বাংলাদেশ | The Daily Ittefaq

১৬ কোটি মানুষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করছে

১৬ কোটি মানুষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করছে
এ নিয়ে ট্রাম্পের সাহায্য চাওয়া অর্থহীন : প্রধানমন্ত্রী
ফারাজী আজমল হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ০১:৫২ মিঃ
১৬ কোটি মানুষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে খাবার ভাগাভাগি করছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তা চাওয়া অর্থহীন। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে বলে তিনি (শেখ হাসিনা) আশা করছেন না। কারণ শরণার্থী বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা ট্রাম্প আগেই স্পষ্ট করেছেন। সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের সংস্কার সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা হয় বলে রয়টার্সকে এক সাক্ষাত্কারে শেখ হাসিনা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প শুধু জানতে চাইলেন বাংলাদেশের কী খবর? জবাবে আমি বললাম, বাংলাদেশ খুবই ভালো অবস্থায় আছে। তবে আমাদের একমাত্র সমস্যা হল মিয়ানমার থেকে আসা শরণার্থী; কিন্তু তিনি শরণার্থীদের বিষয়ে কিছু বলেননি।

জাতিসংঘের সংস্কার সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের সভাস্থল ছাড়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কয়েক মিনিটের জন্য থামান শেখ হাসিনা। এ সময় কথা হয়। রয়টার্সকে সাক্ষাত্কারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শরণার্থী বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তাদের দেশে তারা কোনো শরণার্থীকে ঢুকতে দেবে না। তাদের কাছ থেকে আমি কী আশা করতে পারি, বিশেষ করে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে? তিনি তো নিজের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন। তাহলে তার কাছে কেন সাহায্য চাইব? প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ধনী দেশ নয়। আমাদেরই এখন ১৬ কোটি মানুষ। দেশের আয়তনও খুব কম। যদি আমরা ১৬ কোটি মানুষকে খাওয়াতে পারি, তাহলে আরো পাঁচ অথবা সাত লাখ মানুষকে খাওয়াতে পারব। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। শেখ হাসিনা রয়টার্সকে আরো বলেন, তিনি চান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক।    

এদিকে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত-এ সাংবাদিকদের ব্রিফকালে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের সংস্কার সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর শেখ হাসিনার সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ আশ্বাস দেন। পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ট্রাম্প রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গাসহ সব ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকা এবং এ সংকট সমাধানে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সুষমা যৌথ কমিশনের বৈঠকে যোগ দিতে ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করবেন।

এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রানি সংস্থাটির সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্কালে বলেন যে, তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চান এবং তিনি শরণার্থীদের অবস্থা দেখতে বাংলাদেশ সফর করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, এই ইস্যুতে জাতিসংঘ সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অন্যসব বিষয়ে একত্রে কাজ করবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সদর দফতরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তেসোরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী চলতি বছরের শেষে মহাকাশে বাংলাদেশ যে স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করবে তা থেকে সেবা প্রদানের অনুরোধ জানান। তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল থেকেও ব্যান্ডউইথ সেবা গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা-মাহমুদ আব্বাস বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বৈঠক করেন। বৈঠকে দুই নেতা মিয়ানমারের সমস্যা এবং রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের বিষয়ে আলোচনা করেন। রাতে গ্রান্ড হায়াত হোটেলের নিজস্ব কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফিলিস্তিনের নেতার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে মাহমুদ আব্বাস ফিলিস্তিনের সংকটের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। এ সময় শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে থাকায় তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি একটি দুর্যোগ। সর্বত্রই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।’

সরকার শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার অর্থনীতি ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কনভেইন কনফারেন্স সেন্টারে গ্লোবাল ডিল ফর ডিসেন্ট ওয়ার্ক অ্যান্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের ফলো-আপ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। সু্্ইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফেন, আইএলও মহাপরিচালক গাই রেডার ও অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) মহাসচিব অ্যাঞ্জেল গুররিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যৌন নির্যাতন বন্ধে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের মাঝে যৌন অপরাধ নির্মূলে জাতিসংঘের মহাসচিবের যথাযথ পদক্ষেপের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ভিকটিম সাপোর্ট ফান্ডে ১ লাখ ডলার প্রতীকী চাঁদার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে সর্বোচ্চ সংখ্যক সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্য নিয়োগকারী হিসেবে আমরা যৌন নির্যাতন ও অপরাধ বন্ধের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করি। এ অভিযোগে আমাদের অবস্থান হচ্ছে জিরো টলারেন্স। প্রধানমন্ত্রী সোমবার জাতিসংঘ সদর দফতরে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল চেম্বারে যৌন নির্যাতন ও অপরাধ দমন শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৩২ জন বীর সন্তানের আত্মত্যাগের মাধ্যমে শান্তিরক্ষার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তৃতা দেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সভাপতি মিরসলভ লাজকাক বক্তৃতা করেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৫:১৩
যোহর১১:৫৫
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৮
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৪সূর্যাস্ত - ০৫:১৩