লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

কেমন পশু কুরবানি দিব

কেমন পশু কুরবানি দিব
মো. আবু তালহা তারীফ২৮ জুলাই, ২০১৭ ইং ১১:৪৭ মিঃ
কেমন পশু কুরবানি দিব
 
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদ আসন্ন। এক মাসের চেয়ে কিছুটা বেশি সময় বাকি। তবে কুরবানির উদ্দেশ্যে এখন হতেই পশু নির্বাচন তথা ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়ে গেছে। যদিও ঢাকা শহরে কুরবানির হাট বসবে ঈদের দুই-এক সপ্তাহ আগে থেকে।
কুরবানি শব্দটি আসলে ‘কুরবানুন’ শব্দ থেকে এসেছে। অর্থ নৈকট্য লাভ করা। কুরবানির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা যায়। এটা মুসলমানদের একটি আদর্শ। ঈদুল আজহার নামাজের পর থেকে শুরু করে অর্থাৎ জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানির সময়। রাসুল (স) বলেন, যে ঈদের সালাতের পর কুরবানির পশু জবেহ করল, তার কুরবানি পরিপূর্ণ হল ও  সে মুসলিমদের আদর্শ সঠিকভাবে পালন করল।’ (বোখারী-৫৫৪৫)
 
কুরবানি করার জন্য আল্লাহ তায়ালা নির্দিষ্ট পশু নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সূরা আনআমের ১৪৩ ও ১৪৪নং আয়াতে  মোট আট ধরনের কুরবানির পশুর কথা উল্লেখ রয়েছে, তাহল- ভেড়া বা দুম্বা, ছাগল, গরু ও উট এই প্রত্যেকের নর ও মাদী হিসেবে আট প্রকার। এই নির্দিষ্ট পশু দ্বারা কুরবানি করতে হবে। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি। যে সকল চতুষ্পদ জন্তু দেওয়া হয়েছে সেগুলোর উপর যেন তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।’ (সূরা হজ-৩৪)। কুরবানির জন্য নির্দিষ্ট পশু যেমন রয়েছে তেমনিভাবে পশুর বয়সের সময়সীমা রয়েছে। কুরবানি করার জন্য উটের পাঁচ বছর, গরু বা মহিষ দুই বছর, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এক বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। পশুর বয়সের ব্যাপারে রাসুল (স) বলেন, ‘তোমরা অবশ্যই নির্দিষ্ট বয়সের পশু কুরবানি করবে তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর হলে ছয় মাসের মেষ শাবক কুরবানি করতে পার।’ (মুসলিম-১৯৬৩)
 
কুরবানি হল আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের জন্য পশু জবেহ করা। আল্লাহ তায়ালা সূরা হজের ৩৭নং আয়াতে বলেন, কুরবানির পশুর কোনো অংশ আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না, তার নিকট পৌঁছায় শুধু কুরবানি দাতার তাকওয়া। সে কি লোক দেখানোর জন্য বা গোশত খাওয়ার জন্য কুরবানি দিচ্ছে না কি আমাকে খুশি করার জন্য দিচ্ছে এটা জানাই মূল উদ্দেশ্য। যেহেতু আমরা কুরবানি করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য  তাই যে পশুটি দিয়ে কুরবানি করব, সেই  পশুটি হওয়া চাই সুন্দর ও নিজ পছন্দের। যাবতীয় দোষত্রুটি থেকে মুক্ত পশু দিয়ে আমরা কুরবানি করব। সাহাবি আল বারা ইবনে আযেব (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (স) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন। তারপর বললেন, চার ধরনের পশু যা দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। ১. অন্ধ- যে পশু দৃষ্টিশক্তিহীন, ২. যার রোগ স্পষ্ট ৩. পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে। আর নাসায়ী শরীফের বর্ণনায় আহতের স্থানে পাগল বলে উল্লেখ রয়েছে।’ (তিরমিজি-১৫৪৬, নাসায়ী-৪৩৭১)
 
তাই পশু ক্রয় করতে হবে ত্রুটিমুক্ত। যে পশুর দুই চোখ বা এক তৃতীয়াংশের বেশি অন্ধ, চার পায়ে চলতে পারে না, লেজ বা কান এক-তৃতীয়াংশ কর্তিত রয়েছে, এমন পশু দ্বারা কুরবানি দুরস্ত হবে না। শিং ওঠেনি কিংবা সামান্য ভেঙে গেছে এমনটি হলে কুরবানি হবে কিন্তু মূল থেকে ভাঙলে হবে না। পশুর শরীরের চামড়ার এমন কোনো রোগ হয়েছে যার কারণে গোশতের ক্ষতি হয়েছে এই সমস্ত ত্রুটি থাকলে সে পশু দিয়ে কুরবানি বাদ দিতে হবে। এজন্য পশু ক্রয় করার সময় দেখতে হবে পশু চঞ্চল কিনা, তার লেজ নড়াচড়া, শরীর ও সুন্দর চোখ, খাবার দিলে সহজেই খেয়ে ফেলা ও তার শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক কিনা, দাঁড়ানো অবস্থায় কোনো ছটফট করছে কিনা ইত্যাদি লক্ষণ দেখতে হবে। তাছাড়া পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে খেয়াল করে পশু কিনতে হবে। রাসুল (স) বলেন, ‘আমরা যেন কুরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে খেয়াল করি আর ওই পশু দ্বারা কুরবানি না করি যার কানের অগ্রভাগ ও পশ্চাদ্ভাগ কাটা রয়েছে’। (আবু দাউদ-২/২৩৮)। ত্রুটি যুক্ত পশু কম দামে ক্রয় না করে সুন্দর ও বিভিন্ন রোগ ত্রুটি মুক্ত পশু কুরবানি করার জন্য ক্রয় করতে হবে। ইমাম মালিক (রহ) এর মতে, সবচেয়ে উত্তম পশু হল শিংওয়ালা সাদা ও কালো দুম্বা। কেননা বুখারী ও মুসলিম শরীফে উল্লেখ আছে, রাসুল (স) এ ধরনের পশু দ্বারা কুরবানি করেছেন। সুতরাং আমাদের শুধুমাত্র আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জনের জন্য কুরবানির পশু জবেহ করতে হবে আর এটাই আল্লাহ তায়ালার বিশেষ এক নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্য পশু জবেহ কর।’ (সূরা কাওসার-২)
 
লেখক: শিক্ষার্থী, মাদ্রাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ আগষ্ট, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫