জাতীয় | The Daily Ittefaq

প্রেষণে যুগ্ম-সচিব নিয়োগ : হঠাৎ উত্তপ্ত ইসি, ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা

প্রেষণে যুগ্ম-সচিব নিয়োগ : হঠাৎ উত্তপ্ত ইসি, ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট০২ আগষ্ট, ২০১৭ ইং ২০:৫১ মিঃ
প্রেষণে যুগ্ম-সচিব নিয়োগ : হঠাৎ উত্তপ্ত ইসি, ক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা
হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে কর্মরত কর্মকর্তারা একজোট হয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছেন। 
 
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। মূলত ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব পদে প্রেষণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একজন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়াকে কেন্দ্র করে এই উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 
 
বুধবার সন্ধ্যায় কমিশনের কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘ইলেকশন কমিশন সার্ভিসেস অফিসার্স এসোসিয়েশন’ জরুরি বৈঠক করেছে। 
 
কর্মকর্তারা বলছেন, সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার নিয়োগ আদেশ প্রত্যাহার করে ইসির কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে যুগ্ম সচিব পদে দায়িত্ব না দেয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। কেননা নির্বাচন কমিশন স্বাধীন-সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আইনানুযায়ী ইসি সচিবালয়ও স্বাধীন, নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া প্রেষণে কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার সুযোগ নেই বলে মত দেন কর্মকর্তারা। 
 
গত মঙ্গলবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসানকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব হিসাবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়। এই নিয়োগের খবর পৌঁছানো মাত্রই কলম বিরতি শুরু করেন কমিশন সচিবালয়, ইলেকশন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই), জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি)সহ মাঠ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। 
 
তাদের দাবি, পদপূরণ করতে হলে কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠ্যতা অনুযায়ী কিংবা ওই পদের যোগ্য যাকেই দেয়া হোক তাকেই মেনে নিতে প্রস্তুত; বাইরে কাউকে নয়। সংশ্লিস্ট পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইসির কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত মঙ্গলবার বিকালে শুরু হওয়া এ আন্দোলন বুধবার আরো তীব্র হয়। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ইসির পুরো কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের এ আন্দোলনের প্রভাব মাঠ পর্যায়েও পড়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের আন্দোলনে সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। 
 
বুধবার কর্মবিরতি পালন করে ইসির সর্বস্তরের কর্মকর্তারা ভারপ্রাপ্ত সচিব, সিইসিসহ অপর কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু চারজন কমিশনার আন্দোলনরত কর্মকর্তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে তাদের অসহায়ত্বের কথা জানান। কেননা সিইসি এবং ইসি সচিব প্রশাসনিক সব দায়িত্ব দেখভাল করে থাকেন। তবে, ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাবির বিষয়ে অনড়। তারা চান, কমিশনের মধ্য থেকে যাকে যোগ্য মনে করেন তাকেই যুগ্মসচিব পদে চলতি দায়িত্বে দেবেন তা মেনে নেবেন। 
 
ইসির সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন, ইসির সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত পদোন্নতি পেয়ে থাকেন। তাছাড়া তিনটি যুগ্ম-সচিবের (যুগ্ম-সচিব, আইন বাদে) মধ্যে দুটি ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের পদ। এতোদিন এই দুটি পদে জেসমিন টুলি ও লুৎফুর রহমান দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু এই দুইজন অবসরে গেলে পদ দুটি ফাঁকা হয়ে যায়। তবে পদোন্নতি নিয়ে আইনী জটিলতার কারণে পদ দুটিতে কাউকে পদায়ন করা হয়নি। সদ্য বিদায়ী কমিশন সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহর কাছে যুগ্নসচিব পদে তাদের মধ্যে থেকে কাউকে পদায়ন করার জন্য লিখিত অনুরোধ জানিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। কিন্তু তা আমলে না নিয়ে কমিশন থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম-সচিব পদে প্রেষণে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়। 
 
আন্দোলনরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্দোলন করছি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য। এক্ষেত্রে আমাদের ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ কিংবা আর্থিক সুবিধার জন্য নয়। পুরো প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার জন্য এই আন্দোলন, যা যৌক্তিক। চারজন কমিশনার ইসির কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যুগ্ম-সচিব পদপূরণে আগ্রহী। কিন্তু প্রেষণে কর্মকর্তা আনার বিষয়ে তাদের কোন মতামত কিংবা পরামর্শ নেয়নি কমিশন।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি
 
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ অক্টোবর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩০
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৯সূর্যাস্ত - ০৫:২৫