লাইফস্টাইল | The Daily Ittefaq

ক্যান্সারের ওষুধ দিয়ে অকেজো লিভারের চিকিৎসা

ক্যান্সারের ওষুধ দিয়ে অকেজো লিভারের চিকিৎসা
অনলাইন ডেস্ক১৭ আগষ্ট, ২০১৮ ইং ১৬:৪৮ মিঃ
ক্যান্সারের ওষুধ দিয়ে অকেজো লিভারের চিকিৎসা
কারা ওয়াট। দিনে ১৩টি করে ওষুধ সেবন করেন।
কারা ওয়াট। শিক্ষানবিস নার্স। একটি বৃদ্ধ নিবাসে কাজ করতেন। কিন্তু হঠাৎ বছর দুয়েক আগে অসুস্থ হতে শুরু করলেন তিনি। মুখ ধীরে ধীরে হলুদ হতে থাকে। যা লিভারের অসুখের অন্যতম একটি লক্ষণ। 
 
পরীক্ষায় দেখা গেলো তার লিভার ঠিকমতো কাজ করছে না। দিন দিন অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিলো। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখতে হলো। শেষপর্যন্ত চিকিৎসকেরা তাকে জানালেন তার যকৃত প্রতিস্থাপন করতে হবে। তা না হলে সে আরো খারাপের দিকে যাবে। 
 
কারা ওয়াট বলেন, তার জন্য এটি ছিল এক ভয়াবহ খবর। এমন খবর কেউ শুনতে চায় না।
 
দুই বছর আগে এই সেবিকার যকৃত প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তার এখন বয়স একুশ বছর। কারা ওয়াট দিনে ১৩টি করে ওষুধ সেবন করেন। নতুন যকৃতকে তার শরীর যাতে গ্রহণ করে সেজন্যেই এই ওষুধগুলো তাকে খেতে হয়।
 
মানবদেহের যকৃতে রয়েছে নিজেকে সারিয়ে তোলার অসাধারণ এক ক্ষমতা। কিন্তু আঘাত বা অন্য কোনো ধরনের ওষুধ বা অপরিমিত মাত্রায় মাদক সেবনের কারণে যকৃত হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।
 
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা জানান, এবার মানব দেহের লিভার বা যকৃৎ হঠাৎ কাজ করা বন্ধ করে দিলে প্রতিস্থাপনের বদলে ওষুধ দিয়ে যকৃত সারিয়ে তোলা সম্ভব হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এমন একটি ওষুধ তার খুঁজে পেয়েছেন। যা ইঁদুরের শরীরে ব্যবহার করে সফল হয়েছেন।
 
এটি দিয়ে যকৃতকে সারিয়ে তোলার ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি পুরো সফল হলে যকৃত প্রতিস্থাপন না করে বরং ওষুধ দিয়ে বিকল যকৃত সারিয়ে তোলা যাবে। ফলে বিশাল খরচ, প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গদানকারী অনুসন্ধান, লম্বা সময় ধরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের তালিকায় ঝুলে থাকা, এসব নানা জটিলতা থেকে একজন ব্যক্তি মুক্তি পাবেন।
 
মানবদেহের যখন বয়স হয়ে যায় তখন তার শরীরের কোষগুলো দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে পরে। সে আর নূতন কোষ সৃষ্টি করতে পারে না। ফলে মানবদেহ তার নানা অঙ্গকে আর পুনরুজ্জীবিত বা তাজা করতে পারে না। এর মধ্যে যকৃত হঠাৎ ভয়াবহ রকমের বুড়ো হয়ে যায়। এ জন্য এক ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া শনাক্ত করেছেন বিজ্ঞানীরা।
 
তারা ইঁদুরের উপরে গবেষণা করেন। ল্যাবে ইঁদুরের শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক দেওয়া হয় যা, সাধারণত যকৃতকে অকার্যকর করে দেয়। এরপর এক ধরনের ক্যান্সারের ওষুধ ব্যবহার করে ইঁদুরের শরীরে ওই রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীর।
 
গবেষকরা শিগগিরই এই ওষুধ মানবদেহে পরীক্ষা করার পরিকল্পনা করছেন। খবর: বিবিসি বাংলা
 
ইত্তেফাক/জেডএইচ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩