লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

তরুণদের অবসর কাটে ইন্টারনেটে

তরুণদের অবসর কাটে ইন্টারনেটে
সামাজিক মাধ্যমে আড্ডা, ইউটিউবে ভিডিও তাদের সঙ্গী
রফিকুল ইসলাম রবি৩১ জুলাই, ২০১৭ ইং ০২:১৪ মিঃ
তরুণদের অবসর কাটে ইন্টারনেটে

বাংলাদেশ ইউর্নিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব। বেশিরভাগ সময় এই তরুণ অবসর কাটান মোবাইল বা কম্পিউটারে গেমস খেলে। আবার অবসর সময়ে ঘুমাতেও পছন্দ করেন। সাকিব বলেন, পড়াশোনার চাপে অবসর সময় খুব কমই মেলে। যতটুকু সময় পাই বাসায় থাকার চেষ্টা করি। ইন্টারনেটে বিভিন্ন গেম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে অবসর সময় পার হয়।

সপ্তাহে একদিন বাবা-মায়ের সাথে বাইরে ঘুরতে যায় মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল ও কলেজের দশম শ্রেণির  শিক্ষার্থী তাফসিয়া তমা। তার অবসরের বেশিই সময় কাটে বাসায় জানিয়ে তমা বলে, বাইরে খেলা-ধুলার জায়গা কোথায়? ঘোরাঘুরিরও পরিবেশ কই? যতক্ষণ স্কুলে থাকি ক্লাস ফাঁকে সহপাঠীদের সাথে স্কুল মাঠে খেলি। বাসায় আসলে শুরু হয় বন্দী জীবন। স্কুলের সময়টুকুই ভালো কাটে। বাসায় অবসরে ইন্টারনেটে সময় কাটে। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম, ইউটিউবে ভিডিও দেখে সময় কাটে।   

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন রুবায়েত রিমন। খেলা দেখার জন্য শুধু টিভির ওপর নির্ভর করেন। মুভি, নাটক দেখেন ইউটিউবে। এমনকি গান শুনতেও ব্যবহার করেন ইন্টারনেট। আর এ কাজগুলো অবসর সময় বেশি করেন। সময় পেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভুলেন না। বাইক নিয়ে ঢাকার বাইরেও যান বলে জানান এই তরুণ। পত্রিকা পড়ার জন্য আলাদা সময় ব্যয় করেন না। সংবাদের উত্স হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন। এই তরুণ বলেন, এখন যেকোনো খবর দেখা যায়, ফেসবুকে আগে ছড়ায়। এরপরে টিভি বা পত্রিকায় আসে। তবে সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অনলাইনে খবর পড়ি। ফেসবুকে বিভিন্ন পত্রিকার পেজ লাইক দেয়া আছে। ফেসবুকে লগ-ইন করলেই প্রতিদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার আপডেট তথ্য পাওয়া যায়।

বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নিশাত তাসমিন ফুসরত পেলেই বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন। এর মধ্যে ভার্চ্যুায়াল আড্ডাটাও হয়। তার বন্ধু অনিকা রহমান আবার বই পড়তে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, ছোটবেলায় খুব বই পড়তাম। কিন্তু এখন সেটা কিছুটা কমেছে। আসলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন্ড পাল্টায়। এখন বাইরে খাওয়া ঘোরাঘুরি বেড়েছে। এগুলো এড়ানো যায় না। এর ফাঁকে ফাঁকেই বই পড়ি।

রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া একাধিক তরুণের সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তারা জানান, বন্ধুদের সাথে আড্ডায়ও তারা ব্যবহার করেন ইন্টারনেট। ব্যবহার করেন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ভাইবার, ইমো, উইচ্যাট, ইন্সট্রগ্রামসহ বহু সামাজিক মাধ্যম। এসব মাধ্যম ব্যবহার করে তারা সরাসরি ভিডিও কল, তথ্য আদান-প্রদান করেন। একাধিক তরুণের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা টিভি কম দেখেন। খেলা, খবর বা  নির্দিষ্ট কোনো অনুষ্ঠান দেখতে তারা শুধু টিভির ওপর নির্ভর করেন না। মুভি, নাটক বা ভিডিও গান দেখেন ইউটিউবে। যাদের সাথে কথা হয়েছে তাদের মধ্যে কর্মজীবী-শিক্ষার্থী সব তরুণই ভার্চুয়্যাল বা একসঙ্গে বসে যেভাবেই হোক আড্ডাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে এসব তরুণরা খাওয়ার সময়কে বেছে নেন বলে জানান। পরিবারের সবাই মিলে বাইরে খেতে গেলে বা বাসায় খাওয়ার সময়ে গল্প করা হয়।

তরুণ কর্মজীবী রিশাদ হাসান জানান, সপ্তাহে অন্তত ছুটির দিনটিতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাইরে খেতে যাই। সেখানেই আমাদের অনেক আড্ডা হয়। কর্মব্যস্ত জীবনে একই পরিবারের সদস্যরা সবাই সবার মতো ব্যস্ত থাকে। এমনও দেখা যায়, পরিবারের কারো সাথে কথা বলার সময়ও হয়ে ওঠে না। তাই ছুটির দিনটাকে আমরা নিজের জন্য বেছে নেই। তবে চেষ্টা করি, রাতে বাসায় সবার সঙ্গে খেতে। শহরের বেশির ভাগ মানুষ ব্যস্ত থাকে। আলাদা করে শুধু গল্পের জন্য সময় হয় না।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৮
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২