শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

ছাত্রলীগের হুমকিতে চবির সাংবাদিকতা বিভাগের মানববন্ধন পণ্ড

ছাত্রলীগের হুমকিতে চবির সাংবাদিকতা বিভাগের মানববন্ধন পণ্ড
চবি সংবাদদাতা২২ জুলাই, ২০১৮ ইং ১৮:৪৭ মিঃ
ছাত্রলীগের হুমকিতে চবির সাংবাদিকতা বিভাগের মানববন্ধন পণ্ড
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক খ. আলী আর রাজীকে ছাত্রলীগের হুমকি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্চিত ঘোষণার প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা প্রদানের দাবিতে ঐ বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে চাইলে ছাত্রলীগের প্রাণনাশের হুমকির কারণে পণ্ড হয়ে যায় মানববন্ধন। 
 
রবিবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
 
জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মানববন্ধনে আসা শিক্ষার্থীদের বার বার প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল চবি ছাত্রলীগ। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন স্থগিত করে ক্লাস করতে শ্রেণি কক্ষে গেলে সেখানে গিয়ে একদল ছাত্রলীগ কর্মী দফায় দফায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের চেষ্টা করে। পরে বিভাগের শিক্ষকদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কয়েকজন শিক্ষার্থীদের প্রাণনাশের হুমকি ও শ্রেণিকক্ষে এসে দফায় দফায় মারধরের চেষ্টা করায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেয়। 
 
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকার বিরোধী কোন বিষয় নিয়ে যদি আমাদের কোন শিক্ষক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে থাকে সেটা গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিহিত করুন। কোন সংগঠন কেন সে বিষয়ে হুমকি দিয়ে আসবে। কেন একজন শিক্ষককে অবাঞ্চিত ঘোষণা করবে? আমাদের শিক্ষকের পক্ষে কোন কথা বলতে গেলে প্রাণনাশের হুমকির  মুখে পড়তে হচ্ছে। আমাদের কি কোন স্বাধীনতা নেই। যারা আমাদের ক্লাস রুমে এসে হুমকি ও মারধর করতে আসতে পারে তারা বাহিরে আমাদের ওপর হামলা করবে না তার কি বিশ্বাস। আমাদের যে পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রদান ও হুমকি কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সে পর্যন্ত আমরা ক্লাস বর্জন করবো।
 
মানববন্ধনে হুমকির বিষয়ে চবি ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মনছুর আলম বলেন, সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ আলী আর রাজী কোটা সংস্কার আন্দোলনে উষ্কানি দিয়ে ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করায় তাদের বিরুদ্ধে আমরা চবি উপাচার্য বরাবর একটি স্বারকলিপি দিয়েছি। যারা এই দুই শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে কোন কথা বলবে তাদেরকে চবি ছাত্রলীগ প্রতিহিত করবে। শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের মারধরের চেষ্টার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোন কর্মী ক্লাস রুমে গিয়ে মারধরের চেষ্টা করেনি। কে বা কারা এই কাজ করেছে সেটা আমরা জানি না।
 
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার অভিযোগে সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাইদুল ইসলাম ও যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খ আলী আর রাজীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের দেওয়া সেই স্মারকলিপির ভিত্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে এর প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২