লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করতে হবে হার্টের রিং

নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করতে হবে হার্টের রিং
*সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে একই দামে বিক্রি হবে *রিংয়ের গায়ে মূল্য লেখা থাকবে *বিক্রি বন্ধ রেখেছেন আমদানিকারকরা
আবুল খায়ের১৯ এপ্রিল, ২০১৭ ইং ২৩:৩৬ মিঃ
নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করতে হবে হার্টের রিং

গত মঙ্গলবার হার্টের রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় রিংয়ের মূল্য নির্ধারণে ১৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে জাতীয় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। এই কমিটি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় রিংয়ের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ একটি মূল্য নির্ধারণ করবে আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে। এ ছাড়া হার্টের রিংয়ের গায়ে মূল্য লেখা থাকবে। পরবর্তী সময়ে অধিদফতরের নির্ধারিত মূল্যেই আমদানিকারক ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো রিং বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে।

এদিকে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর কর্তৃক হার্টের রিংয়ের মূল্য নির্ধারণের কমিটি গঠনের ঘোষণার পর জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রিং বিক্রি বন্ধ রেখেছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। সূত্র জানায়, হূদরোগ হাসপাতালে গতকাল বুধবার কোনো রোগীকে রিং পরানো হয়নি। তবে রোগীকে রিং পরানো ছাড়া বাকি কাজ হয়েছে।

দেশে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগীকে রিং পরানো হয়। গতকাল যেসব হাসপাতালের স্টকে ছিল তারা রিং পরাতে পেরেছেন। দীর্ঘদিন ধরে হার্টের রিং পরানো নিয়ে বাণিজ্য হয়ে আসছে। মেডিকেটেড রিং সবচাইতে দামি। অন্যদিকে নন মেডিকেটেড রিংয়ের দাম তুলনামূলক কম। তবে রোগীদের কাছে নিম্নমানের রিং দিয়ে উন্নতমানের রিংয়ের দাম নেওয়া হয়। ডাক্তার এবং প্রাইভেট সাপ্লাইয়ের দালাল মিলে শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে।

রিং বাণিজ্যের বিষয়টি ধরা পড়েছে বিদেশে রিং পরাতে গিয়ে। অনেককেই নিম্নমানের রিং পরানো হয়েছে উন্নতমানের বলে। তবে রিং পরানোর ৫-৬ মাসের মধ্যে ইনফেকশন দেখা দেয়। ফের রিং পরানো হলে রোগীদের আবারও ইনফেকশন হয়। উপায় না পেয়ে বিদেশে গেলে চিকিত্সকরা জানান, পরানো রিং ছিল নিম্নমানের।

জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক আফজাল হোসেন খান বলেন, ধর্মঘটের বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি। তবে ধর্মঘট ডাকা তাদের ঠিক হয়নি। রিং পরানো ছাড়া বাকি সব কাজ হয়েছে বলে তিনি জানান।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড ডিভাইস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, হার্টের রিংয়ের গায়ে নির্ধারিত মূল্য (এমআরপি) লেখা থাকবে। ব্যবসায়ী এবং রোগী উভয় পক্ষের কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা দেখা হবে।

বাংলাদেশ কার্ডিওভাসকুলার ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড ডিভাইস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গাজী একে শাহীন বলেন, ধর্মঘটের বিষয়টি একটি ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তবে ধর্মঘট প্রতীকী ছিল। দেশে ২২টি প্রতিষ্ঠান হার্টের রিং সরবরাহ করে বলে তিনি জানান।

এদিকে রিংয়ের মূল্য নির্ধারণের এই বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন হূদরোগ বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা বলছেন, প্রতারকরা বসে থাকবে না। তারা হয়তো নতুন কোনো ফন্দিতে প্রতারণা করবেন। এই বিষয়ে সতর্ক থাকার এবং নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রিং পরানো নিয়ে কমিশন বাণিজ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও চিকিত্সক। শতাধিক চিকিত্সক ও রিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করছে হার্টের রিং বাণিজ্য। দু পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পরই রিং বিক্রি হয়। রোগীকে একটি রিং পরানো বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা চিকিত্সককে কমিশন দেন ব্যবসায়ীরা। এতে রিংয়ের মূল্য বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ এ কমিশন বাণিজ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, হার্টের রিং নিয়ে বাণিজ্য বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। মূল্য নির্ধারণী বা এমআরপি বাধ্যতামূলক থাকতে হবে। রোগী এবং ব্যবসায়ী কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কঠোরভাবে মনিটর করা হচ্ছে। কেউ আর প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারবে না। যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৭ জুন, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০২
আসর৪:৪২
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭