বাংলাদেশ | The Daily Ittefaq

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হোন

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হোন
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী
ফারাজী আজমল হোসেন, নিউইয়র্ক থেকে২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ০০:৩২ মিঃ
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হোন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমেরিকার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার গ্রান্ড হায়াত হোটেলে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অভিন্ন স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার। আমাদের পারষ্পরিক লাভজনক ব্যবসা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরো জোরদার করে চমত্কার পর্যায়ে উন্নীত করবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার দল ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বোত্তম সম্পর্ক উপভোগ করছে। তিনি বলেন, সরকার ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছে এবং এ বিষয় আপনাদের কাছে তুলে ধরতে চাই। তিনি বলেন, এনুয়াল পার্টনারশিপ ডায়ালগ, টিকফা স্বাক্ষর এবং এসব ফোরামে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। নিরাপত্তা, সামরিক ও  কাউন্টার টেররিজম নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের উচ্চতা নির্দেশ করে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন আমাদের ঘনিষ্ট অংশীদার। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য গত বছর মোট ৭ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে, এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়। তবে এই সম্পর্ক সম্প্রসারণের পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে হোচট খাওয়ায় এই সম্ভাবনা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশি পোশাকের ওপর অত্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলডিসিভুক্ত বেশিরভাগ দেশ বিভিন্ন অগ্রাধিকার স্কিমের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে। উচ্চ শুল্কের কারণে শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত এলডিসি দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। এমনকি কিছু উন্নয়নশীল দেশ এজিওএ’র অধীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। এই ক্ষেত্রে সকল প্রতিযোগীদের সমতার সুযোগ দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০১৬ অনুযায়ী বাংলাদেশ লিঙ্গ সমতার দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দেশ এবং নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে বিশ্বে ৭ম স্থানে রয়েছে। স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরপর ৬ষ্ঠ বছরের মতো বিএ ৩ (মুডি) এবং বিবি (স্ট্যান্ডার্ড ও পুয়োর) অর্জন করেছে । স্থিতিশীল জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং শক্তিশালী এক্সটার্নাল ব্যালান্স স্থিতিশীলতা ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে ফিচ রেটিংস থেকে ৪র্থ বারের মতো বিবি রেটিং অর্জনে সহায়তা করেছে। যা গোল্ডম্যান স্যাশ, সিটি গ্রুপ, জেপি মরগানসহ অনেকের স্বীকৃতি পেয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে বর্তমানে ৩২তম বৃহত্ অর্থনীতির দেশ (পিপিপি ভিত্তিক) এবং এ দেশের বার্ষিক জিডিপিতে বৈদেশিক সাহায্যের পরিমান ১ দশমিক ৫ শতাংশের কম। বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি বলেন, এখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ আইন এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির শর্তাবলী দ্বারা সুরক্ষিত। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি (বিটি) এবং ‘ডাবল ট্যাক্সেশন’ পরিহারের চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তার সরকার সারাদেশে একশ’ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যেখানে বিনিয়োগকারিরা একই স্থান থেকে সব ধরনের সেবা পাবেন। তিনি বলেন, বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারিদের শিল্প স্থাপনে সকল সুযোগ-সুবিধাসহ অর্ধ ডজনেরও বেশি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইজেড) প্রস্তত হয়েছে। দেশে দ্রুত নগরায়নে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও মধ্যবিত্তের উত্থানে এটাই নির্দেশ করে যে এদেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজার রয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারি দেশ এবং ২০০৯ সালে আমার সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ধারায় গত বছর বিদেশি বিনিয়োগ ২০০ কোটি ডলার অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে বিদেশিদের বিনিয়োগকারিদের আস্থা প্রতিভাত হয়েছে।   

আইসিটি খাতে সহযোগিতায় সম্মত বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়া

বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার আইসিটি খাতে সহযোগিতা জোরদারের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এস্তোনিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্স্টি কালজুলাইদ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে এই বৈঠক সম্পর্কে ব্রিফিংকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রেসিডেন্ট কার্স্টি বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ডিজিটাল উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় আইসিটি খাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য তুলে ধরেন। উভয় নেতা পরস্পরের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আইসিটি খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, বৈঠককালে দুই নেতা অন্যান্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। বিকালে নেদারল্যান্ডের রানী ও জাতিসংঘের অর্থায়ন বিষয়ক বিশেষ দূত ম্যাক্সিমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রানী ম্যাক্সিমা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। নেদারল্যান্ডের রানী রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব আহমেদ ওয়াজেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে তার হোটেল কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) মহাপরিচালক উইলিয়াম লাকি সুইং দেখা করেন। এ সময় আইওএম-এর মহাপরিচালক মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আইওএম এর ত্রাণ তত্পরতার বিষয়ে অবহিত করেন। উইলিয়াম লাকি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, তিনি ৫ ও ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশে ত্রাণ তত্পরতায় অংশ নেওয়া জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যে আইওএম শীর্ষে রয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়নের ঘাটতি মোকাবিলায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। কারণ এলক্ষ্যে সম্পদের যোগান দেওয়া সরকারগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনায় তিনি একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ক্রিয়েটিং এ্যা পলিসি ভিশন ফর এসডিজি ফিন্যান্স ফ্যাসিলিটেটিং প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য এসডিজি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দিবেন আজ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে জাতিসংঘের এই অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব বিশ্বে নেতৃবৃন্দের সামনে তুলে ধরবেন। পরে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এর আগে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিয় গুতেরেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪১
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫২
মাগরিব৫:৩৪
এশা৬:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৫৭সূর্যাস্ত - ০৫:২৯