জাতীয় | The Daily Ittefaq

নীতিমালা নির্ভর পর্যটন শিল্প, হয়নি পৃথক আইন

বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ
নীতিমালা নির্ভর পর্যটন শিল্প, হয়নি পৃথক আইন
জামাল উদ্দীন২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং ০০:২৩ মিঃ
নীতিমালা নির্ভর পর্যটন শিল্প, হয়নি পৃথক আইন

পর্যটন শিল্পে কেবলি সম্ভাবনার হাতছানি। যুগের পর যুগ ধরে বাংলাদেশের পর্যটন নিয়ে সম্ভাবনার কথাই শুধু বলা হয়েছে। কিন্তু করা হয়নি পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন। একটি নীতিমালার ওপর ভর করে চলা পর্যটন খাতের জন্য হয়নি আলাদা আইন। শিল্প ঘোষণা করার পরও অবহেলিত এই খাতটি বাজেট বরাদ্দেও খুব গুরুত্ব পায়নি। বরং উন্নত দেশের ট্রাভেল এলার্ট ও জঙ্গি হামলার খবরে এ শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে অপরাপর পর্যটনসমৃদ্ধ দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক উভয় পর্যটকের হার প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। অথচ অর্থনীতিতে সেবাখাতের প্রাধান্য ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু সেই সুবিধায় পর্যটন খাতের ভূমিকা নগণ্য। পর্যটক আকর্ষণে সবচেয়ে বড় বিষয় নিরাপত্তা। নির্বিঘ্ন যাতায়াত সুবিধার পাশাপাশি পর্যটন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন দেশি—বিদেশি ট্যুরিস্টদের আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বিষয়ে বাংলাদেশের বড় অবহেলা। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যটক নিরাপত্তায় বাংলাদেশের অবস্থান সূচকের শেষ দিকে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায়ও বেশ পিছিয়ে।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সম্প্রতি ভ্রমণ ও পর্যটন প্রতিযোগী সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৭ প্রকাশ করেছে। তাতে ১৩৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৫তম। আজ ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন দিবস। এই দিবসের প্রতিপাদ্য: ‘টেকসই পর্যটন উন্নয়নের অন্যতম হাতিয়ার’। কিন্তু পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে নেয়া পদক্ষেপগুলোর বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এগুলো হলো: ব্যবসায়ীক পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, মানব সম্পদ ও শ্রম বাজার পরিস্থিতি, বিমান ব্যবস্থাপনা, সরকারের নেওয়া পর্যটন বান্ধব বিভিন্ন পদক্ষেপ, বন্দর পরিস্থিতি, পর্যটন সেবার অবকাঠামো, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন পরিস্থিতি প্রভৃতি।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম দেশগুলোর পর্যটন আকর্ষণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ, নীতি সহায়তাসহ বিভিন্ন টেকসই পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কতটুকু অগ্রসর হয়েছে সে বিষয়গুলো বিবেচনা এনে সূচক তৈরি করেছে। তাতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৪০ তম অবস্থানে, শ্রীলঙ্কা ৬৪তম, নেপাল ১০৩তম, পাকিস্তান ১২৪তম, ভূটান ৭৮তম অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশে পর্যটন উন্নয়নে নেয়া পদক্ষেপ: ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন (বিপিসি) যাত্রা শুরু করে। ১৯৯২ সালে জাতীয় পর্যটন নীতিমালা প্রণীত হয় এবং পর্যটনকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০১০ সালে এই নীতিমালা আরও যুগোপযোগী করা হয়। তবে নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন থেকে এখনো দূরে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

পর্যটন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটনকে আসলে কাগজে কলমে যতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, বাস্তবে এর প্রতিফলন ঘটেনি। পর্যটন ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ‘পর্যটন খাতকে থ্রাষ্ট সেক্টর বলা হলেও এর উন্নয়নে যথাযথ থ্রাষ্ট দেয়া হয়নি। ফলে এ শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে ট্যুরিস্ট পুলিশসহ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত অবকাঠামো উন্নয়ন এখনো হয়নি। নিরাপত্তা ইস্যুটি নিয়েও পর্যটকরা পরিস্কার নয়।’

পর্যটন দিবসের কর্মসূচি: পর্যটন দিবস উপলক্ষে আজ সকাল সাড়ে ৮টায় বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর মত্স্য ভবনের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বেলা ১১টায় টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে  হবে ট্যুরিজম ফেস্ট।  এছাড়া ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে বসুন্ধরা কনভেশন সেন্টারে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের আয়োজন  করা হয়েছে।

এগিয়ে যাবার মিছিলে পর্যটন শিল্প:মেনন

বিশেষ প্রতিনিধি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, শত বাধা  অতিক্রম করে এগিয়ে যাবার মিছিলে সামিল হয়েছে বাংলাদশের পর্যটন শিল্প। তাই এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস বাংলাদেশের এ শিল্পে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের (বিটিবি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬