শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে ধোঁয়াশা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে ধোঁয়াশা
শিক্ষকের পুনর্বহাল নিয়ে ধোঁয়াশা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিনের চাকরিচ্যুতির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের এ বক্তব্যকে গুজব বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমান।
 
বেলা ১১টায় সাধারণ ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জবি ভিসি। সভাকক্ষে ১৫ জন ছাত্র প্রতিনিধিসহ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ বৈঠকে অংশ নেন। প্রায় একঘণ্টা বৈঠক শেষে তারা তাদের আন্দোলন সফল হয়েছে দাবি করে। আন্দোলনের আহ্বায়ক শিপন আহমেদ জানান, উপাচার্য তাদের আশ্বাস দিয়েছেন শিগগিরই নাসির উদ্দিনকে চাকরিতে বহাল করা হবে এবং ওই শিক্ষক ক্লাসে ফিরবেন। এরপর রবিবারের জন্য আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেন তারা।
 
এদিকে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অস্বীকার করে উপাচার্য জানান, ‘ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বলা হয়েছে নাসির উদ্দিনকে আবেদন করতে হবে। সেটা তিনি যেভাবে (পুনর্বিবেচনা বা ক্ষমাপ্রার্থনা) চাইবেন সেভাবেই সিন্ডিকেট তা বিবেচনা করবে। এর বাইরে কোনোভাবে তাকে চাকরিতে বহালের সুযোগ নেই। এছাড়া তার আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে আবারও চাকরিতে বহাল করা হবে এমন নিশ্চয়তাও আমরা দিচ্ছি না।এমনকি আন্দোলন করেও এ আদেশ প্রত্যাহার করা যাবে না বলে জানান তিনি।’
 
তিনি বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, কিন্তু শাস্তির সর্বশেষ ধাপ অর্থাৎ বহিষ্কার করা হয়নি। চাকরিচ্যুত করার ফলে এখন তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে পারবেন ও কিছু সুযোগ-সুবিধাদি পাবেন। তাকে বহিষ্কার করা হলে সে সুযোগ থাকতো না। তাকে সে সুযোগটি দেওয়া হয়েছে।’
 
নাসির উদ্দিনের চাকরিতে ফেরা বা ক্লাস নেওয়াকে গুজব আখ্যা দিয়ে উপাচার্য মীজানুর রহমান বলেন, ‘অনেকে বলছেন ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকে তাকে চাকরিতে বহাল করে ক্লাস নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে আমি আপনাদের জানাচ্ছি এখন কোনোভাবেই সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ছাড়া তাকে চাকরিতে বহাল করা হবে না। তার আবেদনের পর পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় এটি নিয়ে আলোচনা করার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরো জানান, ‘আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় যেসকল শিক্ষার্থী সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে পারেনি, তাদের পূনরায় সুযোগ দেয়া হবে।'
 
রবিবার দুপুরে ভিসির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। 
 
এদিকে পূর্ব কর্মসূচী অনুসারে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। তবে প্রশাসন ও পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে প্রধান গেটে অবস্থান করতে পারেননি আন্দোলনকারীরা। পরে সকাল ৮টা থেকে ক্যাম্পাসের ভেতর অবস্থান করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এসময় শিক্ষার্থীরা কলা অনুষদ থেকে মিছিল করে ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে বিজ্ঞান অনুষদ হয়ে পুনরায় বাংলা ভবনে এসে অবস্থান নেন। এর আগে সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। এ সময় প্রায় ২১ বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল বর্জন করে শিক্ষার্থীরা। 
 
আন্দোলনের এক পর্যায়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় জবি ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিছিলে মিছিলে ক্যাম্পাস মুখরিত করে রাখেন।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০