শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

স্কুলের বারান্দায় শিক্ষকের ৮ বছর: ইত্তেফাক অনলাইনের খবরে তোলপাড়

স্কুলের বারান্দায় শিক্ষকের ৮ বছর: ইত্তেফাক অনলাইনের খবরে তোলপাড়
স্কুলের বারান্দায় শিক্ষকের ৮ বছর: ইত্তেফাক অনলাইনের খবরে তোলপাড়
প্রায় ৮ বছর ধরে রাজশাহী মহানগরীর উপ-শহর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলের বারান্দায় রাত কাটছে স্কুলটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক মাজাহার হোসেনের। নিজের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে থাকলেও ৮৫ বছর বয়সে এ মানুষটি স্ত্রী সন্তানদের সান্নিধ্যে থাকতে পারছেন না। শুক্রবার এ শিক্ষককে নিয়ে ইত্তেফাক অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মাজাহার হোসেনকে নিয়ে রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।
 
শনিবার সকালে ওই শিক্ষকের বড় ছেলে আকতারুজ্জামান মুকুলের ছেলে পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি ইত্তেফাকের ঢাকা অফিসে ফোন করেন। সেখান থেকে নম্বর নিয়ে এ প্রতিবেদককেও ফোন করেন তিনি। এসময় তিনি জরুরীভাবে দেখা করার অনুরোধ জানান।
 
বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বলেন, তার দাদুকে নিয়ে যা লেখা হয়েছে, তা আদৌ সঠিক নয়। এসময় ওই যুবক তার দাদুর মাথায় সমস্যা আছে বলেও দাবি করেন। তাকে লিখিত ব্যাখ্যা দেয়ার অনুরোধ করলে তিনি রাজি হন। কিন্তু রাত ৮টা পর্যন্ত ওই যুবক লিখিত ব্যাখ্যা নিয়ে প্রতিবেদকের কাছে আসেননি, এমনকি আর ফোনও করেননি।
 
তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এহসান মাহফুজের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষকের বড় ছেলে আকতারুজ্জামান মুকুল তাকে বাসায় ফেরত নিতে রাজি হয়েছেন বলে জানা গেছে।
 
শনিবার সকালে মাজাহার হোসেনের বড় ছেলে আকতারুজ্জামান মুকুলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি স্যাটেলাইট হাইস্কুলের বারান্দায় অবস্থানরত তার বাবাকে দেখতে যান। এসময় মুকুল ছাত্রলীগ নেতা এহসান মাহফুজকে কথা দেন, যত দ্রুত সম্ভব যেকোনো ভবনের নীচ তলায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে বাবাকে সেখানে নিয়ে যাবেন।
 
 
ছাত্রলীগ নেতা এহসান মাহফুজ বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম তার সমস্ত দায়িত্ব নেব। কিন্তু উনার সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, তিনি ছেলের সঙ্গেই থাকতে চান। পরে তার বড় ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা দেন, অল্প দিনের মধ্যেই বাবাকে বাসায় নেবেন। 
 
এদিকে মাজাহারের ছোট ছেলে আসাদুজ্জামান দেবিসিং পাড়ায় অবস্থিত মদিনাতুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসার গণিতের শিক্ষক। তার বাবার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বাবা ও মায়ের মধ্যে অনেক বছর আগে তালাক হয়ে গেছে। বহুদিন থেকে আমার ও মায়ের সাথে বাবার যোগাযোগও নেই। তবে বড় ভাই বাবার ও আমি মা’র দায়িত্ব নিয়েছি। তারপর থেকে মা আমার কাছেই থাকে। বাবা নিজের ইচ্ছায় স্কুলে বারান্দায় থাকেন। সেখানে থাকলেও বড় ভাই বাবার খোঁজ নেন।  
 
প্রসঙ্গত, রাজশাহীর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলে মাজাহার হসেন দীর্ঘ ২৮ বছর দায়িত্বপালন শেষে ১৯৯৮ সালে অবসরে যান। তখন অবসর সুবিধার সিস্টেম না থাকায় আর্থিক সংকটে বিপর্যয় নেমে আসে তার। শেষ পর্যন্ত ছেলেরাও দায়িত্ব নেয়নি শিক্ষক বাবার। বাধ্য হয়ে একাই নেমে পড়েন জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে। ২০১০ সালের শেষ দিকে গিয়ে ওঠেন নিজের প্রতিষ্ঠিত স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুলের ল্যাবরেটরি কক্ষের বারান্দায়।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:২৯
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৭
মাগরিব৬:০৩
এশা৭:১৬
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৮