লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

কর্মীবান্ধব একটি হোটেল নীতিমালা খুব প্রয়োজনঃ মনিরুল ইসলাম

কর্মীবান্ধব একটি হোটেল নীতিমালা খুব প্রয়োজনঃ মনিরুল ইসলাম
অনলাইন ডেস্ক১১ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ২২:৫৭ মিঃ
কর্মীবান্ধব একটি হোটেল নীতিমালা খুব প্রয়োজনঃ মনিরুল ইসলাম

‘হোটেল ব্যবসায় নীতিমালা না থাকায়ঃ
১. রেস্টুরেন্টের ভ্যাট কালেকশন থেকে বঞ্চিত হয়ে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
২. ব্যক্তিবিশেষের পকেটে যাচ্ছে টাকা।
৩. দেশে হোটেল ব্যবসায় সরকারের কোনো বিনিয়োগ সুবিধা নেই।
৪. হোটেল স্টাফদের কর্মঘন্টা মালিকেরা ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে।
৫. হোটেল স্টাফদের চাকরির কোনো গ্যাারান্টি নেই। নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত!
৬. বাংলাদেশের হোটেল স্টাফরা বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পায় না। বাইরে কাজ করার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম নেই। যেখানে অন্য দেশের একই কর্মের মানুষেরা এ দেশে এসে ডলারে বেতন পায়। নিয়ে যায় বাংলাদেশের টাকা!
৭. ম্যাজিস্ট্রেট জরিমানার কোনো নীতিমালা নেই। ফুড ইন্ডাস্ট্রির জন্য কোনো সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম নেই।
৮. ইন্সপেক্টররা রেস্টুরেন্ট ভিজিটের নামে দালালদের মাধ্যমে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা নিয়ে যায়!
৯. ফুড ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করে দেশের খাবার বিদেশে তুলে ধরা যায়।
১০. হোটেল ট্যুরিজমের সিকিউরিটি দরকার।
১১. বিদেশে যেমন আছে সেভাবে রেস্টুরেন্ট রিওয়ার্ড কার্যক্রম চালু করা যায়। তাতে ভালোভাবে কাজ করতে উৎসাহিত হবে। ভালো কাজের প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।’
ঢাকায় ইত্তেফাকের অফিসে বসে কথাগুলো বলছিলেন আন্তর্জাতিক শেফ, বন্দর নগরী চট্টগ্রামের নামকরা রেস্টুরেন্টের মালিক মো. মনিরুল ইসলাম।


ছোটবেলা মায়ের হাতে তার রান্না শেখার শুরু হলেও অস্ট্রেলিয়ায় প্রফেশনাল অ্যাকাউন্টিং নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে ‘শেফ’ পেশায় আসেন মনিরুল। অ্যাকাউন্টিং শেষে তাই তিনি সিডনির কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হোটেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স করেন। ২০০৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের টেফ ইন্সটিটিউট এর সম্মানজনক শেফ সার্টিফিকেট অর্জন করেন। রান্নায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক কোর্স করেও সার্টিফিকেট নিয়েছেন তিনি।
 
দায়িত্ব পালন করেছেন ডেভিড জোন্স নামের ১০ হাজার বর্গফুটের রেস্টুরেন্টের কারি শেফ হিসেবে। সেখানে তার অধীনে ১২ জন কাজ করতেন। সেখানে জার্মান, ইতালিয়ানসহ বিভিন্ন দেশের জাতিসত্ত্বার রান্নার বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেন।

২০১২ সালে দেশে ফিরে আসেন, থিতু হন নিজের জন্মস্থান চট্টগ্রামে। কয়েকটি রেস্টুরেন্ট চালু করেন। তার রয়েছে নিজস্ব অনেক খাবার। খাদ্য নিয়ে তার উদ্ভাবনী ভাবনা রীতিমতো বিস্ময়কর। বর্তমানে তিনি রেস্টুরেন্ট ট্রেইনার হিসেবে এবং নতুন রেস্টুরেন্ট সেটআপে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।

নিজে রেস্টুরেন্টের মালিক হলেও মালিকদের চেয়ে কর্মচারিদের সুবিধা নিয়ে বেশি ভাবেন মনিরুল। কিভাবে এ পেশায় আসা মানুষেরা ভালো থাকবে তা নিয়ে ভাবেন। ভাবেন, কিভাবে এ পেশা থেকে সরকারকে, দেশকে কিছু দেওয়া যায় তা নিয়ে। তার সে ভাবনারই প্রতিফলন ওপরের পয়েন্টগুলো।

ক্যারিয়ার হিসেবে শেফ কেমন সেটা জানতে চাইলে বলেন, আমাদের দেশে এখনো এই পেশাটিকে খুব ভালো চোখে দেখা হয় না। কিন্তু আয়ের ক্ষেত্রে পুরো বিশ্বে এটি পঞ্চম স্থানে রয়েছে। এই পেশায় উপভোগ করার অনেক কিছু আছে, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন মানুষদের সঙ্গে জানা বোঝার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, এই পেশায় দেশ সেবার, দেশের অর্থনীতিতে বড় অংকের অর্থ যোগ করা, রেমিটেন্স যোগ করার সুযোগ রয়েছে প্রচুর। এজন্য প্রয়োজন কেবল নীতিনির্ধারকদের একটুখানি সুনজর। এটি একটি শিল্প। শিল্পটি দাঁড়াতে পারলে দেশের অর্থনীতিরই একটি অংশ দাঁড়াবে। যা দেশকে সমৃদ্ধ করবে।
 
ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩১
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৫
মাগরিব৫:৫৯
এশা৭:১২
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৪