শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

জবিতে দরপত্র জমা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ

জবিতে দরপত্র জমা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
জবি সংবাদদাতা১৬ জুলাই, ২০১৭ ইং ২২:১৬ মিঃ
জবিতে দরপত্র জমা নিয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ
 
দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দুই দফা হামলায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত শান্ত নামে এক ছাত্রলীগকর্মীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছাত্রলীগকর্মী পিয়াস, রাশেদসহ বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়।
 
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডার আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত সময় ছিলো রবিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত। সকাল ১০টার সময়ে ক্যাম্পাসের প্রতিপক্ষ বরিশাল, ময়মনসিংহ ও গোপালগঞ্জ গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা শরিফ-সিরাজকে টেন্ডার জমা দিতে বাধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে সিরাজের কর্মী সম্রাট, জুয়েলসহ চারজন আহত হন। এ সময় জবি প্রক্টর নূর মোহাম্মদ, সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামাল ও কোতোয়ালী থানার ওসি মওদূদ দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন। ময়মনসিংহ গ্রুপ হিসেবে পরিচিত তানভীর রহমান, হারুন-অর-রশিদ, আনিসুর রহমান শিশির, জহির রায়হান আগুনের নেতৃত্বে একটি দরপত্র জমা দেয়া হয়, এদের সাথে বরিশাল গ্রুপের ইব্রাহিম ফরাজিও ছিলো বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
 
পৌনে ১২টার দিকে সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের অনুসারী জুয়েল রানা 'সরকার ট্রেডার্সের' নামে একটি দরপত্র জমা দিতে গেলে ময়মনসিংহ গ্রুপের কর্মী নাদিমের নেতৃত্বে সিরাজুল ইসলামের অনুসারীদের উপর হামলা করে। নাদিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের সামনে শান্তকে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে শরীফের ছোটভাই দিদার, ওয়ারী এলাকার নুহাশসহ ২০ থেকে ২৫ জন বহিরাগত অংশ নেয় বলে ছাত্রলীগকর্মীরা অভিযোগ করেন।
 
এসময়, সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পঞ্চম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এবং আমাদের সময় অনলাইন পোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার আব্দুল ওহাবকে মারধর করে নাদিম। এক পর্যায়ে আব্দুল ওহাব মাটিতে পড়ে গেলে নাদিম ও তার সাথে থাকা ময়মনসিংহ গ্রুপের কর্মীরা তার বুকে ও পিঠে অনবরত লাথি মারতে থাকে। এতে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সিকিৎসা দেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এসময় নাদিম ও তার সাথে থাকা কর্মীরা তার মোবাইল নিয়ে নেয়। সংঘর্ষে ইতিহাস বিভাগের ১০ম ব্যাচের আরিফুল ইসলাম নামের সিরাজ গ্রুপের এক কর্মীকেও মারধর করে ময়মনসিংহ গ্রুপ।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি আজ ক্যাম্পাসে যাইনি এবং আমার পক্ষ থেকে কোনো টেন্ডার জমা দেওয়া হয়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে জবি ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও একই কথা বলেন।
 
জবি প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, 'আমি সকালের ঘটনায় উপস্থিত ছিলাম। এটি তেমন বড় কোনো ঘটনা ছিলো না। তবে দুইটার সময় যে ঘটনা ঘটেছে তা ক্যাম্পাসের বাইরে ঘটেছে। এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। আর আহত আব্দুল ওহাবকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব।'
 
ইত্তেফাক/জামান
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪