লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

শিশুদের আরামদায়ক পোশাক

শিশুদের আরামদায়ক পোশাক
মাহমুদ রকি২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ইং ১০:৫৩ মিঃ
শিশুদের আরামদায়ক পোশাক
পৃথিবীতে কত কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই সঙ্গে প্রকৃতিও বদলায় তার রূপ। এই মেঘ এই বৃষ্টি—এ যেন বিশ্ব প্রকৃতির শিশুসুলভ এক লুকোচুরি খেলা। আর হাওয়া বদলের খেলায় বাড়ছে তাপদাহ। ঋতু বদলের পালায় আবহাওয়ার পরিবর্তন তো হবেই। তাই পরিবর্তন হয় পোশাকেও। বিশেষ করে এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ভাবতে হয় বাড়ির শিশুদের নিয়ে। কেননা গরমে শিশুর পোশাক কেমন হবে, কী ধরনের পোশাক শিশুদের জন্য আরামদায়ক হবে। এসব ভাবনা চলে আসে প্রকৃতির রূপ বদলের সঙ্গে সঙ্গে। মোটা কাপড়ের পোশাক হলে ঘামে ভিজে অনেক সময় শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বেশি গরমে শিশুর গায়ে ঘামাচিও হতে পারে। তাই এই সময়ে শিশুর জন্য বেছে নিন আরামদায়ক পাতলা পোশাক। যেটা পরলে সে সহজে ঘেমে যাবে না কিংবা শরীরে ঘামাচিও উঠবে না। আসলে শিশুরাও চায় ফ্যাশনেবল পোশাক পরতে। এ কারণে আমাদের দেশিয় ফ্যাশন হাউসগুলোও এ সময়ে শিশুদের জন্য তৈরি করে ফ্যাশনেবল সব আরামদায়ক পোশাক। গরমে শিশুর জন্য প্রয়োজন যে ধরনের পোশাক :গরমে শিশুদের জন্য প্রয়োজন আরামদায়ক সুতির পোশাক। বাজার ঘুরে দেখা গেল, বিভিন্ন রং ও নকশায় অলঙ্কৃত করা হয়েছে শিশুদের পোশাক। প্রায় সব মার্কেট আর ফ্যাশন হাউসে এখন মিলবে শিশুদের জন্য সুতির পোশাক। ভয়েল, সুইস ভয়েল, আদ্দি, ভিসকস, মিক্সড ভয়েল, বেক্সি ভয়েলসহ নানারকম সুতি কাপড়ে তৈরি হচ্ছে শিশুদের পোশাকগুলো। এ ছাড়া কটনের সঙ্গে টি-শার্ট ফেব্রিক দিয়েও তৈরি হচ্ছে পোশাক। বাজারে আছে সুতি, লিনেন ও গেঞ্জি কাপড়ের বিভিন্ন ডিজাইনের পোশাক। আরামদায়ক উপকরণ হিসেবে ডিজাইনাররা বেছে নিয়েছেন এসব নরম কাপড়। যেমন সুতি, গ্যাবার্ডিন, লিনেন ও নরম জিন্স। 
 
গরমে কেন সুতির পোশাক
সুতি কাপড় বাতাস চলাচলে সক্ষম এবং দ্রুত পানি শোষণ করতে পারে। শিশুরা যেহেতু বেশি ছোটাছুটি করে তাই ঘাম হয় বেশি। একারণে গরমকালে শিশুদের পোশাক নির্বাচনে সুতির কাপড় বেছে নিন। বিভিন্ন ধরনের ভয়েল, পাতলা তাঁত কাপড় আরামদায়ক।
 
শিশুদের পোশাকে রঙের ব্যবহার
গরমকালে শিশুদের হালকা রঙের পোশাক যেমন আকাশি, হালকা সবুজ, হালকা গোলাপি, সাদা, ধূসর,  বাদামি ইত্যাদির উপর রঙিন ছাপা বা প্রিন্টের পোশাক বেছে নিতে পারেন। এতে শিশুদের দেখতে বেশ ভালো লাগে। তবে তারা যেহেতু খেলাধুলা বা ছোটাছুটি করে বেশি, তাই রঙিন পোশাক পরাতে চাইলে ব্লক বা বাটিকের পাতলা সুতি পোশাক বেছে নিতে পারেন। এছাড়াও শিশুদের জন্য ছোট বা মাঝারি প্রিন্টের পোশাক বেশি মানানসই। ফুল, পাতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা বা বল প্রিন্টের পোশাক পরাতে পারেন। এতে শিশুদের প্রাণবন্ত ও উচ্ছল লাগে। তবে শিশুদের জন্য যে ধরনের পোশাকই নির্বাচন করা হোক না কেন, তা যেন খুব বেশি আঁটসাঁট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ঢিলেঢালা পোশাক শিশুদের জন্য বেশি উপযোগী। ছেলে ও মেয়েশিশুদের পোশাকে খুব একটা পার্থক্য দেখা নেই বললেই চলে। ছেলেদের জন্য আছে ঢিলেঢালা গেঞ্জি, টি-শার্ট, ফতুয়া, নিমা, হাফ-প্যান্ট ও থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, ট্রাউজার, ফুল-প্যান্ট। মেয়েদের জন্য এসব ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নানারকম ডিজাইনের ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস, প্লাজো, শার্ট, টি-শার্ট, পোলো টি-শার্ট ইত্যাদি। বেবি ক্যাম্পাসের কর্ণধার বলেন, ‘আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে কাপড় বেছে নিই। গরমে শিশুদের পোশাকটা যেন আরামদায়ক হয়। এই গরমে সোনামণিদের পোশাকে প্যার্টানের দিক থেকে রয়েছে লিল্যাকজিন সিস্টেম যেমন প্রয়োজনে পোশাকটি ছোট-বড় করা যাবে এবং ঢিলেঢালা হলে টাইট করে নিতে পারবেন। এক বছর থেকে শুরু করে দশ বছরের বাচ্চাদের পর্যন্ত পোশাক রয়েছে এখানে।
 
বেবি ক্যাম্পাস দাম শিশুদের পোশাকের দাম পড়বে ২৫০ থেকে ৩৫০০ টাকা। ছেলেদের সব ধরনের পোশাক, ট্যানটপ, টি-শার্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, প্যান্ট ইত্যাদি। মেয়েদের সব ধরনের পোশাক যেমন ফ্রক, লেহেঙ্গা, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট, টপস ইত্যাদি। এ সময় শিশুদের পোশাক হওয়া উচিত একদম পাতলা, হাতা কাটা ও ঢিলেঢালা। যাতে শিশুর শরীরে সহজেই বাতাস প্রবেশ করতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই তৈরি করেছে শিশুদের বিভিন্ন রকম ফ্যাশনেবল পোশাক। তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে দিনে কয়েকবার পোশাক পরিবর্তন করে নিতে পারেন। খেলাধুলা, ঘুমানো কিংবা বাসায় পরার জন্য আলাদা পোশাক নির্বাচন করা যেতে পারে।’
 
দরদাম
ধরন ও উপকরণের ওপর ভিত্তি করে এই পোশাকগুলোর দাম পড়বে ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা। একটু কম দামের জন্য বেছে নিতে পারেন রাজধানীর নিউমার্কেট, নুরজাহান মার্কেট, বঙ্গবাজার, মৌচাক মার্কেট, তালতলা মার্কেট। গেঞ্জি, টি-শার্ট, হাফ হাতা শার্ট পাবেন ৮০ থেকে ৩০০ টাকায়, গ্যাবার্ডিন ও জিনসের প্যান্টগুলোর দাম পড়বে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মেয়েদের ফ্রক, স্কার্ট ও টপ পাবেন ২৫০ থেকে ৫০০ টাকায়।
 
কোথায় পাবেন
আড়ং, নিপুণ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, দেশাল, যাত্রা, ক্যাটস আই কিডস, বেবী ক্যাম্পাস শৈশব, লা রিভ, মেনজ ক্লাব, সীমান্ত স্কয়ার, বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন শপিং সেন্টারসহ যেকোনো মার্কেটে পাবেন এই পোশাকগুলো।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪