লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

হজ পরবর্তী সময়ে হাজীদের করণীয়

হজ পরবর্তী সময়ে হাজীদের করণীয়
হাফেজ মাওলানা কাজী মারুফ বিল্লাহ্০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ১২:০৯ মিঃ
হজ পরবর্তী সময়ে হাজীদের করণীয়
 
পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরতে আরম্ভ করেছেন হাজী সাহেবানরা। সদ্য হজ ফেরত হাজীদের মর্যাদা আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। তারা আল্লাহর মেহমান হয়ে তারই ঘরে গিয়েছিলেন, আবার ফেরত আসছেন নিষ্পাপ হয়ে। তাদের আত্মায় ও গায়ে লেগে আছে পবিত্র ভূমির সৌরভ। দেশে ফেরার পরও দীর্ঘদিন তাদের সেই সৌরভ ঘ্রাণ ছড়াবে। তাই প্রিয় নবী মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (স) অন্যদেরকে তাদের সেই সৌরভ গ্রহণ করতে বলেছেন। তিনি বলেন— কোনো হাজীর সাথে সাক্ষাৎ হলে তাকে সালাম দিবে, তার সঙ্গে মুসাফাহা ও মুয়ানাকা করবে এবং দোয়া চাইবে। কারণ হাজীর সব গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে। (তাবরানী শরীফ)
 
হজ পালনকারী বিপুল সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী। এই সম্মান ও মর্যাদার কথা স্মরণে রেখেই তাকে পরবর্তী জীবন আল্লাহর পথে পরিচালিত করতে হবে। বনী আদম হিসেবে আমরা সবাই সমান— কোনো অহংকারের অবকাশ নেই। দুই খণ্ড সাদা কাপড় গায়ে জড়িয়ে হাজী সাহেবানরা হজ সম্পন্ন করেছিলেন। মিনায় তাঁবু জীবন, আরাফাতের বিশাল প্রান্তরে অবস্থান, মুজদালিফায় খোলা আকাশের নিচে রাত্রিযাপন, আবার মিনাতে প্রত্যাবর্তন, জামারায় পাথর নিক্ষেপ, পশু কোরবানি, কাবার তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ায় সায়ী ইত্যাদি কর্মকাণ্ড মানুষকে উদার হতে শেখায়, তাকে শেখায় নিজের পশুত্ব বিসর্জন দিতে, অশুভ শক্তি তথা শয়তানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে। তাকে আরো শেখায় কষ্টসহিঞ্চু, সুশৃঙ্খলা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে যে কোনো বিপদ মোকাবিলা করতে।
 
কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, হজ থেকে ফিরে এসে অনেকে তা ভুলে যান, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে পার্থিব মোহে হজের মূল উদ্দেশ্যকে পাশ কাটিয়ে জড়িয়ে পড়েন আত্মপ্রবৃত্তির অনুসরণে, সুদ, ঘুষ তথা পঙ্কিলতার আবর্তে। তাই হজ পরবর্তী সময়ে সকলকে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। শয়তানকে পরাজিত করে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়েই জগত্ থেকে যেতে হবে। প্রিয় নবী (স) এর স্মৃতি বিজড়িত মাঠ-ঘাটের ধুলাবালি মেখে আসতে পারা অনেক মর্যাদা ও সৌভাগ্যের বিষয়। তাই জীবনের প্রতিটি পদে এ কথা স্মরণে রেখে হাজী সাহেবানদের কল্যাণের পথে চলতে হবে। হজ পরবর্তী জীবনে যদি কোনো পরিবর্তন না আসে তাহলে সে হজ কবুল হওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়।
 
হাজী সাহেবানদের মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাঁর ওয়াদা অনুযায়ী আপনাদেরকে নিষ্পাপ করে দিয়েছেন। আপনার কলব এখন সকল অপবিত্রতা থেকে মুক্ত, আয়নার মতো স্বচ্ছ। তাই খুব সতর্ক থাকতে হবে যেন পবিত্র অন্তরে আর কোনো গোনাহের কালিমা না পড়ে। হালাল রুজির ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। হজ থেকে ফিরে আসার পর একজন হাজী সাহেবের আবশ্যিক কর্তব্য হচ্ছে, সে তার দ্বীনের হেফাজত করবে, নিজের ঈমানের পূর্ণতার দিকে খেয়াল রাখবে, আল্লাহ ও রাসূলের কোনো নির্দেশ বা তার অংশ ছুটে যাওয়া বা বাদ পড়ে যাওয়ার ব্যাপারে আগের চেয়ে বেশি যত্নবান হবে। তাই একজন হাজীকে যাবতীয় ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাহ আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
 
হজের পর একজন মুমিন যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব দেবেন তা হলো, সে নিজের বিষয়ে বার বার ভাববেন এবং আত্মসমালোচনা করবেন, নিজের আমলের হিসাব নিজে নিবেন। নিজের পরিবার পরিজন, অধীনস্থ ব্যক্তি, পাড়া-প্রতিবেশী ও সমাজের লোকজনকে দ্বীনের পথে থাকার আহ্বান করবেন। একটানা চল্লিশ দিন যেই হাজী নিষ্পাপ জীবনযাপন করেছেন তার সংশ্রবে অন্যরা থেকে নিষ্পাপ হওয়ার ও শুদ্ধ জীবনযাপনের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন। তাই আমাদের উচিত হবে হজ পরবর্তী জীবনে নিজে সঠিকভাবে চলা ও অন্যকেও সে পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর নির্দেশিত পথে চলার তাওফিক দান করুন। আমীন!
 
লেখক : খতীব,  এবং ধর্মীয় আলোচক ও উপস্থাপক
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:০১
যোহর১১:৪৬
আসর৩:৩৫
মাগরিব৫:১৪
এশা৬:৩০
সূর্যোদয় - ৬:২০সূর্যাস্ত - ০৫:০৯