লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

রোজা রাখুন সুস্থ থাকুন

রোজা রাখুন সুস্থ থাকুন
অনলাইন ডেস্ক০৬ জুন, ২০১৮ ইং ১১:১৩ মিঃ
রোজা রাখুন সুস্থ থাকুন
 
যারা শরীরের ওজন কমানোর জন্য জিম বা এক্সারসাইজ করেন তাদের জন্য খুব ভাল একটি সময় রমজান মাস। এ সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে জমানো চর্বি ক্ষয় হয়ে ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে। তবে সেহেরি ও ইফতারে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবারের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
 
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ : রোজার ফলে রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি ৬০% কমানো সম্ভব। রোজা শারীরবৃত্তীয় প্রভাব, রক্তের শর্করা কমিয়ে কোলেস্টেরল কমিয়ে এবং সিস্টোলিক রক্তচাপ কমিয়ে দেয় অতি সহজে। পাশাপাশি ধমনীর দেয়ালে যে কোলেস্টেরলের গাদ জমাট বাঁধে তা precipitating হার কমে যায়। এভাবে পালাক্রমে কার্ডিয়াক এবং কারডিও ভাস্কুলারের দুর্ঘটনাজনিত যে সকল অসুখের ঝুঁকি থাকে তা কমিয়ে দেয়।
 
গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা : প্রায়ই দেখা যায় অনেকেরই সারা বছর গ্যাস্ট্রিক ও আলসারের সমস্যা থাকে। কিন্তু রোজা আসলেই দেখা যায় তা কমে গেছে বা তেমন সমস্যা করে না (যদি রোজার মাসে ইফতারে ভাঝাপোড়া বা তেলযুক্ত খাবার না খেয়ে থাকেন) এর মূল কারণ পাকস্থলীর উত্তেজিত এনজাইম সমূহকে বেশ উত্তেজিত করতে পারে না মস্তিষ্কে কিছু হরমন কম নিঃসরণ হয় বলে, বলা যায় এক ধরনের অবশ করে রাখে বা এ সময় কিছুটা কম হাইড্রোক্লোরাইড নিঃসরণ হয় ভিলাই থেকে, বলতে পারেন পাকস্থলীসহ পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় ও হজম প্রক্রিয়াও খুব ধীর গতিতে হয়।
 
ডায়াবেটিস : রোজা রাখার কারণে ডায়াবেটিস টাইপ-১ আরোগ্য হয় ৭০% । কারণ হিসাবে দেখানো হয়েছে উপবাসের ফলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা কমে আসে। তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীরা ও সতর্কতার সাথে রোজা রাখতে পারেন এবং নিম্নের বিষয়সমূহ একটু খেয়াল রাখলেই হবে হাইপোগ্লাইসিমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যাওয়া)- হাইপারগ্লাইসিমিয়া (রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া)।-ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস পানিশূন্যতা এবং থ্রোম্বোসিস —- মুখে ওষুধ সেবনকারী ডায়াবেটিক রোগী- ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ মোট ডোজের ২-৩ ভাগ ইফতারের সময় এবং ১-৩ ভাগ সেহেরির সময় খাওয়া ভাল- গ্লিটাজোন-স্বাভাবিক মাত্রা- সালফোনাইল-ইউরিয়া-সতর্কতার সাথে দেওয়া যেতে পারে। হাইপোগ্লাইসিমিয়ার ঝুঁকি থাকে। অর্থাৎ যারা ইনসুলিন ডিপেন্ডেন্ট ডায়াবেটিক রোগী, তাদের রোজা রাখা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় বেশি সতর্ক থাকতেই হবে।
 
কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য : রোজার সময় যেহেতু দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়, তাই কারো কারো পানি স্বল্পতা হতে পারে। যা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীদের জন্য সমস্যার ব্যাপার। তারা ইফতার ও সেহরিতে প্রচুর পরিমাণ পানি, ডাবের পানি, ফলের রস, সরবত, শাকসবজি, সালাদ, ইসবগুলের ভুসি খেলে আরাম করে রোজা রাখতে সমস্যা হবে না। গরু বা খাসির গোশত, ইলিশ ও চিংড়ি মাছ এবং যেসব খাবার খেলে মল শক্ত হয়ে যায় তা না খাওয়াই ভাল তবে এ ধরনের অসুখ যাদের আছে তাহারা অবশ্যই আঁশ জাতীয় সবজি প্রতিদিন খেতে পারলে রোজার পরে মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তাও দূর হয়ে যাবে।
 
লিভার ও কিডনির ক্ষেত্রে : রোজা থাকায় শরীরের মেদ কমে এবং ক্ষতিকারক টক্সিনগুলো লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের মধ্য দিয়ে রেচনের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। ফলে ঐ জাতীয় অসুখ অন্য সময়ের চাইতে কম হয়।
 
লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬