ৯ জন আহত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের কেন্দ্রীয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাহাত নামে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের এ অংশটি নগর মেয়র আ জ ম নাছির ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিক্স গ্রুপের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ ঘটনার পর সংগঠনের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপুল ও সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- পুলিশের এসআই মো. মহসিন আলী, কনস্টেবল ইমাম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন,              শরিফুল ইসলাম এবং শিক্ষার্থী রায়হান, শাহানূর প্রিতম, নূর উদ্দিন ও মিসবাউল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের উপ-ক্রীড়া সম্পাদক মাহবুবুর শাহরিয়ার শাহীনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল তার চতুর্থ বর্ষের স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষা। কায়সার পরীক্ষা দিতে বিভাগে আসেন। কিন্তু বহিষ্কৃত থাকার কারণে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়নি পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা। এ খবর ক্যাস্পাসে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে একপর্যায়ে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় একজনকে আটক করে পুলিশ।

পরে অনুষদের সামনে পরিস্থিতি শান্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টের মূলফটকে তালা দিয়ে শাটল ট্রেনের হোসপাইপ কেটে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুরো ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সময় সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের কয়েকটি জানালা এবং সামনে থাকা একটি ট্রাক ভাঙচুর করে  নেতাকর্মীরা। এছাড়া এ ঘটনার জেরে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ৪০১ নং কোর্সের পরীক্ষা স্থগিত করে দেয় পরীক্ষা কমিটি। এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে আমরা পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছি। পরবর্তীতে এ পরীক্ষার সময়সূচি জানানো হবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার পর বহিষ্কৃত ছাত্র আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য পরীক্ষার্থীদের হলে ঢুকতে বাধা দেয়। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে তারা পুলিশের সাথে ধাক্কা-ধাক্কি করে। এসময় ঘটনাস্থলে দুই তিন জন শিক্ষার্থী সামান্য আহত হয়। পরীক্ষার হল থেকে তাদের সরিয়ে দিলে শাকিলের নেতৃত্বে কিছু ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে কিছুক্ষণ তালা ঝুলিয়ে রাখে। পরে পুলিশ এসে তালা খুলে দেয়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হলে পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। এরপর তারা গিয়ে শাটল ট্রেনের হোসপাইপ কেটে ট্রেন আটকে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা করা হবে কী না-এ বিষয়ে হাটহাজারী থানার ইনচার্জ বেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো কিছু জানি না। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৩
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬