জাতীয় | The Daily Ittefaq

নয়া অর্থনীতির রকমফের

নয়া অর্থনীতির রকমফের
ড. আতিউর রহমান৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ইং ১৯:৪০ মিঃ
নয়া অর্থনীতির রকমফের
 
ক’দিন আগে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলাম। ইউনিঅ্যাপ্রো আয়োজিত ঐ সম্মেলনে ‘নয়া অর্থনীতিতে আর্থিক খাত ও জনসম্পদ’ বিষয়ে মূল বক্তা হিসেবে যেসব কথাবার্তা বলেছিলাম সেগুলো ইত্তেফাক-এর পাঠকদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। পুরো আলোচনায় প্রযুক্তির প্রসার বিষয়ে অনেক কথাই এসে যাবে তা আগেই বলে রাখছি। আর্থিক খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুতই বাড়ছে। ফলে ঘরে বসেই গ্রাহকরা যেমন আর্থিক সেবা পাচ্ছেন, আবার এ খাতে ঝুঁকিও সমান তালে বাড়ছে। তবে সব মিলিয়ে গ্রাহকদের জন্য আর্থিক সেবার মান ও গতি দুইই বেড়েছে।
 
একটা সময় ছিল এমনকি উন্নত বিশ্বের ব্যাংকগুলোতেও প্রযুক্তির ব্যবহার খুব সামান্যই ছিল। মার্কিন ব্যাংকার ওয়াল্টার রিস্টন ছিলেন সিটি কর্পের চেয়ারম্যান। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের জন্য তখন একমাত্র ভরসা ছিল টেলিফোন। সেই টেলিফোনের আন্তর্জাতিক সার্কিটে ঢুকতেই কয়েকদিন লেগে যেত। তাই একদল তরুণকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল শুধু টেলিফোন ডায়াল করার জন্য। তাদের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ডায়ালার’। সেইদিন আর বর্তমানের তফাত্টা কতই না তীব্র! ইউরোপিয়ান ব্যাংকিং ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী উইম মিজ্স সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমার ফোনে কিছু না থাকলে সেটা আসলেই নেই। আমাদের জীবনের সবটাই একদিন ডিজিটাল হয়ে যাবে। আর সে পথেই আমাদের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও ঘটবে।’ তার মানে আমরা যে দ্রুত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে নয়া অর্থনীতি চালু করেছি তাতে প্রযুক্তিই মূল কথা। প্রচলিত অর্থনীতির সীমানাগুলো তথ্যপ্রযুক্তি দ্রুতই ভেঙে ফেলছে। অর্থনীতি ও ব্যবসা বিষয়ক সব ধারণা বদলে ফেলছে। ফিনটেক (তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান) ও সংশ্লিষ্ট নয়া নয়া ব্যবসায়িক উদ্যোগ বাজারকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তাকে দক্ষ করে তুলছে। উদাহরণ হিসেবে বলা চলে উন্নত দেশে এখন সপ্তাহে যতবার একজন গ্রাহক ব্যাংকে যান তার চেয়ে ঢের বেশি স্মার্ট ফোনে ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করেন।
 
প্রযুক্তিনির্ভর এই নয়া আর্থিক সেবা সমাজের একেবারে নিচের অংশের মানুষকেও বেশ ভালোভাবেই স্পর্শ করতে শুরু করেছে। উবার যেমন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিবহন সেবা গড়ে তুলেছে, আর্থিক ফিনটেক (যেমন মোবাইল আর্থিক সেবা) তেমনি ব্যাংক সেবা নিতে সক্ষম নন এমন অগুনতি মানুষের কাছে আর্থিক সেবা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে। অ্যাপভিত্তিক আর্থিক সেবা (যেমন উইন চ্যাট, পেটিএম, আই-পে, পে-পল) ক্যাশবিহীন লেনদেন ব্যবস্থাপনায় রীতিমত বিপ্লব করে ফেলেছে। এর উপজাত হিসেবে নানা উদ্ভাবনমূলক পণ্য ও সেবা মিলছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির ধরন পাল্টাচ্ছে, থ্রিজির জায়গায় ফোরজি মোবাইল সেবা আসছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাত্রা যে কত দ্রুত বাড়ানো যায় তার উদাহরণ অনেক। বাংলাদেশেই মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ নানামাত্রিক অ্যাপভিত্তিক সেবার প্রসার ঘটে চলেছে। চীনে এসবের প্রসার আরো দ্রুত গতিতে ঘটেছে। সর্বত্রই পরিবর্তনের এই ধারা খুবই সক্রিয় রয়েছে। আমাদের অর্থনীতিকে ডিজিটাল করার এক বিরাট পরিকল্পনা বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আমাদের সমাজ, প্রশাসন ও অর্থনীতির ডিজিটাল রূপান্তরে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রয়োজনীয় রেগুলেটরি সহায়তা দিয়ে আর্থিক সেবাকে সকলের কাছে পৌঁছে দেবার লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির নানামুখী ব্যবহারের দিকে নজর দিয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ জন্য প্রয়োজনীয় নীতি সমর্থন ও উত্সাহ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। বিদেশি মুদ্রার ব্যবহারেও সেজন্য নীতিমালার পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রেগুলেশনের আওতায় ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাজারকেও সাথী হিসেবে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে এজেন্ট ব্যবহার করে পার্টনারশিপ ভিত্তিতে আর্থিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংক ও তার সাবসিডিয়ারি। ডিজিটাল আর্থিক সেবাগ্রহীতাদের চাহিদা ভিন্নতর। তারা দ্রুত সেবা চান। গুণমানের সেবা চান। নির্ঝঞ্ঝাট সেবা চান। গতানুগতিক আর্থিক সেবা (আমানত, ঋণ, নগদ মুদ্রা ইত্যাদি) দিয়ে আজকের গ্রাহকদের সন্তুষ্ট রাখা মুশকিল। তাছাড়া, তাদের চাহিদাও সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ গ্রাহকদের ভোগের ধরন বদলে যাচ্ছে। তাই তাদের জন্য আর্থিক সেবাও বদলে নিতে হচ্ছে আর্থিক সেবা প্রদানকারীদের। এখন অ্যাপনির্ভর অনেক আর্থিক সেবা চালু হচ্ছে (যেমন আই পে)। এসবের মাধ্যমে সহজেই অর্থের লেনদেন, ই-কমার্স প্রসারিত হচ্ছে। পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক সেবার ঝুঁকিও বেড়েছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করতে পারলে আর্থিক সেবা প্রক্রিয়া গ্রাহকের আস্থা হারাতে পারে। এ দিকটায় বিশেষ নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর বেশি করে সাইবার আক্রমণ হচ্ছে। তাই তাদের প্রযুক্তিগত আপগ্রেডেশনের প্রয়োজন রয়েছে। আর এসব কারণেই এসএমই খাতে এখনও নগদ লেনদেন বেশি হচ্ছে। এমনকি ভারতে সম্প্রতি ডিমনিটাইজেশন হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুদে ও মাঝারি উদ্যোগগুলো নগদ লেনদেন সেইভাবে কমিয়ে আনতে পারেনি। তবে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে ডিজিটাল লেনদেনের দিকে উদ্যোক্তারা এগুচ্ছে। গ্রাহকরাও এসব গ্রহণ করছে। উল্লেখ্য, একমাত্র মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিকাশ’ ৪০ হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের লেনদেন সুবিধে দিয়ে থাকে। পয়লা বৈশাখ ও ঈদের সময় এই সেবার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একজন নারী উদ্যোক্তার পরিচালনায় ‘আমার দেশ আমার গ্রাম’ নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় অফিস খুলেছে এবং ডিজিটাল লেনদেন করে থাকে। তবে ডিজিটাল লেনদেন প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে মোবাইল আর্থিক সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো সেভাবে ‘ইন্টার অপারেবল’ নয়। ক্রেডিট কার্ড-এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক তার ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ-এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের মাঝে এই ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করেছে। তাই এক ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড সহজেই অন্য ব্যাংকেও ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে। ঐ সুইচের অব্যবহূত স্পেস মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেবার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী জুন মাস নাগাদ এটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানা গেছে। এটা করা গেলে নীচের দিকের মানুষের আর্থিক সেবা লাভে বড় ধরনের উন্নতি হবে। তখন এক মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারীর হিসাব থেকে অন্য সেবাদানকারীর হিসাবে অর্থ পাঠানো যাবে। এজেন্ট ব্যাংকিংও একটি ডিজিটাল আর্থিক সেবার নাম। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সলিউশন-এর সঙ্গে এটি যুক্ত। তাই একেবারে মাঠ পর্যায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এর মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সে কারণেই সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই আর্থিক সেবাকে ‘এজেন্ট অব চেইঞ্জ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ‘আই পে’ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজের ওয়ালেট থেকে নিজের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করছে এবং তা থেকে অন্যকেও ই-অর্থ দিতে পারছে। তবে ডিজিটাল লেনদেনকে আরো সক্রিয় করতে চাইলে আমাদের ই-আইডেন্টিফিকেশন ও আস্থা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সেবাকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সচেষ্ট থাকতে হবে। স্মার্ট কার্ড সবাইকে দেওয়া হয়ে গেলে এই সুযোগটি বাড়বে। ডিজিটাল তথ্যসমূহ ব্যবহারের জন্য উন্নত দক্ষতা অর্জন করা খুব জরুরি। তাছাড়া ই-অর্থ লেনদেনকে উন্নততর করতে হলে রেগুলেটরি উদ্যোগ নিতে হবে। রেগুলেটরদেরও খোলা মন নিয়ে এগুতে হবে। নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। অন্যদেশে ই-অর্থ লেনদেনে কী ধরনের নিয়মনীতি চালু হচ্ছে সে দিকে নজর রাখতে হবে। সে কারণে এ অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মাঝে যোগাযোগ আরো বাড়াতে হবে। ডাটা বিশ্লেষণ সক্ষমতাও রেগুলেটরকে বাড়াতে হবে। ডাটার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য সহজ, নিরাপদ, গ্রাহক স্বার্থ-সংরক্ষণধর্মী নিয়মনীতি চালু করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব নীতিমালা চালু করবে এবং সেসব ঠিকমত পরিপালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করবে। প্রয়োজনে পিপিপির মাধ্যমে ব্যক্তিখাতের প্রতিষ্ঠানকেও অংশীদার করে ব্যাংকগুলোকে উন্নত মানের সহজলভ্য ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানে উত্সাহী করে তুলতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জনস্বার্থে নিশ্চয় এ কাজটি করতে পারে। তবে রেগুলেটারকে পরিবর্তনশীল বিশ্বের উপযোগী নয়া ও নমনীয় নীতিমালা গ্রহণের মানসিকতা অর্জন করতে হবে। ‘কোথাও সামান্য ভুল হবে না’—এমন মানসিকতা কাম্য নয়। কাজ করলে সামান্য ভুল হতেই পারে। সেই ভুল শুধরে নেবার সুযোগ রেগুলেটরকে করে দিতে হবে। সে কারণে ‘কনসিসটেন্ট রেগুলেটরি রেজিম’ তৈরি করা খুব জরুরি।
 
বড়ই সন্তোষের বিষয় এই যে, বাংলাদেশের মূল রেগুলেটর কেন্দ্রীয় ব্যাংক উপরের এসব পরিবর্তনকে আত্মস্থ করে গ্রাহক-বান্ধব ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রদানের বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তারও হয়ত ভুলভ্রান্তি রয়েছে। তবে দ্রুতই তা শুধরে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আর্থিক খাতের এই অভিভাবক। আশাকরি আগামী দিনেও পরিবর্তনকে গ্রহণ করার এই মানসিকতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বজায় থাকবে। তবে সে জন্য নয়া নেতৃত্ব তৈরির কাজটিও করে যেতে হবে। মানব সম্পদ উন্নয়নের সময় তরুণদের মাঝে নেতৃত্ব গ্রহণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে হবে। আমার সীমিত অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি বাংলাদেশের তরুণরা প্রযুক্তি পছন্দ করে, দলবেঁধে কাজ করতে উত্সাহী এবং নিজের প্রতিষ্ঠানকে বড়ই আপন বলে মনে করে। তারুণ্যের এই অঙ্গীকারকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তরুণ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার এই উপলব্ধি হয়েছে। তাদের ভরসা দিলে, সাহস দিলে, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ করে দিলে তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলে আমার ধারণা। মিলেনিয়াল এই তরুণদের কাজে লাগিয়ে আমরা নিশ্চয় বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর, গ্রাহক-বান্ধব এবং জবাবদিহিমূলক করতে পারব। তাদের ভেতর যে সৃজনশীল শক্তি রয়েছে তাকে উসকে দিয়ে, তাদের আরো নৈতিকতার পরিবেশে গড়ে তুলতে পারলে নিশ্চয় তারা বাংলাদেশের আর্থিক খাতের খোলনলচে বদলে দেবার সক্ষমতা রাখে। সে কারণেই উচ্চতর নেতৃত্বকে আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রশ্নে আপসহীন থাকতে হবে। নৈতিকতার প্রশ্নে সুদৃঢ় না থাকতে পারলে তরুণদের সহযোগিতা পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য হবে। একইসঙ্গে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ তাদের দেবার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে আমাদের তরুণ রেগুলেটরদের সুশিক্ষিত করতে পাঠালে আখেরে কাঙ্ক্ষিত বিশ্বমানের জনশক্তি আমরা নিশ্চয় তৈরি করতে পারব। প্রক্রিয়াটি আমরা এরই মধ্যে  শুরু করেছি। এটি যেন নিরন্তর চালু থাকে সেই কামনাই করছি। আমাদের কাঙ্ক্ষিত জনশক্তি শুধু বিদ্যায় বুদ্ধিতে বড় হলেই চলবে না, তাদের মানবিকও হতে হবে। তাদের নৈতিক মনোবলও সুদৃঢ় করার জন্য সমাজ ও স্বদেশের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ রাখার উদ্যোগ নিতে হবে। সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিতজনদের আর্থিক সেবা সহজেই দেবার মনোভাব যেন তাদের মধ্যে তৈরি হয় এবং তা যেন চিরদিন বজায় থাকে সে দিকে নেতৃত্বকে খেয়াল রাখতে হবে। এটি শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংক একা করে উঠতে পারবে না। ব্যাংকিংখাত, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে উপযুক্ত অংশীদারিত্ব গড়ে উঠলেই কেবল তা সম্ভব। মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন প্রযুক্তিবান্ধব এই জনসম্পদ বিকাশে আমাদের সকলকেই অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকতে হবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস সকলে মিলে নয়া অর্থনীতির এই কারিগরদের নিশ্চয়ই আমরা গড়ে তুলতে পারব। তারাই গড়বে আমাদের আরাধ্য সম্ভাবনাময় ডিজিটাল বাংলাদেশ।
 
লেখক: বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
ই-মেইল: [email protected]
এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩