শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

চাই উদ্ভাবনীমূলক গুণ-মানের শিক্ষা

চাই উদ্ভাবনীমূলক গুণ-মানের শিক্ষা
ড. আতিউর রহমান২৯ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১০:৩৪ মিঃ
চাই উদ্ভাবনীমূলক গুণ-মানের শিক্ষা
 
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেই অর্থে এখনো সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনীমূলক শিক্ষার ওপর প্রয়োজনীয় মনোযোগ দিচ্ছে না। শিক্ষাকে আমরা কিছুতেই জীবনের খাদ্য তৈরি করে উঠতে পারছি না। শিক্ষা আর জীবন তাই আলাদাই থেকে যাচ্ছে। অথচ বহু আগে রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন, ‘আমরা কী হইব এবং কী শিখিব এই দু’টো কথা একেবারে গায়ে গায়ে সংলগ্ন। পাত্র যত বড় জল তাহার চেয়ে বেশি ধরে না।’ আশা করার ক্ষেত্র বড় হলেই যে মানুষের শক্তিও বাড়ে সে কথাটিই কবি স্পষ্ট ভাষায় বলে গেছেন। সেই আমলে অক্সফোর্ড ও কেমব্রিজ বিশ্বদ্যািলয়ের শিক্ষার ধরন দেখে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘চিত্তের গতি-অনুসারেই শিক্ষার পথ নির্দেশ করিতে হয়।... নানা লোকের নানা চেষ্টার সমবায়ে আপনিই সহজ পথটি অঙ্কিত হইতে থাকে। এইজন্য সকল জাতির পক্ষেই আপন পরীক্ষার পথ খোলা রাখাই সত্যপথ- আবিষ্কারের একমাত্র পন্থা।’ শিক্ষা তাই শুধু সংখ্যার বিষয় নয়। শিক্ষার মূল লক্ষ্য তার ‘সম্পূর্ণতায়, তার প্রবলতায়’। শিক্ষা তাই জীবন বিচ্ছিন্ন কোনো প্রস্তাবনা হতে পারে না। গুণমানের শিক্ষা বরাবরই জীবনস্পর্শী হয়ে থাকে। বৈশ্বিক সংযোগের জন্য চাই উপযুক্ত শিক্ষা। বিশ্বজগতের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান উপায় হচ্ছে শিক্ষা। আর যোগাযোগ বাড়াতেই শিক্ষাকে হতে হয় প্রযুক্তি ও ন্যায়-নীতি নির্ভর। ‘সুশিক্ষার লক্ষণ এই  যে, তাহা মানুষকে অভিভূত করে না, তাহা মানুষের রুচির পক্ষে, মাত্রাজ্ঞানের পক্ষে, নীতি-নৈতিকতার পক্ষে, মূল্যবোধ ও চিন্তার আভিজাত্যের পক্ষে।’ (রবীন্দ্রনাথ) তাই শিক্ষার সঙ্গে হূদয়বৃত্তির চর্চা, মনুষ্যত্ববোধের চর্চা, ভালোবাসা চর্চার এতটা দরকার।
 
আমরা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রির চাপে পড়ে চিড়ে চ্যাপ্টা হওয়া তথাকথিত ‘শিক্ষিত’ মানুষ তৈরির কারখানা বানাতে চাই না আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কিন্তু বাস্তবে তাই করছি। শত শত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করছি শিক্ষার হার বাড়াতে। শিক্ষার গুণমান কি সেই হারে বাড়ছে? জাতি, ধর্ম, গোত্র, শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে সকল মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবনাচরণের শক্তি কি বাড়াতে পারছে আমাদের প্রচলিত শিক্ষা? বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির কল্যাণে যে নয়া বাজার ও চাহিদা তৈরি হচ্ছে তার আলোকে আমরা কি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষার প্রচলন করতে পারছি?
 
এসব প্রশ্ন মাথায় নিয়েই সম্প্রতি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম একটি উদ্দীপনামূলক বক্তৃতা দেবার জন্য। ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্যারিয়ার ক্লাব’ অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল। শুরুতে খানিকটা দ্বিধায় ছিলাম। বিরাট হলঘর। এক হাজারেরও বেশি আসন। এক পর্যায়ে হল ভরে গেল। সেই তুলনায় শিক্ষকদের উপস্থিতি সামান্য। তবে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রত্যেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের তৈরি এই ‘ক্যারিয়ার ক্লাবে’র কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দশজন সফল উদ্যোক্তা ছাত্র-ছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হলো। সফল ফটোগ্রাফার, শর্ট ফিল্মমেকার, নাট্যকার, আবৃত্তিকার, বিতার্কিক, সাহিত্যিক, অ্যাপ প্রণয়নকারী, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসায়ী উদ্যোক্তাসহ দশজনের হাতে স্মারক ও সার্টিফিকেট তুলে দিলাম আমি ও উপাচার্য। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলল অনুষ্ঠান। কোনো ছেদ ছিল না। ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। প্রাণবন্ত। অন্যান্য অনেক ইস্যুতে বিতর্ক ও বিড়ম্বনা সত্ত্বেও উদ্ভাবনীমূলক এসব শিক্ষা-সম্পর্কিত কর্মকা্লের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয় এক অনন্য অবস্থানে পৌঁছুনোর সক্ষমতা রাখে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।
 
আমার বক্তৃতার শুরুতেই আমি শিক্ষা ও জীবনের সংলগ্নতার কথা বলেছি। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। আর্থিক ও প্রশাসনিক নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি কী করে উদ্ভাবনকে উসেক দিচ্ছে সেই সূত্র ধরেই আরেকটি পাবলিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের সৃজনশীলতা, উদ্যম, উদ্যোক্তা-বান্ধব নানা তত্পরতার গল্প বলেছি। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা লড়াকু এই বাঙালি জাতির অসাধারণ উদ্যম ও সৃজনশীলতাই যে আমাদের প্রধান পুঁজি সে কথাটি পরিপ্রেক্ষিতে রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার উপাখ্যান তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে। কী করে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শুরুর আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিকে পরিশ্রমী উদ্যোক্তা বাঙালি বর্তমানে ২৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বড় এক অর্থনীতিতে রূপান্তর করে সারা বিশ্বের বিস্ময়ে পরিণত হতে পারল সেই গল্প শুনে আমাদের তরুণ-তরুণীরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে। ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা ‘আরেক’ বাংলাদেশের গল্প তারা প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে শুনেছে। শুরুতে মাত্র এক ডলারও ছিল না আমাদের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ। তা আজ বত্রিশ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার বর্তমানে বেশ অস্থিতিশীল। লেনদেনের ভারসাম্য চ্যালেঞ্জের মুখে বলেই এমনটি হচ্ছে। খুব শক্ত হাতে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
 
বাহাত্তরে আমাদের ৮০ শতাংশ মানুষই ছিলেন দারিদ্র্য রেখার নিচে। আজ দারিদ্র্যের সেই হার ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। গ্রামে-গঞ্জে আজকাল খালি গায়ের খালি পায়ের মানুষ চোখেই পড়ে না। আজকের বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ গড়ে ৭২ বছর বাঁচে। পাকিস্তানে বাঁচে ৬৬ বছর, ভারতে ৬৮ বছর। বাহাত্তরে আমাদের গড় আয়ু ছিল মাত্র ৪৮ বছর। গ্রামের সেই দুঃখী মানুষেরা কল্পনাও করতে পারেন নি যে তারা একদিন আধুনিক ব্যাংকিং সেবা পাবেন। আজ পাঁচ কোটিরও বেশি গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষ প্রতিদিন এক হাজার কোটি টাকা মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে লেনদেন করেন। প্রতিদিন একজন রিকশাচালক দুবার বাড়িতে মোবাইল ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে স্ত্রী সন্তানদের টাকা পাঠান। আগে এক মাস পর হয়ত নগদ টাকা নিয়ে বাড়ি যেতেন। এই এক মাস তার স্ত্রী সন্তানেরা দোকান থেকে বাকি নিয়ে মহাজনের কাছে ধার-কর্জ করে কোনোমতে বেঁচে থাকত। অনেক রাতেই না খেয়ে ঘুমুতে যেতে হতো তাদের। আজ আর সেই দুঃখজনক অবস্থা তাদের নেই। তারা প্রতিদিন দু’বেলা পেটপুরে খেয়েই ঘুমুতে যায়। প্রায় আধা কোটি গ্রামীণ নারী আজ গার্মেন্টস ও রপ্তানিনির্ভর শিল্পে কাজ করছেন। তারাও তাদের পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ পাঠাচ্ছেন। তা ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যে লেনদেনও সহজতর হয়েছে। তাই গ্রাম-বাংলার অর্থনীতি আজ অনেকটাই চাঙ্গা। উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরাও জানালেন তারা এখন সহজেই বাবা-মার কাছ থেকে টাকা পায়। তারাও পাঠায়। গ্রামে ও শহরে কতো ধরনের নয়া খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তার যে প্রসার ঘটেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। গ্রামে-গঞ্জে শাখা খুলেছে ব্যাংকগুলো। বিদেশে কাজ করা গ্রামের ছেলে-মেয়েরা দ্রুত অর্থ পাঠাচ্ছে ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রায় আট লাখ এজেন্ট এখন এই আর্থিক সেবায় নিয়োজিত। প্রত্যেকেই মাসে অন্তত এক লাখ টাকা আয়-রোজগার করছেন। প্রায় ৫০ হাজার ব্যবসায় ইউনিটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘বিকাশ’ ও ‘রকেট’ মোবাইল ব্যাংক। তারা খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ব্যবসায় প্রসারে আর্থিক লেনদেন সহায়তা দিচ্ছে। পয়লা বৈশাখ, ঈদ, পূজা ও নানা উত্সবকে ঘিরে আজকাল ই-কমার্স ও এফ-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তারা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তারা খুবই সক্রিয় হয়ে উঠছেন। নানা উদ্ভাবনের পথ তারা নিজেরাই খুলে দিচ্ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের নয়া দিগন্ত তারা খুলে দিচ্ছেন।
 
আমার বড়ই সৌভাগ্য যে এসব ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যে লেনদেনের নিয়মনীতি সহজ করে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের উত্সাহী করতে পেরেছিলাম। অটোমেটিক ক্লিয়ারেন্স হাউস, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ, রিয়াল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট, মোবাইল ফাইনেন্সিয়াল সার্ভিসসহ নানা ধরনের সহায়ক লেনদেন রেগুলেশন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নয়া উদ্যোক্তাদের সহায়তার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করেছে। বেসিসসহ নানা ব্যবসায়ী সংগঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে এসব রেগুলেশনকে ব্যবসা-বান্ধব করতে সহযোগিতা করেছে। ফলে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারই শুধু ঘটেনি, স্ব-কর্মসংস্থানের এক বিরাট আয়োজন দানা বেঁধেছে। এর পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ নেতৃত্বে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্ত করা এবং প্রশাসনকে উন্নয়নমুখী ও ডিজিটাল করার নানা উদ্ভাবনীমুখী নীতি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। সব মিলে এক দশক ধরে ছয় শতাংশের বেশি হারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটছে। শেষ দু’বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাত শতাংশেরও বেশি হারে। চলতি বছর এ হার আরও বেশি হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সর্বত্র নারীর অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
 
এসব গল্পের ফাঁকে ফাঁকে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্সাহী ছাত্র-ছাত্রীদের সেদিন জানিয়েছিলাম যে কী করে খুলনার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ‘সেভ অ্যান্ড সেফ’ নামে ২০০৪ সালে একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর শুরু করেছিলেন। আড়াই হাজার পণ্য নিয়ে শুরু করা সেই স্টোরে আজ তিনি সমাবেশ করেছেন দুই লাখ পণ্য। তাঁর নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা এখন ১৫০। আশা করা যায় ‘আউট সোর্সিং’ কর্মের সঙ্গে ২০২১ সালে ১০-২০ লাখ মানুষ যুক্ত হবেন। তাদের আয় হবে এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এখনই যুক্ত রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ তরুণ-তরুণী। তারা লেখালেখি, অনুবাদ, নিবন্ধ, ওয়েব কনটেন্ট, গ্রাফিকস, অ্যানিমেশন, ইমেজ এডিটিং, ব্যাক অফিস সাপোর্টসহ নানা কাজে যুক্ত। আমার ছাত্র মাহিন মতিন জাপানি স্কুলের ছেলেমেয়েদের ক্লাসের ইংরেজি রচনা অনলাইনে সম্পাদনা করাতে ডজন কয়েক বাঙালি ছাত্রছাত্রীকে নিয়োগ দিয়েছে। পার্ট-টাইম এই কর্মীরা যথেষ্ট আয়-রোজগার করছে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করে। ই-কমার্স ও এফ-কমার্সে এখন ১৫ হাজারেরও বেশি নারী উদ্যোক্তা নিয়োজিত। তাদের সঙ্গে হাজার পঞ্চাশেক মানুষ নানা কাজে যুক্ত। তা ছাড়া, অ্যাপভিত্তিক পরিবহন (‘উবার’, ‘পাঠাও’, ‘চলো’) ব্যবসা তো রমরমা। শতশত শিক্ষিত ছেলেমেয়ে পার্টটাইম ফুলটাইম এসব কাজে নিয়োজিত হয়ে গেছে। এ সব কাজকে আরও প্রসারিত ও দক্ষ করার জন্যে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। এখনো ৯০% লেনদেন নগদেই হচ্ছে। দশ শতাংশ মোবাইলে। খাবার শিল্পে বড় বিপ্লব ঘটছে।
 
খান’স কিচেন গড়ে তুলেছেন নারী উদ্যোক্তা আফরোজা খান। প্রতিদিন ১০ হাজার মানুষের খাবার পরিবেশন করছেন ১৫ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই রন্ধনশালা থেকে। তাঁর ইচ্ছে ১০ লাখ মানুষকে এই সেবা দেবেন। ফুড পান্ডা ছাড়াও ঘরে বসেই ভালো ভালো রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার সংগ্রহের খবর সবারই জানা। দূর-দূরান্ত থেকে তাজা মাছ, সবজি, মাংস কেনা যাচ্ছে ই-কমার্সের মাধ্যমে। শিক্ষিত তরুণেরা এখন অনলাইন লন্ড্রির ব্যবসা করছে। বন্ধুরা মিলে নানামুখী ই-কমার্সের উদ্যোগ নিচ্ছেন। আধুনিক কৃষি খামার গড়ে তুলছেন। মাছ চাষ ছাড়াও টার্কির খামার গড়ে তুলেছেন।
 
আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের জন্যে এখনো মাঝারি ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী, হিসাব রক্ষকদের বিদেশ থেকে আনতে হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কেন এমন কর্মী তৈরি করতে পারবে না? বিজিএমইএ’র ফ্যাশন বিশ্ববিদ্যালয়, তেজগাঁর টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান যেসব স্নাতক বের করছে তারা কেউ বেকার নেই। সকলেই হয় নিজে উদ্যোক্তা বনে গেছেন অথবা চাকরি পেয়ে গেছেন। তাহলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় কেন ছাত্রছাত্রী ও শিল্পের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে ‘মিডওয়াইফে’র কাজ করতে পারবে না? এজন্যে প্রযুক্তির প্রসারে নতুন করে সাজাতে হবে তাদের পাঠক্রম।
 
আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে সবুজ ও গতিময়। আমাদের তরুণরাই হবে এর কাণ্ডারি। তাদের হাত ধরেই উন্নত বাংলাদেশের কাতারে যুক্ত হবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। তাই তরুণদের আরও বেশি দক্ষ করে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। আগামীদিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি আজই স্থাপিত হচ্ছে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষগুলোতে। তাই তরুণদের সযত্নে মানুষের মতো মানুষ করে গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষকদের ও নীতিনির্ধারকদের। অভিভাবকদেরও দায়িত্ব কম নয় এ প্রশ্নে। আসুন প্রতিজ্ঞা করি—সকলে মিলেই গড়ব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা।
 
লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৫১
আসর৪:১১
মাগরিব৫:৫৪
এশা৭:০৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৪৯