বিনোদন | The Daily Ittefaq

এবার ঈদে আসছে আহসান আলমগীরের এক ডজন নাটক

এবার ঈদে আসছে আহসান আলমগীরের এক ডজন নাটক
অনলাইন ডেস্ক১২ জুন, ২০১৮ ইং ১৪:৪৬ মিঃ
এবার ঈদে আসছে আহসান আলমগীরের এক ডজন নাটক
সময়ের জনপ্রিয় নাট্যকার আহসান আলমগীর। ‘আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে’ ‘ঝামেলা আনলিমিটেড’ ‘ঘোড়ার ডিম’ ‘ঘটক বাকী ভাই’সহ অনেক জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের রচয়িতা তিনি। বর্তমানে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ঈদ নাটকের শেষ মুহূর্তের কাজ নিয়ে। এরই ফাঁকে কথা বলেছেন ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে।
 
প্রশ্নঃ দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। এবার আপনার কি কি নাটক আসছে?
 
আহসান আলমগীর: এবারের ঈদেও প্রায় এক ডজন নাটক নিয়ে আসছি দর্শকদের সামনে। ‘সুলতান’, ‘বরিশাল বনাম চট্টগ্রাম’, ‘থ্রি স্টুপিড’, ‘আঁঁর ননাই’, ‘পথ চেয়ে আছি’, ‘একটি সুন্দর গল্পের করুন সমাপ্তি’, ‘ভূত’, ‘ড্রিম গার্ল’, ‘দখিনা পবন’, ‘খুঁজে ফিরি আপনায়’, ‘আমি তোমাকেই খুঁজছি’ এগুলো পরিচালনা করেছেন দেবাশীষ বড়ুয়া দীপ তিনটি, মোহন খান দুটো, দীপু হাজরা দুটো, ফরিদুল হাসান, শাখাওয়াত শিবলী, ফিরোজ আহমেদ ও এমদাদুল হক খান।
 
প্রশ্নঃ কিছু দিন আগে নেপাল গিয়েছিলেন শুটিং করতে। সেখানে কেমন কাটালেন?
আহসান আলমগীরঃ প্রযোজক বোরহান খান বন্ধু মানুষ, উনি ঈদের জন্য অনেকগুলো নাটক নেপালে শুট করলেন। আমার লেখাসহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয়ও করলাম। এবার আমার ঈদের জন্য নির্মিত নাটক গুলো নেপাল, ভারত, কক্মবাজার, শ্রীমঙ্গল, বান্দরবানসহ আউটডোর লোকেশনে সুটিং হয়েছে।
 
প্রশ্নঃ ধারাবাহিকের কি অবস্থা?
আহসান আলমগীরঃ সারা বছর আমাকে ধারাবাহিক লেখা নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রায় সোয়া দুইশ পর্বে শেষ হলো ‘ঝামেলা আনলিমিটেড’ প্রতি মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৮.৩০ মিনিটে একুশে টিভিতে নিয়মিত প্রচারিত হচ্ছে ‘চিরকুমারী ক্লাব’। নাটকটি এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, ইতিমধ্যে ৮৫ পর্ব প্রচারিত হয়ে গেছে। এটি পরিচালনা করছেন স্বাধীন ফুয়াদ, প্রযোজক রফিকুল ইসলাম। এটিএন বাংলায় প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় প্রচার চলছে “নানা রঙয়ের মানুষ” এটি পরিচালনা করছেন মজিবুল হক খোকন। মাসে নিয়মিত ২৫-৩০ পর্ব নাটক প্রচারে থাকে।
 
প্রশ্নঃ এত লেখার সময় পান কি করে?
আহসান আলমগীরঃ লেখাই এখন আমার পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 
প্রশ্নঃ ঝামেলা আনলিমিটেড নিয়ে বেশ ঝামেলার কথা শোনা গিয়েছিলো?
আহসান আলমগীরঃ কপিরাইট করা সত্তেও আমার রচিত নাটকটি শেষ দিকে এসে অন্য রচয়িতার নামে প্রচার শুরু হয়েছিলো। এটা সরাসরি কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন। বিষয়টি আমি চ্যানেলে অবহিত করেছিলাম। চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নাটকটি প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে। এখনো নাটকটির সম্মানীর কিছু টাকা পাওনা রয়ে গেছি। সংগঠনগুলোর কাছে আমি লিািখত অভিযোগ করেছি, এখনো এই বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। ঈদের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। সাংগঠনিক ভাবে সুরাহা না হলে আমি আইনি ব্যবস্থা নেবো।
 
প্রশ্নঃ আপনিতো সংগঠনের দায়িত্বও পালন করছেন?
আহসান আলমগীরঃ দ্বিতীয় দফায় ‘টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ’র অর্থ সচিবের দায়িত্ব পালন করছি। সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য আমরা সবাই কাজ করে যাচ্ছি।
 
প্রশ্নঃ পরিচালনায় কি দেখা যাবে আপনাকে ?
আহসান আলমগীরঃ অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আর্টিস্ট শিডিউল একটা কঠিন যন্ত্রণা। মূলত এই ভয়েই পরিচালনায় আসছি না। কয়েকটি গল্প একান্তই নিজের জন্য রেখে দিয়েছি। আজ না হয় কাল পরিচালনায় আসবোই।
 
প্রশ্নঃ নাটকের দর্শক কমে যাচ্ছে, এর কারন কি বলে আপনি মনে করেন ?
আহসান আলমগীরঃ একটা প্রবাদ আছে “চুন খেয়ে মুখ পুরেড়ছি, দই দেখে ভয় পাই” এর মানে হচ্ছে আস্থার সংকট। আমাদের চ্যানেল গুলো অত্যাধিক বিজ্ঞাপন চালিয়ে দর্শকের আস্থা নষ্ট করে ফেলেছে। দর্শক কখনোই পুরো নাটক দেখতে পারেনা। একবার বিজ্ঞাপন শুরু হলে কখন শেষ হবে বোধ হয় চ্যানেল কর্তৃপক্ষও বলতে পারেনা। নাটক শুরু এবং শেষের টাইম ম্যান্টেইন করা হয়না। একটা নাটকের দুই চারটা দৃশ্য দেখে কখনোই ঔ নাটকের প্রতি দর্শকের ভালোলাগা তৈরী হবেনা। শতাধিক চ্যানেলের ভিড়ে আপনার চ্যানেলে দর্শককে আপনি কিভাবে আঁঁটকে রাখবেন, এই পলিসি চ্যানেল কর্তৃপক্ষকেই বের করতে হবে।
 
প্রশ্নঃ আপনার পরামর্শ কি ?
আহসান আলমগীরঃ বিদেশি চ্যানেল গুলো যথাযথ শিডিউল ম্যান্টেইন করে বলে দর্শক জানে কখন কোন নাটকটা প্রচার হবে, দর্শকও ঘড়ি ধরে অপেক্ষায় থাকে। আমাদের চ্যনেল কতৃপক্ষ ও বিজ্ঞাপন এজেন্সি গুলোর ধারনা, লোকাল ষ্টার ছাড়া দর্শক নাটক দেখেনা। আমার প্রশ্ন বিদেশী চ্যানেলের নাটকে কি জাহিদ হাসান মোশারফ করিম অভিনয় করে ? সব অচেনা আর্টিস্ট, ঐগুলো দর্শক কেন দেখে। ষ্টার নির্ভর নাটক নিয়ে বর্তমানে আমাদের চ্যানেল গুলো যেই কাড়াকাড়ি করছে, আমার ধারনা এটা তাদের ভুল ধারনা। দর্শককে নাটক দেখার সুযোগ করে দিতে হবে। তখন আর্টিস্ট কে থাকলো না থাকলো তাতে কিছু যাবে আসবেনা। ভালো গল্প, ভালো পরিচালনা ভালো অভিনয় হলে দর্শক নাটক দেখবেই।
 
প্রশ্নঃ উত্সব কেন্দ্রিক নাটক দেখে, কিন্তু সিরিয়াল সেভাবে দর্শক ধরে রাখতে পারেনা।
আহসান আলমগীরঃ এর কারণ হচ্ছে এখন আর সপ্তাহে দুই দিন নাটক চালালে দর্শক গল্পই ভুলে যায়। সেই ক্ষেত্রে ডেইলি সোপের বিকল্প নাই। একটা টিম একটি ডেইলী সোপ নিয়ে থাকলে, অন্য কোন কাজ না করলে কাজটা ভালো হতে বাধ্য। প্রতিদিন একটা নাটক দেখলে দর্শক গল্পে আটকে যাবে, এছাড়া সিরিয়াল জনপ্রিয় হবেনা।
 
প্রশ্নঃ আপনাকে এখনো ফিল্ম লিখতে দেখা যায়নি।
আহসান আলমগীরঃ ফিল্মের অনেক অফার পেয়েছি, কিন্তু গতানুগতিক ফিল্ম লিখে যেটুকু অর্জন করেছি, তা হারাতে চাই না। মৌলিক গল্পের ফিল্ম বানাতে এগিয়ে এলে অবশ্যই ফিল্ম লিখবো।
 
প্রশ্নঃ এবার আপনার ব্যাক্তিগত বিষয়ে জানবো, লেখালেখি ছাড়া অন্য কিছু কি করছেন?
আহসান আলমগীরঃ আমার একটা ফুড ফ্যাক্টরি আছে টঙ্গিতে। লেখালেখির পাশাপাশি ব্যবসায় সময় দিই।
 
প্রশ্নঃ আপনার জম্মস্থান, পরিবার।
আহসান আলমগীরঃ আমার জম্মস্থান লক্ষীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চরশাহী আইউব মিঞার বাড়ি। পরিবারে মা ভাই বোন স্ত্রী ও দুই সন্তান আছে।
 
প্রশ্নঃ ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি ?
আহসান আলমগীরঃ পরিকল্পনা করে আমার কখনো কিছু হয় না। এত লেখার পরেও মনে হয় আমি আমার সেরা লেখাটা এখনো লিখতে পারিনি। নিজেকে আরো পরিনত করতে চাই।
 
প্রশ্নঃ আপনার জন্য শুভ কামনা।
আহসান আলমগীরঃ আপনাকে ধন্যবাদ, দৈনিক ইত্তেফাকের পাঠকদের জন্যও শুভকামনা রইলো।
 
ইত্তেফাক/এএম
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬