লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

দুই কোটি বাংলাদেশি বিষণ্নতায় আক্রান্ত

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস
দুই কোটি বাংলাদেশি বিষণ্নতায় আক্রান্ত
*আত্মহত্যার ৭০ ভাগই বিষণ্নতার জন্য *বিষণ্নতায় আক্রান্তদের অনেকে জঙ্গিবাদ বেছে নিচ্ছে *চিকিত্সকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আবুল খায়ের০৭ এপ্রিল, ২০১৭ ইং ০৪:০৪ মিঃ
দুই কোটি বাংলাদেশি বিষণ্নতায় আক্রান্ত

‘বাংলাদেশের ১২ দশমিক ৭ ভাগ মানুষ বিষণ্নতায় ভোগেন। অর্থাত্ ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে বিষণ্নতায় ভোগা রোগীর সংখ্যা দুই কোটির বেশি।’ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। অর্টিজম ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপার্সন প্রখ্যাত মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘এই বিষণ্নতা থেকেই তরুণ-তরুণীরা বিপথে চলে যাচ্ছে। যারা উগ্রবাদে জড়াচ্ছে তাদের অধিকাংশই এই বিষণ্নতায় ভোগা রোগী। ফলে এখনই এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে আর ১০ বছরে অর্ধেক মানুষ এই বিষণ্নতায় ভোগা রোগী হয়ে যাবে।’

চিকিত্সকরা বলছেন, বিষণ্নতা এক ধরনের শারীরিক ও মানসিক রোগ। এটা আপনা আপনি ভালো হয়ে যায়। আবার অনেক সময় ভালো হয় না। তবে অবশ্যই এটা নিরাময়যোগ্য রোগ। এটা মানুষকে ধ্বংস করে দিতে পারে। বিষণ্নতায় ভোগার কারণে একটা লোক শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষম হয়ে যেতে পারেন।

মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘২০০৫ সালে বিষণ্নতায় ভোগা রোগী ছিল ৪ ভাগ। সর্বশেষ ২০১৬ সালের হিসাবে দেখা গেছে এটা বেড়ে হয়েছে ১২ দশমিক ৭ ভাগ। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালে এটা প্রায় ৫০ ভাগে পৌঁছে যাবে। অথচ এটা নিয়ে কেউ গুরুত্ব দেয় না।’ তিনি বলেন, এবার    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। আজ শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এসব বিবেচনায় এবারের স্বাস্থ্য দিবসের মূল প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘আসুন, বিষণ্নতা নিয়ে কথা বলি’। একই মতামত দিয়েছেন প্রখ্যাত মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল। বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে এই বিষয়ে তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সারা বিশ্বে যখন সন্ত্রাসবাদ, উগ্রবাদ শুরু হল তখন এটা নিয়ে মনোবিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেন। ১৪টি দেশ মিলে এই গবেষণা কাজ করছে। এর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। বাংলাদেশের পক্ষে ওই গবেষণা টিমে কাজ করছেন মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. গোলাম রাব্বানী। তিনি বলেন, মনোবিজ্ঞানীরা এখন এটা নিয়ে বিষদভাবে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত গবেষণার যে ফল তাতে দেখা গেছে, ‘সারাবিশ্বের অর্ধেক মানুষ বিষণ্নতায় ভোগেন। হতাশা থেকে আসে বিষণ্নতা। বিষণ্নতা থেকে উগ্রবাদে জড়াচ্ছে উঠতি বয়সের যুবকরা। যা বিশেষজ্ঞদের খুবই দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে।

১৪টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ পৃথকভাবেও গবেষণা করছে। সেই গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, কিডনিসহ এই ধরনের অসংক্রামক ব্যাধিতে যারা আক্রান্ত তাদের বেশিরভাগই বিষণ্নতায় ভোগেন। যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের ২৭ ভাগ বিষণ্নতায় ভোগেন, হূদরোগের আক্রান্তদের ৪৬ ভাগই বিষণ্নতায় ভোগেন। ক্যান্সারের আক্রান্তদের ৫৪ ভাগ বিষণ্নতায় ভোগেন। ফলে এরা দ্রুত মৃত্যুর দিকে চলে যাচ্ছেন। ওই গবেষণায় দেখা গেছে, আত্মহত্যার ঘটনার ৭০ ভাগই বিষণ্নতায় ভোগেন। এর মধ্যে যাদের বয়স ২০ থেকে ৪০ বছর তারাই বেশি। বলা হয়, অসংক্রামক ব্যাধির সত্ ভাই হল এই বিষণ্নতা।

বাংলাদেশে আত্মহত্যার সবচেয়ে বেশি প্রবণতা ঝিনাইদহ ও যশোরে। দেশে মোট আত্মহত্যার বড় অংশ ওই এলাকায়। সেখানে ২৫ বছরের কম বয়সী ৬৭ ভাগ গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। গোলাম রাব্বানী বলেন, এই রোগে যারা ভোগের তাদের সাহস দেওয়া দরকার। স্বজনদের সবসময় তাদের পাশে থাকতে হবে।

প্রখ্যাত মনোরোগ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, ‘যে কোনো কারণে হতাশা, আর এই হতাশা থেকে বিষণ্নতা। ওই সময় তার কোনো কাজ ভালো লাগে না। বিষণ্নতার দিকে মনোযোগ না দিলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সামাজিকভাবেও এর প্রভাব পড়ে। পরিবার ও সমাজকে রক্ষা করতে বিষণ্নতায় ভোগা রোগীদের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। না হলে ভবিষ্যতে আমাদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে হবে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিষণ্নতা বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। এই রোগ সম্পর্কে মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। গ্রামাঞ্চল থেকেও চিকিত্সকরা এসে এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৯ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৬
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৪সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭