বাংলাদেশ | The Daily Ittefaq

ঢাকার আশেপাশে হবে ১০ সরকারি বিদ্যালয়

একনেকে ১০ প্রকল্প অনুমোদন
ঢাকার আশেপাশে হবে ১০ সরকারি বিদ্যালয়
বেকুটিয়ায় কচা নদীর ওপর হবে ৮ম চীন মৈত্রী সেতু
ইত্তেফাক রিপোর্ট১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ইং ০১:৪৯ মিঃ
ঢাকার আশেপাশে হবে ১০ সরকারি বিদ্যালয়

ঢাকা শহরের নিকটবর্তী এলাকায় নতুন দশটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ লক্ষ্যে ৬৭৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুমোদন পাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের  বিস্তারিত সংবাদ মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।

এ সময় মন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরের আশপাশের এলাকায় কিংবা মহানগরীর প্রান্তিক এলাকায় দীর্ঘকাল কোন সরকারি বিদ্যালয় স্থাপিত হয়নি। ফলে রাজধানীর সরকারি স্কুলগুলোতে অনেক চাপ বেড়েছে। এজন্য ঢাকা শহর সংলগ্ন এলাকার দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যার জন্য ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা জেলার নবীনগর, আশুলিয়া, ধামরাই, পূর্বাচল, হেমায়েতপুর, জোয়ারসাহারা, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড, শাহজাদপুর ও ঝিলমিল এলাকায় এ সব বিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। ২০২০ সালের মধ্যে এ কাজ শেষ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর।

মঙ্গলবার একনেক সভায় মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এ সব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। বৈঠকে শিক্ষা সংক্রান্ত আরও দুইটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক অফিস স্থাপনের লক্ষ্যে ১০৪ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। কেরানীগঞ্জে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় ৩৬০ স্থানে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে পৃথক একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ সংরক্ষণ ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৭৮ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) সক্ষমতা বাড়াতে একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। ডিজিটাল সংযোগের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন শীর্ষক প্রকল্পে ব্যয় হবে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এতে ১ হাজার ৮১৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা ঋণ দেবে চীন সরকার। মন্ত্রী জানান, প্রকল্পটিতে সময়মতো ঠিকাদার পাওয়া যায়নি তাই বিলম্ব হয়েছে। তাছাড়া প্রকল্পটি আরো কিছু বিষয় যোগ করা হয়েছে যে কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে। নির্ভরযোগ্য আধুনিক টেলিকমিউনিকেশন সুবিধা গড়ে তোলার পাশাপাশি টেলিফোন ব্যবহারের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করছে পরিকল্পনা কমিশন। জনসাধারণকে কম মূল্যে প্রযুক্তি সেবা দেওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটির প্রস্তাব পাঠিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। ২০২০ সালের জুন মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষ করবে বিটিসিএল।

পুলিশ বিভাগের ৫০টি হাইওয়ে আউটপোস্ট নির্মাণ প্রকল্পের সময়সীমা আরেক দফায় বাড়ানো হয়েছে। ২০১৩ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীতে বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। দ্বিতীয় সংশোধনীতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ২০১০ সালে অনুমোদনের সময় এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫২ কোটি ৩ লাখ টাকা। মন্ত্রী জানান, হাইওয়ে পুলিশের আধুনিকায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ ছাড়া ৬৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে ভাসমান বেডে সবজি ও মসলা চাষ গবেষণা, সমপ্রসারণ ও জনপ্রিয়করণ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।

গতকাল রাজাপুর-নৈকাঠী-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কের ১২তম কিলোমিটারে বেকুটিয়ায় কচা নদীর উপর ৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২১ সালের মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। বৈঠকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ফেরির মাধ্যমে উক্ত এলাকায় যানবাহন চলাচল করছে। এই সড়কে দিন দিন যান চলাচল বাড়ছেই। ফলে বিদ্যমান ফেরির মাধ্যমে এত বেশি পরিমাণ যানবাহন পারাপার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই ফেরিঘাটে যানজট লেগে থাকে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল ও খুলনার মধ্যে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে রাজাপুর-নৈকাঠী-বেকুটিয়া-পিরোজপুর সড়কের (জেড-৮৭০২) ১২তম কিলোমিটারে  বেকুটিয়ায় কচা নদীর উপর চীন সরকারের অনুদানে ৯৯৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি নির্মাণ করা হবে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া বরিশাল জেলার সদর উপজেলায় কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন থেকে চরবাড়িয়া এলাকা রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বরিশাল জেলার সদর উপজেলাধীন চরবাড়িয়া এলাকাসহ ২৩০ কেভি বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইন, বরিশাল সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, বেলতলা ফেরিঘাট, বরফকল, শিপইয়ার্ড, হাট-বাজার ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা/সম্পদ ও কৃষি জমি কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন হতে রক্ষা করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় ৪৬৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জিঞ্জিরা-কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ-দোহার-শ্রীনগর মহাসড়ক উন্নয়ন (কদমতলী থেকে জনি টাওয়ার লিংকসহ) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একনেকের অবগতির জন্য ৭টি প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত বিবরণী উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ৪৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের জন্য ২টি আবাসিক ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বিশিষ্ট সবুজ উদ্যান স্থাপন প্রকল্পসহ আরো কয়েকটি প্রকল্পগু।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২১ নভেম্বর, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৫৮
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৩৬
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৭সূর্যাস্ত - ০৫:১০