শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

‘মাসের অধিকাংশ সময় কলেজে থাকেন না অধ্যক্ষ’

‘মাসের অধিকাংশ সময় কলেজে থাকেন না অধ্যক্ষ’
মেহেরপুর প্রতিনিধি০২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৯:৩০ মিঃ
‘মাসের অধিকাংশ সময় কলেজে থাকেন না অধ্যক্ষ’
মাসের দুই তৃতীয়াংশ সময় কলেজেই থাকেন না মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিউল ইসলাম সরদার। এমন অভিযোগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের। ফলে জেলার ঐতিহ্যবাহী সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠটি প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে অধ্যক্ষের দাবি কলেজের উন্নয়নের কারণেই তাকে বাইরে থাকতে হয়।
 
শনিবার এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে কলেজে গিয়ে দেখা যায়, অধ্যক্ষ কলেজে নেই। সহযোগী অধ্যাপক আবুদল্লাহ আল আমিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের পর থেকে তিনি এখনো পর্যন্ত কলেজে যোগ দেননি। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি নিলেও তিনি ৩ সেপ্টেম্বর কলেজে আসবেন বলে জানা গেছে।
 
অধ্যক্ষ অধ্যাপক শফিউল ইসলাম সরদার ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল মেহেরপুর সরকারি কলেজে যোগ দেন। যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি মাসের দুই তৃতীয়াংশ সময় কলেজে আসেন না বলে অভিযোগ উঠে। 
 
মেহেরপুর সরকারি কলেজের প্রধান সহকারী সালমা খাতুন জানান, গত ২৬ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অধ্যক্ষ ছুটি নিয়েছেন। তবে ছুটির কোন আবেদন মহাপরিচালকের দপ্তরে পাঠানো হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেন। এদিকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি নিলেও ৩ সেপ্টেম্বর অফিস করবেন বলে জানান তিনি। 
 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ স্যার কলেজে ঠিকমত আসেন না। ফলে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার পথে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যেও ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হবে। 
 
মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিএ ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, অধ্যক্ষ স্যার ঠিকমত কলেজে আসেন না। এ নিয়ে স্যারকে অভিযোগ করলে তিনি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কাজের অজুহাত দেখান। পাশাপাশি বিভিন্ন পুরস্কার নেওয়ার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে কলেজে আসতে পারেন না বলেও তিনি জানান। অধ্যক্ষ স্যারের উচিত হবে নিয়মিত কলেজ ক্যাম্পাসে থাকা। 
 
কলেজ শিক্ষক সমিতির সম্পাদক ফুয়াদ খান বলেন, অধ্যক্ষ স্যার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কলেজের উন্নয়নে বিভিন্ন সময় বাইরে থাকেন। তবে অধ্যক্ষ না থাকলে কলেজের শৃঙ্খলা ধরে রাখা কষ্ট হয়ে যায়।
 
অধ্যক্ষ অধ্যাপক সফিউল ইসলাম সরদার বলেন, কলেজের উন্নয়নে বেশি ব্যস্ত থাকি। যার কারণে আমাকে মাঝে মধ্যে ঢাকাতে থাকতে হয়। আমি আমার ব্যক্তিগত কাজে কখনো কলেজের বাইরে থাকি না। কলেজে বসে থেকে তো আর কলেজের উন্নয়ন করা সম্ভব না। 
 
তিনি আরো বলেন, আমি আসার পর কলেজে চারটি বিষয়ে অনার্স খুলেছি। দুটি বিজ্ঞান বিভাগের বিষয় অনার্স অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। তবে আমার বিরুদ্ধে কলেজে না থাকার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন। আগামী ৬ মাসের মধ্যে আমার কলেজের দৃশ্যমান উন্নয়ন বোঝা যাবে। 
 
ছুটির নেওয়ার বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, আবেদনটি মহাপরিচালকের দপ্তরে না পাঠিয়ে থাকলে প্রধান সহকারী ভুল করেছেন।
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩