শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

ইংরেজি না পড়েই ইংরেজির শিক্ষক

ইংরেজি না পড়েই ইংরেজির শিক্ষক
বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা২৮ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২০:১৫ মিঃ
ইংরেজি না পড়েই ইংরেজির শিক্ষক
নাটোরের বাগাতিপাড়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক জয়নুল আবেদিন ওরফে সেন্টুর স্নাতক শ্রেণীতে ইংরেজি বিষয় না থাকা সত্ত্বেও সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন। 
 
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণী/বিএড অথবা স্নাতক দ্বিতীয় শ্রেণীসহ সকল পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে পাঠ্য থাকার নির্দেশনা  আছে। 
 
প্রধান শিক্ষকের করা লিখিত অভিযোগ স্মারক নং-বাগাতি/(৪৭৫)/২০১৭ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ ও সদ্য সরকারী করণ প্রতিষ্ঠান বাগাতিপাড়া পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়’১৯৪৭ সালে স্থাপিত হয়। ২০০৩ সালে ওই বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আতিক হোসেন অবসর গ্রহণ করলে নতুনভাবে ওই পদে নিয়োগের সার্কুলার দেওয়া হয়। সে সময় ছয়জন আবেদনকারীর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী ছিল ইংরেজিতে স্নাতক। তারপরেও তাদের মধ্যে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে স্নাতক শ্রেণীতে ইংরেজি বিষয় না থাকা জয়নুল আবেদিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এমনকি প্রথম পর্যায়ে এ বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) ওমর আলীকে দেখানো হলেও পরে তাকে অসুস্থ দেখানো হয়। 
 
অভিযোগে আরো বলা হয়, তৎকালীন সময়ে প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আমজাদ হোসেন নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও নিয়োগ কমিটিতে নতুন বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব প্রাপ্ত উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন, সদস্য সচিব (প্রধান শিক্ষক বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুল মজিদ ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ সম্পন্ন করেন। তবে সে সময়ে বিএনপি নেতাদের চাপের কারণেই নিয়োগ কমিটি জয়নুল আবেদিনকে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয় বলে সূত্র নিশ্চিত করে।
 
এদিকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের ভিত্তি জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু তিনি ওই তদন্তে কি পেয়েছেন এমন তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের জানাতে ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ ওই প্রতিবেদনের অফিস নথি প্রায় পনের দিন যাবৎ খুঁজে পাওয়া যায়নি জেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে। 
প্রধান শিক্ষক খালিদ হোসেন লিটন জানান, অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষক জয়নুল আবেদিনের বিধিমোতাবেক স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয়ে ইংরেজি না থাকার পরেও তৎকালীন সময়ে অর্থের বিনিময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ নেয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার অসদাচরণ করার অভিযোগ রয়েছে। 
 
অভিযুক্ত ইংরেজি শিক্ষক জয়নুল আবেদিন সেন্টুর স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয় ইংরেজি ছিলো না স্বীকার করে নিজেকে কথিত পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বলেন, এতদিনের পুরনো বিষয় নিয়ে আর ঘাটা-ঘাটি করবেন না। আমি নিজেও একটি কাগজে লেখা-লেখি করি। 
 
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান শাহিন মোল্লা দাবি করেন, অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জয়নুল আবেদিন সেন্টুর পঠিত বিষয় ইংরেজি না থাকলেও তৎকালীন বিএনপি সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল ও স্থানীয় বিএনপির নেতা আমিরুল ইসলাম জামাল প্রভাব খাটিয়ে বিধি-বহির্ভূতভাবে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করে। আমি ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তার বেতন ভাতা বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তার এমপিও বাতিল করে পূর্বের সমুদয় বেতন ভাতার টাকা সরকারি খাতে ফেরতের ব্যবস্থা  নেওয়া হোক।    
 
এ ব্যাপারে জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ বলেন, ইংরেজি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাঠ্য থাকতে হবে। স্নাতক পর্যায়ে ইংরেজি বিষয়ে পাঠ্য না থাকলে নিয়োগ হবে না। নিয়োগ কমিটি এমন কাউকে নিয়োগ প্রদান করলে তার জন্য দায়ী থাকবে। এমনকি এমপিও হলে তা বাতিল হতে পারে এবং সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে বলে জানান তিনি। 
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬