বিনোদন | The Daily Ittefaq

গানের সুরে মানবতার বাণী

গানের সুরে মানবতার বাণী
আসিফুর রহমান সাগর১১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ০৪:০৫ মিঃ
গানের সুরে মানবতার বাণী
ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী হত্যার ঘটনা যখন পৃথিবী জুড়ে তোলপাড় তুলেছে তখন বাংলাদেশে বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে আসা শিল্পীরা গাইলেন মাটির গান, মানুষের গান। সঙ্গীতের সাত স্বরের আশ্রয়ে মানুষের মনে তারা ছড়িয়ে দিলেন শুদ্ধতম অনুভব। এই সুর আমাদের এক ভিন্ন পৃথিবীতে নিয়ে যায়। যেখানে হিংসার জন্ম হয় না। শিল্পীদের গানে সেই কথাই ফুটে উঠলো বারবার।
 
কিছুদিন আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইংল্যান্ডে কনসার্টে বোমা হামলা হয়ে গেল। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের থাবা। হোলি আর্টিজান ট্র্যাজেডির পরে বাংলাদেশও সেই সন্ত্রাসের আশঙ্কার বাইরে নয়। সেই সব শঙ্কা মাথায় নিয়েই আর্মি স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তের লোকসঙ্গীত শিল্পীরা। সেই গান শুনতে কড়া নিরাপত্তা পেরিয়ে হাজার হাজার দর্শক মিলিত হয়েছেন সেখানে সুরের টানে, গানের জন্য।
 
গতকাল মেরিল নিবেদিত আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উত্সব মেতে উঠেছিল বাংলাদেশের দৃষ্টিহীন শিল্পী শাহজাহান মুন্সী, আরিফ দেওয়ানের গানে। নেপালের কুটুম্বা দলের পাহাড়িয়া গানে, পাকিস্তানের মিকাল হাসান ব্যান্ডের ফোক রক, ভারতের নুরান সিস্টার্সের গানে।
 
নেপালের লোকগানের দল ‘কুটুম্বা’ পাহাড়িয়া সুরে নামিয়ে আনেন সমতলে। হিমালয়ের সুরে আসে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়াম। তাদের পরিবেশনা হূদয় ভরিয়ে দেয় শ্রোতাদের। কোক স্টুডিওয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পাওয়া এ লোকগানের দলটি নিজেদের পরিবেশনায় ব্যবহার করে দেশটির ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র- বাঁশের বাঁশি, সারেঙ্গী, মাদল, টুঙ্গা, ঢোল, ঝামটা, আরবাজো, ভুসায়া, চাল, চাবরাঙ এবং চাসায়া। সেসবের ব্যবহার ভিন্ন আমেজে ভরিয়ে তোলে ফোক ফেস্টের দ্বিতীয় দিনটি।
 
পাকিস্তানের ব্যান্ড হলেও ভারতের শিল্পীরাও এ দলের সদস্য। পাকিস্তানের সুফি রক ব্যান্ড দল মিকাল হাসান ব্যান্ড বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তাদের পরিবেশনার নতুনত্ব ও ইম্প্রোভাইজেশনের জন্য। দলের সদস্যরা কেউ পপ, রক মিউজিক, সোল মিউজিক এবং ব্ল্যাক রক মিউজিকে পারদর্শী। এরা সবাই মিলে যে সুরের জন্ম দিয়েছেন সেই সুফি রক বিশ্বজুড়ে তাদের বিশেষ গানের দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। গতকাল ঢাকার শ্রোতারা এ দলের গান শোনার সুযোগ পেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে বার্কলি মিউজিক কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে মিকাল হাসান গড়ে তোলেন এ গানের দল। পপ, রক, সোল ও ব্ল্যাক রকের সমন্বয়ে পরিবেশনা করা এ দলটি ১৭ বছর আগে লাহারে প্রতিষ্ঠিত পায়। বর্তমানে দলের সদস্যরা হলেন শিল্পী শর্মিষ্ঠা চট্টোপাধ্যায়, বাঁশিশিল্পী আহসান পাপু, বেজ গিটারিস্ট শেলভন ডি সিলভা ও ড্রামার গিনো ব্যাংকস।
 
এরপরে বাংলাদেশের দৃষ্টিহীন শিল্পী শাহজাহান মুন্সির পরিবেশনায় মেতে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। সবশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিলো ভারতের পাঞ্জাবের ছোট্ট শহর জলন্ধরের নুরান সিস্টার্স, জ্যোতি নুরান ও সুলতানা নুরান। ওস্তাদ গুলশান মীরের সুযোগ্য এ দুই কন্যা গতবছরেও মাতিয়ে গেছেন সুফি ফেস্টের মঞ্চ।
 
ছুটির দিনের সন্ধ্যার প্রথম পরিবেশনায় ছিলো বাংলাদেশের তরুণ লোকগানের দল ‘বাউলা। পাঁচ বছর আগে চারুকলা অনুষদে চৈত্র সংক্রান্তির অনুষ্ঠান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ লোকগানের দলটির পরিবেশনার শুরুতেই ছিলো ‘আমারে ছাড়িয়ারে বন্ধু’। তারা একে একে গেয়ে শোনায় মরমি কবি হেলাল উদ্দিন, রাধারমণ দত্তের গান। তারা শুনিয়েছে লোকগানের কিংবদন্তী শিল্পী লালন সাঁইজির গান।
 
দলের শিল্পীরা একে একে গেয়ে শোনায় ‘তোমায় আমি পাইতে পারি’, ‘রবে না এ ধন জীবন যৌবন’, ‘কেন যে নিঠুর বন্ধু সাড়া দিল না’, ‘কেমনে রাখো গো ফেলিয়া’।
 
বাউলার পরিবেশনা শেষ হতেই মঞ্চে বাংলাদেশের আরেক শিল্পী আরিফ দেওয়ান। পাঁচশতাধিক লোকগানের রচয়িতা এ শিল্পীর প্রথম পরিবেশনা দেহতত্ত্ব নিয়ে এক ভজন, গানটি তার নিজের লেখা। পরে তিনি পরিবেশন করেন তার লেখা মারফতি গান ‘ঘুড্ডি কে বানাইলো রে’, ‘যার কপালে যা লেইখাছে রে’, ‘হায় পিরীতি বুঝলো না রীতি’। পরে শোনান ভক্তিমূলক গান ‘শত জনমের বিরহগাঁথা’
 
আজ শনিবার ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উত্সবের শেষ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ছয়টায়। শুরুতে বাংলাদেশের প্রখ্যাত দুই লোকশিল্পী শাহ আলম সরকার ও আলেয়া বেগমের পরিবেশনা। এরপরে আরেক বাংলাদেশি শাহনাজ বেলীর পরিবেশনা। রাতের বাকি তিন আয়োজন বিশ্বের তিন প্রান্তের শিল্পীদের। মধ্যপ্রাচ্যের ইরানের লোকগানের দল রাস্তাক- এর পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসবেন ভারতের শান্তি নিকেতনের শিল্পী বাসুদেব দাস বাউল। এবারের আয়োজন সর্বশেষ পরিবেশনা আফ্রিকার দেশ মালির তিনারিওয়েনের।
 
ইত্তেফাক/রেজা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৫
এশা৭:০৮
সূর্যোদয় - ৫:৪৮সূর্যাস্ত - ০৫:৫০