শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলছে ৩য় বর্ষে সিট!

পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলছে ৩য় বর্ষে সিট!
পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলছে ৩য় বর্ষে সিট!
দীর্ঘদিন যাবৎ নানা সমস্যা নিয়ে দিন যাপন করছেন জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মোশাররফ হোসেন হল ও শহীদ রফিক জব্বার হলের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ হলের অবস্থা একইরকম। এরমধ্যে এই দুই হলের অবস্থা বেশি নাজুক।
 
সিট সংকট, ক্যান্টিন-ডাইনিং না থাকা, মাদক সেবনের হিড়িক, পলেস্তারা খসে পড়া, সাপের উপদ্রবসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই চলছে এই দুটি হল।
 
মীর মোশাররফ হোসেন হলঃ
এই  হলে ৭১৬টি সিট থাকলেও বর্তমানে হলে অবস্থান করছে প্রায় ১২০০ শিক্ষার্থী। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের হলে উঠলে গণরুমে থাকতে হয়। ছোট একটি রুমে গাদাগাদি করে থাকতে হয় প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জনকে। পরে দ্বিতীয়বর্ষে উঠলে ৪ জনের সিটে থাকতে হয় ১৬ জনকে। এরপরে তৃতীয় বর্ষে গিয়ে উঠতে হয় ২ জনের সিটে ৬ জন। তৃতীয় বর্ষের শেষের দিকে মিলে সিঙ্গেল সিট।
 
ছাত্রত্ব শেষ করার পরও হলে অবস্থান ও অন্য হলের শিক্ষার্থীদের এ হলে অবস্থানের জন্য সিট সংকট হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সিট সংকটের পাশাপাশি এ হলে নেই ভালো খাবারের ব্যবস্থাও। দীর্ঘদিন যাবৎ ডাইনিং বন্ধ রয়েছে। নামমাত্র ক্যান্টিন থাকলেও খাবারের মান খারাপ হওয়ায় সেখান থেকে অনেক আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় উচ্চ মূল্যের নিম্নমানের খাবারের দোকানগুলোর ওপর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে নির্ভর করতে হয়। এছাড়া হলে ৮ টি মেসের মাধ্যমেও অনেকে খাবার খান। 
 
কিছুদিন পরপর  হলের দেয়ালের পলেস্তারা খুলে পড়ে। যার কারনে ভয় নিয়েই চলতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। হলের আশেপাশের জঙ্গল পরিষ্কার না করায়, কয়েকদিন পরপর হল থেকে উদ্ধার করা হয় বিষধর সাপ।
 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিক মত পরিষ্কার না করার কারনে জঙ্গল থেকে অনেক সাপ হলে চলে আসে। আর মাদকাসক্ত অনেক শিক্ষার্থী রুমে বসেই  গাঁজা সেবন করেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভয়ে কিছু বলতে পারেন না বলে জানান। 
 
শহীদ রফিক জব্বার হলঃ
এই হলে প্রায় ৬৪০টা সিটের মত থাকলেও এখানে প্রায় ১ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করে। অন্য হলের মত এখানেও গণরুমেই ঠাঁই হয় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের। পরে দ্বিতীয় বর্ষের শেষের দিকে গিয়ে মেলে সিট।
 
ছাত্রত্ব শেষ হলেও সিট না ছাড়া ও অন্য হলের শিক্ষার্থী এখানে অবস্থান করাই এমনটি হয় বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। এখানে নামমাত্র  ডাইনিং চালু থাকলেও প্রায় ১ বছরের উপরে বন্ধ রয়েছে ক্যান্টিন। প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ডাইনিংয়ের খাবার খায় মাত্র ১০০ জন। আর বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে নির্ভর করতে হয় মেস বা বটতলার খাবারের দোকানে। কিন্তু বটতলা হল থেকে অনেক দূরে হওয়ায় সেখানে গিয়ে খাওয়া কষ্ট হয় বলে জানান অনেকে। 
 
হলে বিভিন্ন রুমে গণহারে চলে মাদক সেবন। ২ বছর আগে এ হল থেকে উদ্ধার করা হয় গাঁজা গাছের চারা। যা এক ছাত্রলীগ নেতা রোপন করেছিলেন। একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন রুম থেকে প্রায়সময় গাঁজার গন্ধ আসে। ভয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না।  আবাসিক শিক্ষকরা হলে বছরে দু-একবার যান বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। 
 
কর্তৃপক্ষের বক্তব্যঃ
এ বিষয়ে শহীদ রফিক জব্বার হলের প্রভোষ্ট অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। অচিরেই হলের সকল সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করবো। ইতিমধ্যে, হলের ক্যান্টিন চালু করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মীর মোশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেককে একাধিকবার ফোন দিলেও পাওয়া যায়নি।
 
ইত্তেফাক/নূহু
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১