বিনোদন | The Daily Ittefaq

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে দুই বাংলার নির্মাতাদের বক্তব্য

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে দুই বাংলার নির্মাতাদের বক্তব্য
বিনোদন রিপোর্ট১৫ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ০৪:২৮ মিঃ
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নিয়ে দুই বাংলার নির্মাতাদের বক্তব্য

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্মাণ নিয়ে দুই বাংলার পরিচালকদের মধ্যে চলছে নানা কথপোকথন। এর নেপথ্যে রয়েছে ছবির সম্ভাব্য পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশের কাছে ভারত সরকারের ৩ জন নির্মাতার নাম প্রস্তাব। তারা হলেন শ্যাম বেনেগাল, গৌতম ঘোষ ও কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়। খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর সৃষ্টি হয়েছে নানা তর্ক-বিতর্ক। দেশীয় পরিচালকরা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক দেশের বাইরের চলচ্চিত্র নির্মাতা কেন নির্মাণ করবেন? তারা কি বাংলাদেশের বাঙালির আবেগ বুঝবে? অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা বানানোর মতো যোগ্য এবং দক্ষ পরিচালক কি বাংলাদেশে নেই? ওপার বাংলার পরিচালকরা বলছেন, তারা সেলুলয়েডের পর্দায় বঙ্গবন্ধুকে সঠিকভাবেই তুলে ধরতে পারবেন।

 

চলতি বছরের ১২ জুলাই দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকটি ২০২০ সালের ১৭ মার্চ তার জন্মশতবার্ষিকীর ঠিক আগে মুক্তি দেওয়া হবে। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে ছবির নির্মাতা প্রসঙ্গে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছে এই ৩ জনের নাম প্রস্তাব করেছে ভারত। ভারতের পরিচালকদের নাম উঠে আসতেই বাংলাদেশে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পক্ষে-বিপক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে। যদিও চলচ্চিত্রটি কে নির্মাণ করবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হবে।

 

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক নির্মাণে দু-বাংলার পরিচালকদের এই তর্কযুদ্ধ প্রসঙ্গে কলকাতার পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে যত বলবো ততোই বাড়বে। এসব বিষয় ভাগাভাগির না। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলকে তো আমরা ভাগ করিনি, গান-বাজনা-শিল্পী-গুণীজন-মহান ব্যক্তিত্বদের ভাগাভাগি হয় না। তারা কখনো একটা দেশের হন না। তাদেরকে নিয়ে সবাই কাজ করতে পারে। বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও ভাগাভাগি করা ঠিক না। দেখুন, আমরা এমন একটা জায়গায় থাকি যেখান থেকে মাত্র দুই আড়াই ঘণ্টার পথ পেরুলেই আর একটা আলাদা দেশ শুরু হয়ে যায়। আমার শৈশবে সেই দেশটা ভাগ হয়েছিল। আর আজ সেই দেশের জন্ম যার হাতে, তাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে পারলে আমি যে অসম্ভব সম্মানিতবোধ করবো, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’

 

তবে ভারতীয় এই পরিচালকের কথা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। তার মতে, ভারতীয়রা কোনোভাবেই এদেশের মানুষের আবেগ দিতে পারবে না। কারণ তারা তো এদেশের মানুষের মতো বঙ্গবন্ধুকে হূদয়ে ধারণ করে না, সেভাবে বঙ্গবন্ধুকে জানে না। চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘এটা অনেক কঠিন কাজ। আমাদেশের দেশে অনেক ভালো পরিচালক আছেন, যারা এই বায়োপিক বানানোর যোগ্যতা রাখেন। শ্যাম বেনেগাল রোমান্টিক কিংবা পলিটিক্যাল ছবি বানাতে পারবেন, গৌতম ঘোষ পদ্মানদীর মাঝি বানাতে পারবে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক বানাতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধুকে তো তারা জানেন না, তাহলে কিভাবে ছবি করবেন? হূদয়ের ভেতরে বাস করতে হবে পরিচালকের। এটা তো সবার ক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।’
 

 

অন্যদিকে, নির্মাতা-অভিনেতা তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক যেকোনো দেশ থেকেই হতে পারে। যে-ই নির্মাণ করুক, চলচ্চিত্রটি যেন যোগ্য নির্মাতার হাতেই নির্মিত হয়। বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরে ভীষণভাবে গ্রহণযোগ্য একজন মানুষ। তার ওপর কাজ করতে গেলে অনেক বেশি যত্ন এবং গবেষণার দাবি রাখে। কারণ চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলন থেকে পঁচাত্তরের কালো রাত্রি-সবই তুলে আনতে হবে। বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক যদি বড়মাপের বিদেশি কোনো নির্মাতা নির্মাণ করেন, তার সঙ্গে সহকারি হিসেবে যেন বাংলাদেশি কাউকে রাখা হয়। এতে কাজটি আরো ভালো হবে।’

 

কলকাতার গৌতম ঘোষের কথাগুলোও প্রায় তৌকীর আহমেদের মতো। তার কথায় খুবই ‘ইন্টারেস্টিং প্রজেক্ট’ হবে এটা। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের একজন পরিচালকও এই প্রজেক্টে থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গান্ধীকে নিয়ে সেরা ছবিটা একজন বিদেশিই বানিয়েছেন, অ্যাটেনবরো।

 

উপমহাদেশের নেতাদের বায়োপিক নির্মাণ বিতর্কিত বা স্পর্শকাতর উল্লেখ করে কলকাতা শ্যাম বেনেগাল বলেন,  ‘আমি নিশ্চিত যে, বাংলাদেশেও এই কাজের জন্য প্রচুর দক্ষ লোকজন আছেন, তারাও নিশ্চয় সুযোগ পেলে বঙ্গবন্ধুর ওপর দারুণ একটা ফিল্ম বানিয়ে দেখিয়ে দেবেন। কিন্তু ছবিটা শেষ পর্যন্ত কাকে দেওয়া উচিত, তা অনেক ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। আমাদের উপমহাদেশে এগুলো সবসময়ই খুব বিতর্কিত বা স্পর্শকাতর বিষয়, আমি এর বেশিকিছু বলতে চাই না।’

 

নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম মনে করেন ভারতীয় পরিচালকরা দক্ষতা ঠিকই, কিন্তু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সিনেমা বানানোর মতো দক্ষতা তাদের নেই। কারণ এটা আবেগের ব্যাপার। বাংলাদেশিদের আবেগ অন্যরা বোঝা খুবই কঠিন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাঙালির আবেগ ওরা বুঝবে কিভাবে? বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সিনেমা বানানোর যোগ্য নির্মাতা আমাদের দেশে আছেন। এই ইমোশন বলার জন্য বাংলাদেশের বাঙালিই দরকার। পশ্চিম বাংলার বাঙালি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ইমোশন বলবে—এটা তো হয় না। আমি চাই বাংলাদেশের কেউ বায়োপিকটা নির্মাণ করুক।’ বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের নির্মাতা নির্বাচন নিয়ে এখনো তর্ক-বিতর্কের অবসান হয়নি। চলতে থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত না বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ঘোষণা আসে। তবে এটা নিশ্চিত, যে পরিচালকই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়ে বায়োপিক নির্মাণ করুক তাকে অনেক রিসার্চ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। বাংলাদেশের বাঙালির আবেগ বুঝতে হবে।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩