বিনোদন | The Daily Ittefaq

চলচ্চিত্রে শিল্পীসত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চান জাহিদুর

চলচ্চিত্রে শিল্পীসত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চান জাহিদুর
অনলাইন ডেস্ক০৭ জুলাই, ২০১৮ ইং ২১:১৫ মিঃ
চলচ্চিত্রে শিল্পীসত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চান জাহিদুর
দীর্ঘ ১৫ বছর প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার হিসাবে ছবি তোলার মাধ্যমে জাহিদুর রহমান বিপ্লব বাংলাদেশের মৌলিক সৌন্দর্য্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য, ভাষা, মুক্তিযুদ্ধ, জীবনযাপনসহ সর্বোপরি বাংলাদেশকে ধারণ করেন একটি নান্দনিক ফ্রেমে যার বহিঃপ্রকাশ তিনি দেখাতে চান তার শিল্পীসত্তা দিয়ে। 
 
স্থিরচিত্রের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বপ্ন গত ৭-৮ বছর ধরে মনে-প্রাণে লালন করছেন জাহিদুর রহমান বিপ্লব। তিনি বলেন, দেশকে ভালোবাসা বা  দেশের জন্য ভালো কিছু করার নিমিত্তে প্রথাগত চেয়ার বা পজিশনের দরকার পড়ে না; দরকার পড়ে নির্ভেজাল  মানসিকতা, সততা  ও দেশপ্রেম !' সেই ধারাবাহিকতা থেকে এই ফটোগ্রাফার মনোনিবেশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাণে। কাহিনী ভালো হওয়ায় প্রথম চলচ্চিত্রেই অর্জন করেছেন সরকারি অনুদান। 
 
২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সরকারি অনুদানের জন্য মনোনীত হয়েছে জাহিদুর রহমান বিপ্লবের পরিচালনায় ‘ওমর ফারুকের মা’স্বল্পদৈর্ঘ্য (৩৫-৪০ মিনিট) চলচ্চিত্র। সংগ্রহিত কাহিনীটি মুক্তিযুদ্ধের একটি সত্য ঘটনার ছায়া অবলম্বনে মূলভাবনা, গল্প, পরিচালনা, প্রযোজক, ক্যামেরা পরিচালনা ও সিনেমাটোগ্রাফি জাহিদুর রহমান বিপ্লবের নিজের। চিত্রনাট্য করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কাহিনিকার ও চিত্রনাট্যকার মাসুম রেজা। গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও বর্তমানের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবর্তিত। প্রধান চরিত্র মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুকের মা। যুদ্ধ শেষে ওমর ফারুক আর ফিরে আসেনি। কিন্তু মা এখনো বিশ্বাস করে তার সন্তান একদিন ঠিকই ফিরে আসবে। 
 
গল্পটি পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ স্বরূপকাঠি উপজেলার স্বরূপকাঠি নামক স্থানের একজন মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক আর তার মায়ের। ২১ বছরের যুবক ওমর ফারুক ছিলেন পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি। ওমর ফারুক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভীক যোদ্ধা স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলে ওমর ফারুক যোগ দেন স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস গ্রুপে। ১৯৭১ সালে ২৩ মার্চ পিরোজপুরের টাউন ক্লাব চত্বরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন ওমর ফারুক, পুড়িয়ে ফেলেন শহরের যত পাকিস্তানি পতাকা। ঐদিন সন্ধ্যায় অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে পিরোজপুরের ট্রেজারি ভেঙে লুট করেন অস্ত্র। আত্মগোপনে থেকে সুসংগঠিত করতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধাদের। যুদ্ধের সময় এক রাতে মাকে কথা দিয়ে গিয়েছিল রাত্রে ফিরে মায়ের হাতে ভাত খাবে। ওমর ফারুকের আর ফেরা হয়নি। 
 
৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে, পার হয় নাই ওমর ফারুকের মায়ের অপেক্ষা! মা আজও ছেলের অপেক্ষায় তিনবেলা হাঁড়িতে ভাত বসান, রাতে সদর দরজা খোলা রাখেন ছেলের অপেক্ষায়,  ছেলে আসবে সেই বিশ্বাসে!
 
ওমর ফারুকের সাথে নদী নামের একটি মেয়ের প্রণয় ছিল কলেজে পড়ার সময়,  যে ওমর ফারুকের মায়ের সাথে তার সারাজীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে ওমর ফারুকের স্ত্রীর আসনে সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধার অনেক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে চলছে নদী ! নদী জানে ওমর ফারুক আর ফিরে আসবে না আর তাই সে ওমর ফারুকের স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়ন করে চলছে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, নারী অধিকারসহ নানান সামাজিক কার্যক্রমে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি
 

 

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪