শিক্ষাঙ্গন | The Daily Ittefaq

দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি, মার্চে সম্পন্নের প্রস্তুতি কর্তৃপক্ষের

দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি, মার্চে সম্পন্নের প্রস্তুতি কর্তৃপক্ষের
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ২০:৫২ মিঃ
দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি, মার্চে সম্পন্নের প্রস্তুতি কর্তৃপক্ষের
ডাকসু নির্বাচন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) পরিবেশ পরিষদের সভাতে দ্রুত ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এদিকে আগামী বছরের মার্চ মাসে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অক্টোবরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন শেষ হলেই ডাকসুর কাজ অনেকটা এগিয়ে যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে। 
 
রবিবার বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যলয় সংলগ্ন একটি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ পরিষদের সভায় এসব বলা হয়।  ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দীন, ঢাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী। 
 
ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ আবুল বাশার সিদ্দিক, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জিএম জিলানী শুভ, সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী সহ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র মৈত্রী, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী এবং বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
 
সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান কবে নাগাদ ডাকসু নির্বাচন দেয়া হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রভোস্ট কমিটি, শৃঙখলা পরিষদ ও সিন্ডিকেট থেকে একটি নির্দেশনা তো আগেই দেয়া আছে। ডাকসু নির্বাচনের জন্য কাজের যে লোড, যে কর্মপরিধি তা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের এই কমিটিগুলো একটা নির্দেশনা ইতোমধ্যেই দিয়েছে, সেটা হলো মার্চ ২০১৯। এই নিরিখে এখন পর্যন্ত আমাদের ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে। আশাকরি অক্টোবরের মধ্যে খসড়া যে ভোটার তালিকা সেটি প্রণয়ন করব। এই ভোটার তালিকা প্রণয়ন একটি জটিল কাজ। সেটি করতে পারলে অনেক এগিয়ে যাবো।
 
ডাকসু নির্বাচন দেয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সব দলের সহাবস্থান নিশ্চিত করা নিয়ে ছাত্রদের দাবি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, হলগুলোতে অবস্থানের জন্য প্রভোস্টবৃন্দ ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। মধুর ক্যান্টিন কেন্দ্রিক যে রাজনৈতিক চর্চা সেটি সকলের জন্য উন্মুক্ত। সেখানে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের যে কার্যক্রম চালাবে তাতে কারো জন্য প্রশাসন থেকে কোন বাধা নেই।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান আরও বলেন, প্রত্যেকটি ক্রিয়াশীল সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকল সংগঠনের নেতারাই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, সংসদীয় মূল্যবোধ সংরক্ষণ করে শিক্ষার্থীরা আলোচনা করেন। তাদের আলোচিত বিষয়গুলো আমাদের প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডি লিখে রেখেছেন। এটা নিয়ে পর্যালোচনা করে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।
 
সহাবস্থান চায় ছাত্রদল
সভা শেষে ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সহাবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও মধুর ক্যান্টিনে রাজনীতি করার যে স্বাভাবিক পরিবেশ তা নিশ্চিত করতে হবে। হলগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থাকার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। হলগুলোর ভীতিহীন পরিবেশ দূর করতে হবে। মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সিট বন্টন করতে হবে। নির্বাচন করবে ছাত্র সংগঠনগুলো। যখন বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে যখনই সহাবস্থান নিশ্চিত থাকবে তখনই ডাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ হবে বলে আমরা মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের কাছে আমরা একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।
 
 
নির্বাচনের পর ডাকসু চায় ছাত্রলীগ
আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগ। বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস। 
 
তিনি বলেন, বৈঠকে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছি। তবে আমরা নির্দিষ্ট কোনো টাইম ফ্রেম বেধে দেইনি। অনেক ছাত্র সংগঠন নভেম্বরের আগেই ডাকসু নির্বাচনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে আমাদের মনে হয়, প্রশাসনকে একটু সময় দেওয়া উচিত। কোনো কিছু ভালোভাবে করার জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন। ভোটার তালিকা ও অন্যান্য অনুষঙ্গ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে। আবার সামনে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। তাই আমার মনে হয়, নির্বাচনের আগে সুষ্ঠুভাবে ডাকসু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব না। তবে যদি হয়, তাহলে আমরা সাধুবাদ জানাব। আমাদের কোনো সমস্যা নেই। এই ছাত্রলীগ নেতা সভায় ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার সিদ্দিকী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে উল্লেখ করেছেন জানিয়ে সনজিৎ বলেন, আমরা এর নিন্দা জানাই।
 
ডাকসুর জন্য সুনির্দিষ্ট তারিখ চায় প্রগতিশীল জোট
ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী বলেন, নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ও তফসিল ঘোষণার কথা বলেছি। এর আগে সকল রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান নিশ্চিত করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমরা বলেছি ডাকসু নির্বাচন নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। কেননা এটি স্বতন্ত্র। তাই জাতীয় নির্বাচনের দিকে না তাকিয়ে শুধু ডাকসু নির্বাচনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, আইয়ুব খানবিরোধী আন্দোলনের সময় ডাকসু নির্বাচন হতে পারলে এখন কেন তা সম্ভব নয়? এর আগেও ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন হয়নি। প্রশাসনের কাছে দাবি রেখেছি যাতে এবারও এরকম কিছু না হয়। আমরা ডিসেম্বরের মধ্যে সুস্পষ্ট তারিখ চেয়েছি।
 
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সভাপতি ইমরান হাবীব রুমন বলেন, আমরা সুস্পষ্টভাবে বলেছি আগামী অক্টোবরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন দেওয়া উচিত। জাতীয় নির্বাচনের মারপ্যাঁচে আগের মতো এবারও উদ্যোগটা যেন ঝিমিয়ে না পড়ে। আমরা মনে করি এই সময়ের মধ্যে নির্বাচনটা হোক।
 
ইত্তেফাক/এমআই
 
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪