বাংলাদেশ | The Daily Ittefaq

রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ভেল-এর সাথে চুক্তি মার্চে

রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ভেল-এর সাথে চুক্তি মার্চে
মাহবুব রনি২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬ ইং ০৬:৫৬ মিঃ
রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণে ভেল-এর সাথে চুক্তি মার্চে
রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে ভারতের ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেডের (ভেল) সাথে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি স্বাক্ষরিত হচ্ছে। গত ৩১ জানুয়ারি ভেলকে চুক্তি করার জন্য চিঠি দেয় কেন্দ্রটির নির্মাণ বাস্তবায়নকারী ও তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুত্ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল)।
 
গত সোমবার রাতে বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জল কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, রামপালে নির্মিতব্য ১৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের জন্য ভেল-এর দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর তাদেরকে এওয়ার্ড অব নোটিফিকেশন (কাজের অনুমোদন সংক্রান্ত নোটিস) চিঠি দেয়া হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদেরকে চুক্তি সংক্রান্ত বাকি কাজ শেষ করে কোম্পানিকে সম্মতি চিঠি দিতে হবে। সবমিলিয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহ বা প্রথম ১০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।
 
তিনি জানান, ভেলকে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক থেকে অনুমোদন নিতে হবে। বাংলাদেশেও কোম্পানির বেশকিছু কাজ বাকি রয়েছে। তাই চূড়ান্ত সম্মতির কাজ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হয়ে গেলেও অনুমোদন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে চূড়ান্তভাবে চুক্তি করতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে।
 
কোম্পানির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, সুন্দরবনের নিকটবর্তী এলাকায় নির্মিতব্য বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণে ভেলের সাথে প্রায় ১ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করা হবে। কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৮ কোটি বিলিয়ন ডলার বা ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
 
বিআইএফপিসিএলের ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম জানান, দুইটি কনসোর্টিয়াম (অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যৌথ কোম্পানি) ও একটি পৃথক কোম্পানি ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল তাপ বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে দরপ্রস্তাব জমা দেয়। এগুলো হলো- জাপানের মারুবেনী করপোরেশন ও ভারতের লারসেন এন্ড টুবরো লিমিটেড কনসোর্টিয়াম, চীনের হারবিন ইলেক্ট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেড ও ইটিইআরএন এবং ফ্রান্সের আলসটম কনসোর্টিয়াম আর ভারতের কোম্পানি ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল)। এ তিন দরপ্রস্তাবকারীই প্রকল্পে তাদের বিনিয়োগের ব্যাপারে নিজ দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ-অর্থায়নের নিশ্চয়তা পেয়েছিল। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ও কারিগরি মূল্যায়নশেষে ভেলকে কাজ দেয়া হয়েছে।
 
এদিকে গত সোমবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স উল্লেখ করেছে, রামপাল প্রকল্পের যে ৭০ শতাংশ বিনিয়োগ ভেলকে করতে হবে তা স্বল্প সুদে কোম্পানিটিকে ঋণ দিবে ভারতের এক্সিম ব্যাংক। প্রায় ১ শতাংশ সুদে ঋণের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে ভেলের এ কাজ পাওয়াকে ভারতের কাছে চীনের হার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। একইসাথে কোম্পানির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, কারিগরি মূল্যায়নে ভেল-এর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের হারবিন ইলেক্ট্রিক ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি যোগ্যতম বিবেচিত হয়নি।
 
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি)  যৌথ অংশীদারিত্বে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী বিদ্যুত্ কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়েছে। বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় নির্মিতব্য রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্রে উভয় সংস্থার সমান অংশীদারিত্ব। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ ভাগ ঋণ এবং ৩০ ভাগ বিআইএফপিসিএল বহন করবে। এই ৭০ শতাংশ খরচের অর্থ সংস্থান করবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এখন ভেল এ অর্থ সংস্থান করবে এক্সিম ব্যাংক থেকে।
 

জানা যায়, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াটের প্রথম ইউনিটের কাজ শেষ করতে হবে চুক্তির ৪১ মাসের মধ্যে। দ্বিতীয় ইউনিট শেষ হবে ৪৬ মাসে। এই হিসেবে কেন্দ্র স্থাপন শেষ হবে ২০১৯ সালের শেষ দিকে। গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহবান করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬