বিনোদন | The Daily Ittefaq

‘মধ্যবিত্ত দর্শকদের নিয়মিত হলে যাওয়ার অভ্যেসটি ফেরাতে হবে’

‘মধ্যবিত্ত দর্শকদের নিয়মিত হলে যাওয়ার অভ্যেসটি ফেরাতে হবে’
তানভীর তারেক২১ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ১০:৪৯ মিঃ
‘মধ্যবিত্ত দর্শকদের নিয়মিত হলে যাওয়ার অভ্যেসটি ফেরাতে হবে’
 
এদেশের অভিনয়শিল্পী আদর্শ ব্যক্তিত্বের নাম সূবর্ণা মুস্তাফা। হাজার হাজার তরুণীরা অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্নের সোপানে যখন হাঁটা শুরু করেন তখন তারা এক একজন সূবর্ণা মুস্তাফাই হতে চান। তাই আমাদের দেশের অভিনয়ের মানদণ্ড তিনি। অভিনয়ের দীর্ঘজীবনে নিজের প্রযোজনায় ‘গহীন বালুচর’ নামের চলচ্চিত্রের কাজ শেষ করলেন তিনি। 
 
চলতি সপ্তাহের মুক্তি পিছিয়ে ছবিটি মুক্তির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ২৯ ডিসেম্বর।  ছবিটি চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন বদরুল আনাম সৌদ। বিনোদন প্রতিদিনের সাথে কথা বললেন সেই প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই—
 
প্রথম প্রযোজকের ভূমিকায়। এই দায়িত্বটা কেমন?
 
এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে এখনকার চলচ্চিত্রের যে সংকটময় অবস্থা, তাতে মনে হচ্ছে দায়িত্বটা কঠিন। আমি যে সময় চলচ্চিত্রের প্রযোজনায় এসেছি তাতে দর্শকদের হলমুখি করানোটাও একধরনের বড় দায়িত্ব।
 
আমাদের চলচ্চিত্র নিয়ে দুই ধরনের কথা প্রচলিত। যেমন-অনেকেই বলেন, হলের পরিবেশ ভালো না বলে সাধারণ দর্শকদের অনেকেই হলমুখি হচ্ছেন না। আবার ছবির গল্প, প্রচারণায় এগিয়ে থাকলে দেখা যায়, ঠিকই সেই ছবিটি সিঙ্গেল স্ক্রিনেও হাউজফুল হয়ে যায়। বিষয়টি পরস্পর বিরোধী কি-না?
 
না, দেখুন... আমাদের মধ্যবিত্ত দর্শকদের হলে যাওয়ার পুরোনো অভ্যেসটি ফেরাতে হবে। আমার নিজেরই মনে আছে, কলেজ-ভার্সিটি লাইফে সপ্তাহান্তে হলে যেতেই হতো। সেটা কিন্তু কোনো ছবির বাছ-বিচারে না। একটা অভ্যেসের কারণে। আমাদের সিনেমা মাঝে কিছু অস্থিরতা ও অশ্লীলতার বিষাদে সেই অভ্যেসটা নষ্ট করে দিয়েছে। এখন বিনোদনের অনুসঙ্গও বেড়েছে, তাই বলে বাইরের দেশে কারোর অভ্যেস বদলায়নি মোটেও। সেই জায়গাটিতে আমাদের অনেককিছু করার আছে বলে মনে করি। কারণ আমরা পার্ক বা প্রিয় মানুষের কাছে বেড়াতে যেতে কিন্তু কোনো ক্যাটাগরি ভাগ করি না। আমরা প্রতি ছুটির বিকেল বা উইকেন্ডে সিনেমা হলে যাবো, সেই অভ্যেসটা তৈরি করা ভীষণ জরুরি।
 
‘গহীন বালুচর’ সেক্ষেত্রে কতটা আশাবাদ দেবে দর্শকদের?
 
আমি মনে করি, এটা নিরেট গ্রামের গল্প, বিনোদনের খোরাক জোগাবে। সেই মনপুরার পর কিন্তু এ রকম নিরেট গ্রামীণ পটভূমির ছবি হয়নি। আর আমাদের সেই গ্রামের টান তো প্রত্যেক বাঙালিরই আছে? সেক্ষেত্রে আমি, আমরা আশাবাদী।
 
বরিশালে আপনার দাদাবাড়িতে শুটিং হয়েছে। প্রথম আপনি সেখানে গেলেন। অনুভবের গল্পটা শুনতে চাই—
 
নানা কারণেই যাওয়া হয়নি। তাই প্রথম যখন গেলাম সেখানে, গ্রামের মানুষরা তাদের প্রিয় অভিনেত্রীর পাশাপাশি আরেক আবেগ-ভালোবাসার চোখ দিয়ে আমাকে দেখেছে। কথা কানাকানি করেছে যে, ওই যে নিজের দাদার ভিটায় এসেছে। আমাকে তাই অতি আদর আপ্যায়নেও থাকতে হয়েছে। আমরা বাঙালিরা তো এমনিতেই অতিথি পরায়ণ। কিন্তু এই যে দাদার ভিটায় এসে কাজ করা, তারা নিজেদের মতো করে যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়েছে তা অকল্পনীয়। আর বিশেষ স্মৃতি বলতে আমার দাদার কবরটা দেখা। এটা ছিল সত্যিই অন্যরকম। এমনিতে বাবার কাছে তো নানা গল্প শুনেছিলাম। সেক্ষেত্রে সেই গল্পের চিত্রনাট্যেও নিজের স্মৃতিকে ফেরাতে পেরেছি।
 
আপনার ছবিতে দু’জনের অভিষেক হচ্ছে। পরিচালক হিসেবে বদরুল আনাম সৌদের অভিষেক হচ্ছে, এ সম্পর্কে যদি বলতেন—
 
নীলা আর তানভীর তো প্রথমদিকে খুব নার্ভাস ছিল। পরে আমি নিজের মতো করে আদর করে কাছে টেনে নিয়েছি। আর সৌদ তো নিঃসন্দেহে একজন গুণী নির্মাতা। তাই পুরো টিমটা সে খুব গুছিয়ে কাজ আদায় করে নিয়েছে। আমাদের রোজ রাত ৩টায় কল টাইম থাকতো। অর্থাৎ ভোরের প্রথম আলোয় শুটিংয়ের জন্য। পুরো কাজটি তাই অনেক পরিশ্রমের। যা স্ক্রিনে দর্শকদের মুগ্ধ করবে। আর গানগুলো মনে করি, প্রাণ ছোঁয়া। ইমন সাহার কম্পোজিশনে প্রতিটি গান মনে দোলা দেওয়ার মতো।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:১৩
যোহর১২:১৩
আসর৪:২০
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৬:২৯সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪