বাংলাদেশ | The Daily Ittefaq

সরকারের আট বছর পূর্তি আজ

সরকারের আট বছর পূর্তি আজ
ফারাজী আজমল হোসেন১২ জানুয়ারী, ২০১৭ ইং ০৯:০৩ মিঃ
সরকারের আট বছর পূর্তি আজ
 
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের আট বছর পূর্তি আজ। গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক ধারা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এর আগে ২০০৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি সরকার গঠন করেন শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের এই আট বছর অনেকটাই নির্বিঘ্নে কেটেছে। এ সময়ে সরকারকে ঘরে-বাইরে নানা সঙ্কট মোকাবিলা করতে হলেও              শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিজয় এসেছে। বিচারের মাধ্যমে শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের সাজা কার্যকর হয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর শতভাগ কাজ সম্পন্ন করতে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে ৪০ শতাংশ। সফলতা এসেছে তথ্য প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতেও। দক্ষ নেতৃত্বের কারণে বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের তালিকায় দশম স্থানে ঠাঁই পেয়েছেন শেখ হাসিনা। কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে।
 
বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে সব সূচকে অগ্রগতি, সাফল্যে আর উন্নয়নের পতাকা উড়িয়েই আজ বৃহস্পতিবার আট বছর পূর্ণ করল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ঠিক তিন বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না, বরং ছিল অত্যন্ত ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ সরকারকে বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের মুখেই যাত্রা শুরু করতে হয়েছিল। সেই দুর্যোগ মোকাবিলা করার পর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে আবারও ভয়াল সহিংসতা মোকাবিলা করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। টানা ৯২ দিনব্যাপী ভয়াবহ সহিংসতা ও আগুন সন্ত্রাসে পুড়েছে গোটা দেশ। দেশের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়েছিল ওই রাজনৈতিক সন্ত্রাসে। তিনটি মাস ধরে দেশের মানুষ কার্যত ছিল অবরুদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দৃঢ়, সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব দিয়ে দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অগ্নিপরীক্ষায় শুধু উত্তীর্ণই হননি, দেশের মানুষকে শান্তি-স্বস্তি প্রদানের পাশাপাশি গত এক বছরেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশকে টেনে তুলে প্রগতি ও অগ্রগতির মিছিলে সামিল করতে সক্ষম হয়েছেন।
 
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা লক্ষ্য করা গেলেও সরকার সেগুলো সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। রাজপথের বিএনপিকে মোকাবিলা, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ ও ১৪ দলের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে পারা ও দলের দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারা সরকারের বড় সাফল্য। তবে দ্বিতীয় মেয়াদের শাসন ক্ষমতায় বসা আওয়ামী লীগের গত তিন বছরে তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো সরকারকে অসুবিধার মধ্যে ফেলেছে বিভিন্ন সময়ে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের মারামারি, সংঘর্ষ ও সংঘাতে প্রাণহানির অনেক ঘটনা ঘটেছে। এসবের মধ্যেও সরকার ঠিক সময়ে সারাদেশে বিনামূল্যের বই বিতরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এটি একটি সরকারের বড় সফলতা। প্রবৃদ্ধির হার সন্তোষজনক। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট বহুবিধ দুর্যোগ ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সফলতা অর্জন করেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সময় দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশের উপরে, যা হ্রাস পেয়ে ১৯৯১ সালে দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হন। দেশে বর্তমানে চরম দারিদ্র্যের হার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। বর্তমানে দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নকে এ পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ৭ম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনার সর্বশেষ বছরে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ গড় প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং বহুমাত্রিক দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্য অর্জনে শক্ত ভিত গঠনের ক্ষেত্রে অন্যান্য আর্থিক সূচকসমূহের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও আমাদের রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এবং সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ গত সাড়ে ৭ বছরে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে। বিনিয়োগ হার জিডিপি’র ২৬ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল ২৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়নে। বিদ্যুত্ উত্পাদন সক্ষমতার পরিমাণ ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭৮ শতাংশ মানুষ বিদ্যুত্ সুবিধা পাচ্ছেন। মুদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ মুদ্রার বিনিময় হার ও সুদের হারের ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার।
 
এদেশে সাধ ও সাধ্যে, চাওয়া ও পাওয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা খুব সহজ নয়। তবে দেশবাসী খোলা মনে এই আট বছরের ভাল কাজের প্রশংসা এবং মন্দ কাজের সমালোচনা করলেও সরকারের ওপর তাদের আস্থা এতটুকুও কমেনি বরং বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসম সাহস, দক্ষতা, দূরদৃষ্টি ও অসীম ধৈর্য্যের সঙ্গে দেশ পরিচালনার প্রতিটি পদক্ষেপকে যেমন দেশের মানুষ এখনও অধিকমাত্রায় সমর্থন করছেন, ঠিক তেমনি তিন বছরে দেশি-বিদেশি সকল রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হওয়া, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীসহ সকল রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় কার্যকরের দৃঢ় ও সাহসী পদক্ষেপকেও নিরঙ্কুশভাবেই অনুমোদন দিয়েছেন।
 
চতুর্থ বর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান চ্যালেঞ্জই হচ্ছে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নিজ দলের চেইন অব কমান্ড গড়ে তোলা। অতীতের মতো শক্ত হাতেই জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র দমন করে সুখী-সমৃদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসামপ্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
 
ইত্তেফাক/আরএ
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৬ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪১
যোহর১২:০৫
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৫
এশা৭:২৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৬:১০