শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মেয়ের সফলতার গল্প

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মেয়ের সফলতার গল্প
বারেক কায়সার১৭ জুলাই, ২০১৭ ইং ০৯:০৯ মিঃ
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি মেয়ের সফলতার গল্প
 
ফারজানা রহমান। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসে পিএইচডি করছেন ‘কম্পিউটেশনাল বায়োলজি’ নিয়ে। কাজ করছেন উদ্ভিদ ও প্রাণীতে বিষক্রিয়া ছড়ায় এমন ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের উৎপত্তি এবং বিকাশের বিভিন্ন দিক নিয়ে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি এই মেয়ে ২০১৮ সালের জন্য স্টুডেন্ট কাউন্সিল ফর কম্পিউটেশনাল বায়োলজির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এটি সারাবিশ্বের কম্পিউটেশনাল বায়োলজি নিয়ে কাজ করাদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কম্পিউটেশনাল বায়োলজি বা আইএসসিবি-এর একটি শাখা সংস্থা।
 
ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করেন ফারজানা রহমান। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসে স্নাতক শেষ করেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিষয়ে। স্নাতক পড়ার সময়ই শিক্ষানবিশ গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন ‘বশ ইঞ্জিনিয়ারিং’ কোম্পানির যুক্তরাজ্য শাখায়। পেয়ে যান ওই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষাবৃত্তি।
 
২০১১ সালে ফুজিৎসু ল্যাবরেটরিস ইউরোপের বৃত্তি নিয়ে প্রফেসর ডেনিস মারফির তত্ত্বাবধানে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলসে। পিএইচডির পাশাপাশি ২০১১ সাল থেকে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন তিনি। জানা যায়, বিশ্বের ৩১টির বেশি দেশে আইএসসিবি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের কার্যক্রম রয়েছে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ও যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে, ২০১৫ সালে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন ও যুক্তরাজ্যের নরউইচে শিক্ষার্থী সম্মেলনে অংশগ্রহণসহ ফারজানা রহমান গত পাঁচ বছর ধরে অংশ নিয়েছেন নানা উদ্যোগের সঙ্গে।
 
দেশে ফিরে ফারজানা রহমান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করতে চান আইএসসিবি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের জন্য ‘রিজওনাল স্টুডেন্ট গ্রুপ’ বা আরএসজি। এই সংগঠন দেশের শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ছোঁয়ার পথ সহজ করে দেবে।
 
ফারজানা বলেন, আমি এই নতুন দায়িত্ব নিতে পেরে রোমাঞ্চিত। আমি বিশ্বজুড়ে তরুণ বিজ্ঞানীদের কমিউনিটিকে শক্তিশালী করতে মুখিয়ে আছি। পিএইচডি গবেষণা নিয়ে তিনি বলেন, আমার গবেষণা দেশের কৃষি খাতে কাজে আসবে। আমার গবেষণার সাফল্যের ওপর নির্ভর করে আমাদের দেশের ফসল, খাদ্য ও কৃষি খাতের গবেষণায় ভালো কিছু করা সম্ভব।
 
ফারজানার পিএইচডি সুপারভাইজর প্রফেসর ডেনিস মারফি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে ফারজানা আইএসসিবি স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক প্রচার কর্মকাণ্ডে অনুকরণীয় অবদান রেখেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একজন দারুণ দূত হিসেবে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছেন।
 
স্টুডেন্ট কাউন্সিলের ২০১৬-১৭ চেয়ারম্যান আন্টওয়েরপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. পিটার মেজম্যান বলেন, ‘ফারজানাকে পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে পেয়ে আমি খুবই খুশি হয়েছি। স্টুডেন্ট কাউন্সিলের মধ্যে তার ক্যারিয়ারের জন্য এটিই হলো পরবর্তী যৌক্তিক ধাপ। স্টুডেন্ট কাউন্সিলের যা প্রয়োজন, তিনি হলেন ঠিক তা-ই। আমি তাকে ও তার দলকে অভিনন্দন জানাই।
 
ইত্তেফাক/এমআর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১