শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা না দেওয়ার দাবি

ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা না দেওয়ার দাবি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ২২:২৯ মিঃ
ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা না দেওয়ার দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষা না দিতে দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এতে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে পরীক্ষা নিতে বাধ্য হয়। বুধবার সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পঞ্চম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষায় এই ঘটনা ঘটে।

বুধবার সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পঞ্চম সেমিস্টারের ৫০২ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা ছিল। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার জন্য নিজ আসনে বসে যান। এই সময় কয়েকজন ছাত্র উঠে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা দিবে না বলে জানান। অন্য শিক্ষার্থীরাও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা এক হয়ে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের কাছে গিয়ে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে পরীক্ষা দিবে না বলে জানায়। তখন কর্তৃপক্ষ ওই কোর্সের পরীক্ষা অভিযুক্তদের ছাড়াই ১০টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিহাব হাসান খান ফারাবী এবং সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সালমান এফ রহমান হৃদয়কে আটক করে সিআইডি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে রাতভর এই দুইজন সিআইডির কাছে
জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়ার স্বীকারোক্তি দেয়। এছাড়া তারা আরও ১৫জন শিক্ষার্থীর নাম বলে যারা জালিয়াতিতে যুক্ত ছিল।

এই ১৫ জনের মধ্যে সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাঁচজন ছিল। তারা হলো, বঙ্গবন্ধু হলের হাসিবুর রশীদ শাওন, মুহসীন হলের মেহেদী, জিয়া হলের গালিব, জগন্নাথ হলের সৌভিক ও এফ রহমান হলের, রাকিবুল।  

বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, বিভাগের অনেক ছাত্র জালিয়াতিতে অভিযুক্ত হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অভিযুক্তরা নির্বিঘ্নে ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারি না। এ সময় শিক্ষার্থীরা জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা  ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে। তবুও আজকে সকালে যখন সকল শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে পরীক্ষা দিবে না বলে জানায়, তখন আমরা অভিযুক্তদের ছাড়াই পরীক্ষা নিই।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের ব্যাপারে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটা জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি দিয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমরা সেই ব্যবস্থা নেব।
 
বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. একে এম গোলাম রব্বানি বলেন, আমরা ওই বিভাগ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, আমাদের কাছে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এসেছিল তাদেরকে বহিষ্কার করেছি। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসলে যেকোনো সময় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯