জাতীয় | The Daily Ittefaq

সশস্ত্র বাহিনীকে আরো প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে :প্রধানমন্ত্রী

সশস্ত্র বাহিনীকে আরো প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে :প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং ২৩:৪৩ মিঃ
সশস্ত্র বাহিনীকে আরো প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকার সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। আগামীতে সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে আরো আধুনিক ও প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে সশস্ত্র বাহিনীকে। গতকাল সোমবার মিরপুর সেনানিবাসের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) শেখ হাসিনা কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের (এএফডব্লিউওসি) গ্র্যাজুয়েশন উত্সবে বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্মকর্তাদের অনেকেই জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ‘জ্ঞানেই নিরাপত্তা’ কলেজের এই মূলমন্ত্রে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে টেকসই উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বশেষ প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জামাদির সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং সর্বোত্তম প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ স্থাপনা তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি জেনে খুবই আনন্দিত যে, আপনারা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ, পড়ালেখা ও গবেষণা করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে সামাজিক-গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জাতীয় নিরাপত্তা। আপনারা দেশ পরিচালনার বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যত্ কর্মপন্থা সম্পর্কেও জ্ঞান লাভ করেছেন। এসবের বুদ্ধিবৃত্তিক প্রয়োগ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রগতির ধারাবাহিকতা আরও বেগবান করতে সহায়ক হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালের আগে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ ও মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের উচ্চমানের প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের নিজস্ব কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। আপনাদের উচ্চশিক্ষার কথা বিবেচনা করে আমরা ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদকালে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ বা এনডিসি প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। যা বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নানাবিধ সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বিপন্ন মানবতার ডাকে সাহায্যের হাত বাড়াতে আমরা কার্পণ্য করিনি। প্রতিবেশী মিয়ানমার হতে বিতাড়িত ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে আমরা আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। মানবিকতার মানদণ্ডে বাংলাদেশ আজ একটি মর্যাদাপূর্ণ ও সংবেদনশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ারদী স্বাগত বক্তৃতায়  সফলতার সাথে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য কোর্সে অংশগ্রহণকারী সকল দেশি ও বিদেশি কোর্স মেম্বার ও কোর্সের সাথে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সকল ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও স্টাফ অফিসারগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বক্তব্যের শুরুতেই কমান্ড্যান্ট এনডিসি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

পরে কর্মকর্তাদের সাথে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বছর ৫৩ জন কর্মকর্তা ডিফেন্স কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যগণ, সংসদ সদস্যগণ, মন্ত্রী পরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধানগণ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অধ্যাপকবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিবৃন্দ, মিলিটারী/ডিফেন্স এ্যাটাচেগণ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ জানুয়ারী, ২০১৮ ইং
ফজর৫:২৩
যোহর১২:১০
আসর৪:০২
মাগরিব৫:৪১
এশা৬:৫৭
সূর্যোদয় - ৬:৪২সূর্যাস্ত - ০৫:৩৬